kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

নগরে প্রথম দিনে ১৪ মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নগরে প্রথম দিনে ১৪ মামলা

নতুন সড়ক পরিবহন আইনে মামলা দেওয়া শুরু করেছে চট্টগ্রাম মহানগর ট্রাফিক পুলিশ। গতকাল বুধবার থেকে সীমিত আকারে এই আইন কার্যকর করা হয়। প্রথম দিনে নগর ট্রাফিকের উত্তর বিভাগ টাইগারপাস এলাকায় চারটি এবং বন্দর বিভাগ ১০টি মামলা দিয়েছে।

নতুন আইন কার্যকরের প্রথম দিনে ট্রাফিক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দুপুরে অবস্থান নেন নগরের টাইগারপাস এলাকায়। ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মোস্তাক এস এম মোস্তক আহমেদ খান, উপ-কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) আমির জাফরসহ পদস্থ কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ওই সময় মোটরসাইকেল চালক আবদুর রহিম টাইগারপাস পার হচ্ছিলেন। এরই মধ্যে তিনি পড়েন ট্রাফিক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সামনে। সেখানে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো. জসিম উদ্দিন চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তল্লাশি করেন। আবদুর রহিম ফেনী জেলার দাগনভূঁইয়া উপজেলার কামার পুকুরিয়া গ্রামের মৃত আবদুল জব্বারের ছেলে। চালকের লাইসেন্সসহ যাবতীয় কাগজপত্র সঠিক পাওয়া গেলেও মোটরসাইকেলের দ্বিতীয় আসনে বসা যাত্রীর মাথায় হেলমেট ছিল না। এ কারণে প্রথম মামলাটি রেকর্ড করা হয় বেলা ১টা ২২ মিনিটে। এই হিসেবে চট্টগ্রামে নতুন আইনে মামলা দায়েরের রেকর্ড স্থাপন করলেন ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো. জসিম উদ্দিন।

জানতে চাইলে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর জসিম উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘হেলমেট না থাকার কারণে আইন অনুযায়ী প্রথমবারের মতো এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই অপরাধ দ্বিতীয়বার করা হলে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। তবে নতুন আইনে হেলমেট না পরলে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নির্দেশনা দিয়েছেন, শুরুতে সর্বোচ্চ জরিমানা না করে নমনীয়তা প্রদর্শনের জন্য। এই কারণে ন্যূনতম এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। প্রথম মামলার পর নতুন এক ইতিহাসের অংশ হতে পেরে নিজকে গর্বিত মনে করছেন তিনি। কালের কণ্ঠের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নতুন আইন কার্যকরের প্রথম ধাপে আমি অংশ হতে পেরে ভালো লাগছে। ধীরে ধীরে এই আইন প্রয়োগের মাধ্যমে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরে আসবে-এমন প্রত্যাশা করি।’

মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘দুপুরে আমরা ধারাবাহিকভাবে গাড়ির কাগজপত্র তল্লাশি করি। কিন্তু দুটি মোটরসাইকেলকে দ্বিতীয় যাত্রীর মাথায় হেলমেট না থাকায় মামলা দেওয়া হয়। আর দুটি মিটি বাসের চালককে লাইসেন্স না থাকার কারণে মামলা দেওয়া হয়েছে। চালকের লাইসেন্স না থাকলেও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানার বিধান আছে। তবে প্রথমধাপে মাত্র দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই চারজনকে সাতদিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তাঁরা ট্রাফিক বিভাগে গিয়ে জরিমানা জমা দিতে পারবেন।’

টাইগারপাস এলাকায় যখন নতুন আইন কার্যকরে অভিযান চলছিল ঠিক সেই সময় ট্রাফিক বিভাগের বন্দর বিভাগ অভিযান চালায় আগ্রাবাদ এলাকায়। সেখানে অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপ-কমিশনার (ট্রাফিক-বন্দর) মো. তারেক আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আগ্রাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০টি গাড়িকে নতুন আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথমেই একটি মোটরসাইকেলকে মামলা দেওয়া হয়।’ নতুন আইনে মামলা রেকর্ডের পর মোটরসাইকেল চালক মোহাম্মদ আরিফ নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেছেন, ‘সবার আইন মেনে চলা উচিত।’

ট্রাফিকের এই উপ-কমিশনার বলেন, ‘নতুন আইনকে গাড়িচালক স্বাগত জানানো এই চালকের মতো আমাদের সবার উচিত ট্রাফিক আইন মেনে চলা। তাহলেই সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা