kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

চকরিয়ায় পুলিশের ওপর হামলা

দুই আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার তিন ঘণ্টার মধ্যে ফের গ্রেপ্তার অপহূত ব্যক্তি উদ্ধার

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি   

৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চকরিয়ায় পুলিশের ওপর হামলা হয়েছে। এ সময় উদ্ধার হওয়া অপহৃত ব্যক্তি এবং দুই আসামিকে হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। পরে অবশ্য পুলিশ অভিযান চালিয়ে অপহৃতকে ফের উদ্ধার এবং দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে। পরে গ্রেপ্তার করা হয় তিন নারীসহ ১০ জনকে। এর মধ্যে জড়িত না থাকায় তিন নারীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। রবিবার বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এ ঘটনা ঘটে ডুলাহাজারা ইউনিয়নের পাহাড়ি গ্রাম কাটাখালীতে।

পুলিশ জানায়, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পশ্চিম কলাউজানের মো. সোহেল নামে (৩৫) এক ঠিকাদারকে অপহরণ করে চকরিয়ার ডুলাহাজারার কাটাখালীতে নিজেদের ডেরায় নিয়ে আসে অপহরণকারীরা। এ সময় সোহেলের কাছ থেকে নগদ ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা কেড়ে নেওয়া হয়। পরে আরো মোটা অংকের টাকা মুক্তিপণ হিসেবে দাবি করা হলে অপহৃত সোহেলের ভাই মোরশেদুল আলম বিষয়টি রবিবার চকরিয়া থানার ওসিকে জানান। এ ঘটনায় অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এর পর পুলিশ অপহৃতকে উদ্ধার অভিযান চালায় ডুলাহাজারার কাটাখালীতে। এ সময় পুলিশ অপহরণ মামলার আসামি বাহাদুরের বাড়ির সামনে থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করে।

পরে জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা জানান, অপহৃত সোহেলকে অপর আসামি বাহাদুরের বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছে। এই অবস্থায় বাহাদুরের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সোহেলকে উদ্ধার করে থানায় ফেরার পথে চারদিক থেকে শতাধিক নারী-পুরুষ অভিযানে অংশ নেওয়া এসআই ইসমাইল হোসেন, দুই কনস্টেবল কাঞ্চন দাশ ও নূর মোহাম্মদকে পিটিয়ে আহত করে। এক পর্যায়ে পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে হাতকড়াসহ ধৃত দুই আসামি এবং অপহৃতকে ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যেতে থাকে। এই অবস্থায় থানার ওসির মো. হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ওই এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে। এতে যোগ দেয় উপজেলা কমিউনিটি পুলিশের নেতা হাসানুল ইসলাম আদর, ডুলাহাজারা ইউনিয়ন কমিউনিটি পুলিশের সদস্য এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ স্থানীয় জনসাধারণ। তাঁরা কয়েকভাগে বিভক্ত হয়ে পাহাড়ি এলাকা কাটাখালীর চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের পর অপহৃত সোহেল এবং অপহরণকারীচক্রের মূল হোতাসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় ক্ষুব্ধ জনগণ কয়েকজন অপরাধীর বাড়িঘরও গুঁড়িয়ে দেয়।

পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার হন ডুলাহাজারার কাটাখালী গ্রামের জিয়াবুল করিমের ছেলে তানজিত আলম সোহেল, আবুল কাশেমের ছেলে আরাফাত, মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি এলাকার শাহাব উদ্দিনের ছেলে মো. খোকন, চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার পূর্ব কলাউজানের কবির আহমদের ছেলে মো. জাহাঙ্গীর আলম, সাতকানিয়া উপজেলার চরতি ইউনিয়নের তালগাঁও গ্রামের নছরুল কবিরের ছেলে মো. মাঈন উদ্দিন, আবু তাহেরের ছেলে মোস্তফা আল মাসুম, কুড়িগ্রাম জেলার ভলিপুর থানার সাদুল্যাপুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে সজিব মিয়া।

থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান জানান, ওই ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আসামি করা হয় ৮০ জনকে। ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৭ জনকে।

দুর্ধর্ষ ডাকাত বাহাদুর অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার : পুলিশ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত দুর্ধর্ষ ডাকাত মো. বাহাদুরকে গ্রেপ্তারের পর ব্যাপক জিজ্ঞাবাদ শেষে তাঁর দেখিয়ে দেওয়া স্থান থেকে দেশে তৈরি একটি আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করেছে। বরইতলী-পেকুয়া-মগনামা সড়কের হারবাং ছড়া ব্রিজের কাছে মাটি খুঁড়ে পলিথিন মোড়ানো অবস্থায় ওই আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয় সোমবার ভোররাতে। এ ঘটনায় এসআই প্রিয়লাল ঘোষ বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে আরো একটি মামলা করেন। বাহাদুর উপজেলার চিরিঙ্গা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চরণদ্বীপ গ্রামের আবদুস সালাম মাঝির ছেলে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা