kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

পার্বত্য শান্তিচুক্তির ২২ বছর পূর্তিতে বর্ণিল আয়োজন

‘পাহাড়ে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে’

দ্বিতীয় রাজধানী ডেস্ক   

৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



‘পাহাড়ে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে’

শান্তিচুক্তির বর্ষপূর্তিতে গতকাল খাগড়াছড়ি শহরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। এতে বিপুলসংখ্যক পাহাড়ি-বাঙালি অংশ নেয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে সোমবার বর্ণিল আয়োজনে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির ২২ বছর পূর্তি উদযাপিত হয়েছে। আলোচনায় বক্তারা বলেন, শান্তিচুক্তির পর থেকে তিন পার্বত্য জেলায় অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। উন্নয়নকাজ এখনো চলছে। বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে :

খাগড়াছড়ি : সকালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে টাউনহলের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এতে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, সাঁওতাল ও বাঙালিসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের হাজারো মানুষ বিভিন্ন বর্ণিল পোশাকে অংশ নেন। এখানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সর্বস্তরের মানুষ।

এর আগে পার্বত্য জেলা পরিষদ ও সেনাবাহিনীর খাগড়াছড়ি রিজিয়নের উদ্যোগে পার্বত্য জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে শান্তির পায়রা উড়িয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন শরণার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য বাসন্তি চাকমা, সেনাবাহিনীর খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. ফয়জুর রহমান, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, ডিজিএফআই ডেট কমান্ডার কর্নেল নাজিম উদ্দিন, জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু চৌধুরী প্রমুখ।

পরে আলোচনাসভায় বক্তারা বলেন, কোনো তৃতীয়পক্ষের সমঝোতা ব্যতীত ঐতিহাসিক পার্বত্য শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনন্য অবদান। চুক্তির পর থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় অভূতপূর্ব উন্নয়ন ও অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।

এ উপলক্ষে সোমবার বিকেলে খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়। কনসার্টের ফাঁকে ফাঁকে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি সম্পাদনে চুক্তির আগে ও পরে শান্তি প্রক্রিয়ায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে কয়েকজনকে বিশেষ সন্মাননা দেওয়া হয়। এ ছাড়া সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্বালন, আতশবাজি ও ফানুস ওড়ানো হয়েছে।

পানছড়ি : উপজেলা পরিষদ মাঠ থেকে ৩ বিজিবির ব্যবস্থাপনায় আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়। পরে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয় বঙ্গবন্ধু স্কয়ারে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ৩বিজিবি লোগাং জোন অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম মন্জুর সিদ্দিকী। আরো বক্তব্য দেন উপজেলা প্যানেল চেয়ারম্যান চন্দ্র দেব চাকমা, পানছড়ি সাব জোন অধিনায়ক মেজর মো. সোহেল আলম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তৌহিদুল ইসলাম, অফিসার ইনচার্জ মো. নুরুল আলম, উপজেলা আওয়ামী সভাপতি মো. আব্দুল মোমিন, সম্পাদক বিজয় কুমার দেব, প্রেস ক্লাব সভাপতি জয়নাথ দেব প্রমুখ। বিকেলে প্রীতি ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

মাটিরাঙা : উপজেলা প্রশাসন ও মাটিরাঙা সেনাজোনের আয়োজনে মাটিরাঙা সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে শোভাযাত্রা বের হয়। এটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মাটিরাঙা মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচি উদ্বোধন করেন মাটিরাঙা জোন অধিনায়ক লে. কর্নেল নওরোজ নিকোশিয়ার। পরে আলোচনাসভায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম, মাটিরাঙা পৌরসভার মেয়র মো. শামছুল হক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম হুমায়ুন মোরশেদ খান, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. খোরশেদ আলম বক্তব্য দেন।

এর আগে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির ২২ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন মাটিরাঙা জোন অধিনায়ক।

দীঘিনালা : সোমবার শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী সম্প্রীতি মেলা। রয়েছে ফানুস ওড়ানো, ফুটবল প্রতিযোগিতা, বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সম্প্রীতি কনসার্ট। উপজেলা প্রশাসনের শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন দীঘিনালা জোন অধিনায়ক লে. কর্নেল আদনান কবির। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাজি মোহাম্মদ কাশেম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ উল্লাহ, থানার অফিসার ইনচার্জ উত্তম চন্দ্র দেব প্রমুখ।

আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) পৃথক শোভাযাত্রা ও আলোচনাসভা করেছে বাসটার্মিনাল এলাকায়। শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক মিটন চাকমা। পরে মিটন চাকমার সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার সভাপতি ধন দে। বক্তব্য দেন বোয়ালখালী (সদর) ইউপি চেয়ারম্যান চয়ন বিকাশ চাকমা, শান্তিলোচন দেওয়ান, বরুণ বিকাশ কার্বারি প্রমুখ।

পুকুরঘাট এলাকায় পার্বত্য শান্তিচুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবিতে শোভাযাত্রা শেষে সমাবেশ করেছে ইউপিডিএফ (প্রসীত)। এতে বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ধর্ম্মবীর চাকমা।

গুইমারায় পায়রা উড়িয়ে কর্মসূচি উদ্বোধন করেন অতিথিরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

গুইমারা : সকালে সেনাবাহিনীর ২৪ আর্টিলারি ব্রিগেড, গুইমারা রিজিয়নের উদ্যোগে স্কুলমাঠ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। পরে আর্মি স্টেডিয়ামে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শাহরিয়ার জামান। আলোচনাসভায় বক্তব্য দেন বিজিবির গুইমারা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. আবুদল হাই, সিন্দুকছড়ি জোন অধিনায়ক লে. কর্নেল রুবায়েত মাহমুদ হাসিব, উপজেলা নির্বাহী অফিসার তুষার আহামেদ, গুইমারা সদর ইউপি চেয়ারম্যান মেমং মারমা, হাফছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান চাইথোয়াই চৌধুরী প্রমুখ।

লংগদু (রাঙামাটি) : সকালে লংগদু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে শোভাযাত্রা বের করা হয়। লংগদু জোনের অধিনায়ক লে. কর্নেল মিরাজ হায়দার চৌধুরীর নেতৃত্বে শোভাযাত্রাটি প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনাসভায় মিলিত হয়। এতে বক্তব্য দেন উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল বারেক সরকার, ইউএনও প্রবীর কুমার রায়, ইউপি চেয়ারম্যান মঙ্গল কান্তি চাকমা, সাংবাদিক এখলাস মিঞা খান প্রমুখ।

সেনা কর্মকর্তা লে. খালেদের সঞ্চালনায় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ওসি সৈয়দ মোহাম্মদ নূর, ইউপি চেয়ারম্যান সন্তোষ কুমার চাকমা, সেনা কর্মকর্তা মেজর তানভীর, ৩৬ আনসারের সহকারী পরিচালক মজিবুল হক প্রমুখ।

এ ছাড়া ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প ও দুই দিনব্যাপী গ্রামীণ লোকজ মেলার আয়োজন করা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা