kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১২ রবিউস সানি     

অপরিকল্পিত নগরায়নের কুফল ভোগ করছে চট্টগ্রামবাসী

চসিকের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে মেয়রের সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অপরিকল্পিত নগরায়নের কুফল ভোগ করছে চট্টগ্রামবাসী

অপরিকল্পিত নগরায়নের কুফল চট্টগ্রামবাসী ভোগ করছে বলে মন্তব্য করেছেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। তিনি বলেন, ‘নানাবিধ সীমাবদ্ধতার মাঝেও আমরা নগরবাসীর জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে নতুন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছি। এসব উন্নয়নকাজের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে সত্যিকারের গ্রিন, ক্লিন সিটি হিসেবে গড়ে তোলা হবে।’

মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক)

কে বি আবদুস সাত্তার মিলনায়তনে চসিকের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে নাগরিক দুর্ভোগ নিরসনে বিভিন্ন প্রকল্পের চিত্র তুলে ধরেন। এ সময় মেয়র নগরের সড়কের উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন খাল খনন কাজের অগ্রগতি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নগর পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়নের উদ্যোগ গ্রহণসহ বিভিন্ন প্রকল্পের বিস্তারিত জানান। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম শহর অনেক আগের, সম্পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠেছে এ নগর। অপরিকল্পিত নগরায়নের কুফল ভোগ করছি আমরা সবাই।’

মেয়র জানান, নগরের ১ হাজার ৩৭৫টি খোলা ডাস্টবিন থেকে ৫৭৫টিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। অপসারণ করা হয়েছে ৮২৫টি। জনদুর্ভোগ লাঘবে দিনের বেলার পরিবর্তে রাতে বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে। গৃহস্থালি বর্জ্য নিদিষ্ট স্থানে রাখার জন্য নগরবাসীর মাঝে ৯ লাখ বিন বিতরণ করা হয়েছে। সত্যিকারের ক্লিন সিটি করতে ১৯৭২ জন পরিচ্ছন্ন শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নগরে জনসংখ্যা বেড়েছে, বর্জ্যের পরিমাণও বেড়েছে।

একটি সুন্দর নগর গড়ার জন্য জনগণকে সচেতন করতে গণমাধ্যম বলিষ্ঠ ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে মন্তব্য করে মেয়র নগর ও নগরবাসীর জন্য কল্যাণকর এবং বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়গুলোও তুলে ধরার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

আ জ ম নাছির বলেন, ‘নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে ১২৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭ ফুট প্রস্থ, ২ দশমিক ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত নতুন খাল খননের কাজ চলছে। ভূমি মালিকদের তিনগুণ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে।’

নগরে গণপরিবহন সংকট কাটাতে এস আলম গ্রুপের মাধ্যমে তিন রঙের ১০০টি এসি বাস চালু করা হচ্ছে জানিয়ে জানুয়ারিতে ওই তিন রুটে এসব বাস চালুর আশা প্রকাশ করেন মেয়র। তিনি জানান, স্টপেজের জায়গা চিহ্নিত করা হচ্ছে।

মেয়র বলেন, ‘যানজটের মতো নাজুক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বিমানবন্দর সড়ক চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্প নিয়েছি। এখানে বন্দরের জমি লিজ নিয়ে অনেক জ্বালানি স্থাপনা ও তৈলাধার গড়ে তোলা হয়েছে। যা সরানো কঠিন কাজ। সিমেন্ট ক্রসিং পর্যন্ত দুই পাশে ড্রেন তৈরি করা হচ্ছে। জাইকার অর্থায়ন ও ডিজাইনে হচ্ছে পোর্ট কানেকটিং ও এক্সেস রোডের কাজ। নিমতলা থেকে অলংকার পর্যন্ত ৬ দশমিক ২ কি.মি. পোর্ট কানেকটিং সড়ক। এক্সেস রোডের কাজে এলইডি লাইটিং অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আরাকান সড়কের কাজ ১২টি লটে চলমান আছে। কম সময়ে ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।’

‘শুষ্ক মৌসুম কাজ করার উপযুক্ত সময়। এ সময়টা কাজে লাগাতে আমরা সচেষ্ট। জাইকা নিজস্ব স্টাইলে কাজ করে। যতক্ষণ কাজ চলে জাইকার লোক থাকে। পোর্ট কানেকটিং সড়কের কাজ শেষ করতে আরও সময় লাগবে। কাজগুলো নিবিড়ভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে।’-যোগ করেন মেয়র।

নগরের সার্কিট হাউস এলাকার শিশুপার্ক প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ‘সেনাবাহিনী জায়গাটি শিশুপার্ক করার জন্য চসিককে দিয়েছিল। শিশুপার্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চসিকের চুক্তিটা নবায়নযোগ্য। তাদের আধুনিক রাইডের শর্ত দিয়েছি। ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে তারা আধুনিক রাইড সংগ্রহ করছে। আগ্রাবাদ শিশুপার্ক নিয়ে মামলা চলছে।’

সংবাদ সম্মেলনে কাউন্সিলর আবিদা আজাদ, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামশুদ্দোহা, প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল সোহেল আহমেদ, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ এ কে এম রেজাউল করিম, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা  সুমন বড়ুয়া ও মেয়রের একান্ত সচিব আবুুল হাশেম উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা