kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

বাঁশখালী উপকূলে স্থায়ী বেড়িবাঁধ

বাস্তুহারা বাসিন্দারা ফিরছে বাপ-দাদার ভিটায়

উজ্জ্বল বিশ্বাস, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম)   

৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাস্তুহারা বাসিন্দারা ফিরছে বাপ-দাদার ভিটায়

নতুন করে গড়ে তোলা বসতঘর। ছবি : কালের কণ্ঠ

বাঁশখালী উপকূলে স্থায়ী বেড়িবাঁধ পেয়ে বাস্তুহারা বাসিন্দারা ফিরছে বাপ-দাদার ভিটায়। ২০১৫ সালের আগে বাঁশখালী উপকূলের ৩৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের অধিকাংশ ছিল খণ্ড-বিখণ্ড। কোথাও স্থায়ী বেড়িবাঁধ ছিল না। ফলে ঘূর্ণিঝড়, সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস, ঝড়-বৃষ্টিতে উপকূলে প্রতিবছর গ্রামের পর গ্রাম বিলীন হতে বসেছিল। স্বজন হারানোর বেদনা, ঘর-বাড়ি, বসতভিটা হারানোর আর্তনাদ আর মহাবিপদ সংকেতের আতঙ্কে অনেকে বাপ-দাদার ভিটা ছেড়ে ১৫/২০ কিলোমিটার দূরে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ঘর নির্মাণ করে বসবাস করেছিলেন। অনেকে অন্যত্র জায়গা জমি কিনে আশ্রয় নিয়েছিলেন। কয়েক হাজার একর পৈতৃক সম্পত্তি হারিয়ে অসংখ্য জমিদার শ্রেণির মানুষও ফতুর হয়ে গিয়েছিল। ২০১৫ সালের পর থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বাঁশখালী উপকূলে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ার পর উপকূলবাসীর মনে স্বস্তি ফিরে আসে। কিন্তু বাপ-দাদার ভিটায় নতুন বাড়িঘর নির্মাণ করবেন তা স্বপ্নেও ভাবেননি অনেকে।

সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘বাঁশখালীর স্থায়ী বেড়িবাঁধ, বাঁশখালীবাসীর জন্য রক্ষাকবচ।’

খানখানাবাদ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. বদরুদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘বেড়িবাঁধের কারণে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু ও বুলবুল থেকে রক্ষা পেয়েছে উপকূলবাসী।’

পাউবোর বাঁশখালীর দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী অপু দেব বলেন, ‘বেড়িবাঁধের কাজ শেষ হলে বাঁশখালী উপকূলের চিত্র পাল্টে  যাবে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে শুরু হওয়া বাঁশখালী উপকূলে ২৯১ কোটি টাকার প্রকল্প প্রায় শেষের পথে। গ্রামবাসীর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের গাফিলতির কারণে প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ হচ্ছে না। কেউ কেউ ঠিকাদারদের অনিয়ম, দুর্নীতির কথাও বলছেন।

বাঁশখালী উপকূল ঘুরে দেখা গেছে, নবনির্মিত স্থায়ী বেড়িবাঁধের পাশেই ১০ সহস্রাধিক নতুন বাড়ি-ঘর, মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দোকানপাটসহ নানা বৈচিত্র্যের স্থাপনা গড়ে উঠেছে। ঝুঁকিপূর্ণ ১৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঝুঁকিমুক্ত হয়েছে। বিশাল বিশাল জায়গায় মাছ চাষ, শাক-সবজি ফলন, রবি শস্য ফলন, ধান উৎপাদন হচ্ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। গ্রামে গ্রামে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপন করে বিদ্যুৎ সঞ্চালন চালু করেছেন। অনেকে সোলার স্থাপন করে বৈদ্যুতিক কার্যক্রম চালাচ্ছেন। বাঁশখালীর এক সময়ের সবচেয়ে বড় বাজার প্রেমাশিয়া বাজার ও ঈশ্বর বাবুর হাটের অস্তিত্ব হারিয়ে গেলেও নতুন করে ওই বাজারের নামে দোকানপাট হতে শুরু করেছে।

দক্ষিণ প্রেমাশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘দক্ষিণ প্রেমাশিয়া ও উত্তর প্রেমাশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দুিট ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। প্রতিবর্ষায় লোনা পানি ঢোকে মাঠ-ঘাট ডুবে অনেকের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। স্থায়ী বেড়িবাঁধ হওয়ায় স্কুলগুলোতে ছাত্রছাত্রীদের আতঙ্ক কেটে গেছে।’

প্রেমাশিয়া গ্রামের হোসনে আরা বেগম (৬০), বদরুল হক (৪৫) ও মো. ওসমান বলেন, ২০১৫ সালের আগে বেড়িবাঁধ ভেঙে আমাদের গ্রামের অস্তিত্ব ছিল না। ঘর-বাড়ি সাগরে বিলীন হওয়ায় আমরা অন্যত্র চলে গিয়েছিলাম। এখন নতুন করে ঘর-বাড়ি নির্মাণ করে বাপ-দাদার ভিটায় ফিরেছি।

স্থানীয় ছৈয়দুল হক (৫৫) বলেন, ‘অলি বিবি জামে মসজিদটি ১০০ বছরের পুরাতন মসজিদ। এটি মাত্র ৭ বছর আগে সাগরে তলিয়ে গেছে। আমরা ঐতিহ্য ধরে রাখতে নতুন করে অলি বিবি জামে মসজিদ নির্মাণ করেছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা