kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৭ রবিউস সানি ১৪৪১     

চবি অ্যালামনাইয়ের প্রথম পুনর্মিলনী

স্মৃতি হাতড়ানো একটি দিন

মোবারক আজাদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়   

২৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



স্মৃতি হাতড়ানো একটি দিন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইয়ের প্রথম পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘শাটল ট্রেনে শহর থেকে ক্যাম্পাসে আসা-যাওয়া করতাম। শাটলে গলা ছেড়ে গান গাইতাম। এখনো ইচ্ছে হয়, আবার শাটলে চড়ে ক্যাম্পাসে যাই, গলা ছেড়ে সহপাঠীদের সঙ্গে গান গাই।’ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) জীবনের স্মৃতি এভাবেই রোমন্থন করেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহ্মুদ। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চট্টগ্রাম নগরের জিইসি কনভেনশন হলে চবির অন্তত আট হাজার সাবেক শিক্ষার্থী মিলেমিশে একাকার হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের স্মৃতি হাতড়ে ফিরেছেন। শহর থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরের পাহাড়ঘেরা ক্যাম্পাসে নজরকাড়া সব স্থাপনাকে ঘিরে কাটিয়ে আসা দিনগুলোকেই যেন নতুন করে ফিরে পেতে উদ্গ্রীব হয়ে উঠেছিলেন সাবেকরা।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৫৩ বছর পর এসে চবির সাবেক শিক্ষার্থীদের এ সংগঠনের প্রথম পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান যেন হয়ে উঠেছিল বন্ধুদের পুনর্মিলনী। তাই সেখানে উপস্থিত হয়ে ড. হাসান মাহ্মুদ আর মন্ত্রী থাকেননি, পুরনো বন্ধুদের খোঁজে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন। মঞ্চে উঠে তিনি বলেন, ‘অনেক বছর পর পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয়েছে; তাদের পেয়ে অনেক ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে আবারও বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে ফিরে যাই।’

গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় চট্টগ্রাম নগরের জিইসি কনভেনশন হলে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বেলুন ওড়ানোর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের প্রথম অধিবেশনের উদ্বোধন করেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব ও সংগঠনের সভাপতি আব্দুল করিম।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন সাবেক উপাচার্য ও বর্তমান উপাচার্যকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়। সাবেক উপাচার্যদের মধ্যে ছিলেন ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান, অধ্যাপক ড. মো. আলাউদ্দিন, অধ্যাপক ড. এম বদিউল আলম, অধ্যাপক মো. আনোয়ারুল আজিম আরিফ। তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করতে পেরে গর্বিত মন্তব্য করে বলেন, আশা করব, সদ্যঃপ্রতিষ্ঠিত এই অ্যাসোসিয়েশন নিজেদের আরো বেশি সংগঠিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করে যাবে। চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে চবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়শেন গঠিত হয়।

পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা চবির সাবেক শিক্ষার্থীদের পদচারণে গতকাল সকাল থেকেই মুখরিত হয়ে ওঠে চট্টগ্রাম নগরী। বহুল প্রত্যাশিত এ পুনর্মিলনীকে ঘিরে তাদের ছিল বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস।

সিলেট থেকে আসা চবির চতুর্দশ ব্যাচের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী জুবায়ের আহম্মেদ চৌধুরী বলেন, ‘পুনর্মিলনীতে এসে বন্ধুবান্ধবদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের পুরাতন সিনিয়র-জুনিয়র ভাই-বোনদের পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে গেছি। বহুদিন ধরে না দেখা মুখগুলো দেখছি। অনেক ভালো লাগছে।’ একই ব্যাচের ব্যবস্থাপনা বিভাগের রওশন আরা বলেন, ‘চমৎকার এই আয়োজনে এসে ৩৪-৩৫ বছর পরও মনে হচ্ছে আমরা তারুণ্যে ফিরে গেছি। অনুষ্ঠানে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগের ব্যাচমেটদের পেয়ে ক্যাম্পাস জীবনের একটি আনন্দমুখর দিন কাটাচ্ছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের নবম ব্যাচের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী কামাল উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘৬৫ বছর বয়সেও ক্যাম্পাস জীবনের বন্ধুবান্ধবদের পেয়ে মনে হচ্ছে সেই তরুণ বয়সে আছি। আজকের এই দিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসেও প্রথম পুনর্মিলনী হিসেবে চিরস্মরণীয় আর আমাদের জীবনেও।’

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সাবেক ছাত্রনেতা আলাউদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী নাসিম। এ ছাড়া বক্তব্য দেন অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব আব্দুল করিম, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম, চাকসুর সাবেক ভিপি নাজিম উদ্দীন, সাবেক অর্থসচিব মুসলেম বিন চৌধুরী প্রমুখ।

গতকাল বিকেল থেকে শুরু হওয়া দ্বিতীয় অধিবেশনে ছিল সাবেক শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, স্মৃতিচারণা ও আমন্ত্রিত শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। রাতে প্রীতিভোজের পর র‌্যাফল ড্রর মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানা হয়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের অনুষ্ঠান উপলক্ষে বিকেল ৩টায় চবির চারুকলা ইনস্টিটিউট চত্বর থেকে একটি শোভাযাত্রা স্টেডিয়াম হয়ে সিআরবির শিরীষতলায় গিয়ে শেষ হয়। এরপর বিকেল ৪টায় দেশবরেণ্য বাউলশিল্পীদের অংশগ্রহণে শিরীষতলায় বাউল উৎসব হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা