kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

শঙ্খ নদে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

হুমকিতে হাজারো বসতভিটা, বাঁধ

প্রতিবাদে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে গণপদযাত্রা

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

২৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



চট্টগ্রামের চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত খরস্রোতা শঙ্খ নদ থেকে অবৈধভাবে দেদার বালু উত্তোলনে ঝুঁকির মুখে পড়েছে প্রতিরক্ষা বাঁধ। হুমকির মুখে রয়েছে হাজার হাজার বসতবাড়ি। এ অবস্থায় সরকারি প্রকল্পের নাম ভাঙিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বিওসির মোড় এলাকায় মানববন্ধন হয়েছে। জুমার নামাজ শেষে শঙ্খ নদ-তীরবর্তী চন্দনাইশ-সাতকানিয়ার ভুক্তভোগী শত শত মানুষ বিভিন্ন ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। মানববন্ধন শেষে শঙ্খ ব্রিজ অভিমুখে গণপদযাত্রা বের হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী বিগত চার দশক ধরে শঙ্খ নদের ক্রমাগত ভাঙনে শত শত মানুষ ভিটে-মাটি, জমি-জিরাত হারিয়ে ভূমিহীন ও উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়েছে। কালিয়াইশ ইউনিয়নের পূর্ব কাটগড় গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে সাতকানিয়ার মানচিত্র থেকেই হারিয়ে গেছে। নদীভাঙনে নিশ্চিহ্ন হয়েছে মাইঙ্গ্যাপড়া, উত্তর কালিয়াইশ, দোহাজারী, চাগাচর, বারুদখানা এলাকার শত শত বসতবাড়ি। হাজার হাজার পরিবার গৃহহীন হয়ে অন্যত্র বসবাস করছে।

বক্তারা আরো বলেন, এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান সরকার ২০৪ কোটি টাকা ব্যয়ে শঙ্খ নদের দুই পারে প্রতিরক্ষা বাঁধ (সিসি ব্লক) স্থাপন করে। এতে দুই উপজেলার অন্তত দশটি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। কিন্তু সম্প্রতি কিছু বালুদস্যুর উৎপাতে গ্রামের মানুষের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। তারা অত্যাধুনিক ড্রেজার মেশিন বসিয়ে প্রশাসনের সামনেই দেদার বালু তুলছে। বালু উত্তোলনের ফলে গত বর্ষা মৌসুমের আগে উত্তর কালিয়াইশ অংশে প্রতিরক্ষা বাঁধের প্রায় ৫০০ মিটারের মতো ধসে পড়ে। এলাকার লোকজন চাঁদা তুলে তা মেরামত করলেও বিপদ কাটেনি। এ অবস্থায় অত্যাধুনিক ড্রেজার মেশিন বসিয়ে রেল ও সড়ক সেতু নির্মাণকারী দুই প্রতিষ্ঠানের হয়ে কিছু স্থানীয় বালুদস্যু সরকারি দলের নাম ভাঙিয়ে বালু উত্তোলনের মচ্ছবে নেমে পড়ে।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন কালিয়াইশ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি নুরুল আমিন, মুক্তিযোদ্ধা নায়েক আবু তাহের, নবকল্লোল যুবসংঘের সভাপতি প্রকৌশলী শওকত আলী, সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান, সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বেগ, আরকান সড়ক শ্রমিক ফেডারেশনের সহসভাপতি আরব আলী বাচা, সমাজসেবক রমজান আলী, সায়ের আহমদ সাঈদ, আবুল বশর, ডা. হাবিবুর রশিদ কানন প্রমুখ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা