kalerkantho

শনিবার । ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৬ রবিউস সানি               

মহেশখালীতে আজ আত্মসমর্পণ করছে শতাধিক জলদস্যু

১৫ বছর আগে সাগরে ১৪ জেলে হত্যার বিচার নিষ্পত্তি হয়নি

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার   

২৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



দীর্ঘ ১৫ বছরেও কক্সবাজারের সোনাদিয়া দ্বীপসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ১৪ জেলে হত্যার বিচার সম্পন্ন হয়নি। জলদস্যুরা সেদিন মাছ ধরার নৌকায় হামলা চালিয়ে এসব নিরীহ জেলেকে হত্যা করেছিল। সাগরে এখনো একের পর এক দস্যুতার ঘটনা ঘটে চলেছে। এরই মধ্যে আজ শনিবার মহেশখালীতে আত্মসমর্পণ করছে শতাধিক জলদস্যু।

মহেশখালী দ্বীপের কালারমারছড়া ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার ঘোষণা দেবে আজ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. জাবেদ পাটোয়ারী।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন জানান, গত বছরের অক্টোবরে মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার ৪৩ জন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করে। এবারও শ-খানেক দস্যু আত্মসমর্পণ করছে। তাদের মধ্যে মহেশখালী দ্বীপের বেশ কজন অস্ত্র কারিগরও রয়েছে। আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের প্রত্যেককে পুনর্বাসন করা হবে।

এদিকে সাগরে জেলে হত্যা প্রসঙ্গে মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক বলেন, ২০০৪ সালের ২৮ অক্টোবর সাগরে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সুন্দরীপাড়ার ১৪ জেলেকে জলদস্যুরা নির্মমভাবে হত্যা করে। সাগরে জলদস্যুদের সংঘটিত সবচেয়ে লোমহর্ষক ওই হত্যার ঘটনা দ্বীপাঞ্চলের মানুষ ভুলতে পারেনি আজও।

মহেশখালী থানায় দায়ের হওয়া মামলা সূত্রে জানা গেছে, পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের সুন্দরীপাড়ার বাসিন্দা শাহাদত আলীর মালিকানাধীন ‘এফবি কাউছারা’ নামের ইঞ্জিনচালিত মাছ ধরার নৌকাটিতে ১৫ জন জেলে ছিল। তারা গভীর সাগরে মাছ ধরে তীরে ফেরার সময় সোনাদিয়া দ্বীপের কাছে জলদস্যুদের কবলে পড়ে। আনুমানিক ২০-২২ জন দস্যুর দল অস্ত্রের মুখে ১৪ জেলেকে নৌকার বরফ রাখার হিমাগারে ঢুকিয়ে মুখ আটকে দেয়। সেখানে তারা শ্বাসরোধে মারা যায়। বাকি জেলে নুরুল হক ইঞ্জিনের পেছনে লুকিয়ে থেকে প্রাণে রক্ষা পান।

পুলিশ মামলাটির অভিযোগপত্র দাখিল করে ২০০৫ সালের ৩ মার্চ। মামলার মোট ১৪ আসামির মধ্যে জামিনে আছে ১০ জন, বাকি চারজন পলাতক। পলাতকদের একজন রোহিঙ্গা জঙ্গি গ্রুপের সামরিক কমান্ডার নাজমুল আলম। মামলাটি কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার বলেন, দস্যুতার মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে। ২০১০ সালের পরবর্তী সময়ের ১৩টি জলদস্যুতার মামলাও আদালতে বিচারাধীন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা