kalerkantho

শনিবার । ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৬ রবিউস সানি               

সম্পাদক পদে একাধিক প্রার্থী তদবিরে ঘুম হারাম

৭ বছর পর খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন রবিবার

আবু দাউদ, খাগড়াছড়ি   

২২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সাত বছর পর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ও কাউন্সিল ঘিরে সাজ সাজ রব পড়েছে খাগড়াছড়িজুড়ে। সম্মেলন আওয়ামী লীগের হলেও আগ্রহ আর উত্সুকের কমতি নেই সাধারণ মানুষের মাঝেও। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী রবিবার খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। কাঙ্ক্ষিত পদ পদবি পেতে এরই মধ্যে জেলা পর্যায়ের নেতাদের দৌঁড়ঝাঁপ শুরু হয়ে গেছে। বিশেষ করে ‘সাধারণ সম্পাদক’ পদ পেতে বেশ কয়েকজনের রাতের ঘুম হারাম হওয়ার অবস্থা! তবে সভাপতি পদে দুই-তিনজন প্রত্যাশী থাকলেও প্রতিযোগিতা নেই বললেই চলে। বর্তমান সভাপতি সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা ফের সভাপতি হচ্ছেন-এমন গুঞ্জন বেশি শোনা যাচ্ছে।

সর্বশেষ ২০১২ সালের ১১ নভেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা সভাপতি আর জাহেদুল আলম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। দুই বছর পর সেই কমিটি অনুমোদন পায়। অথচ ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনে নৌকার বিপক্ষে অবস্থান নেওয়াকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের মূলধারার সঙ্গে জেলা সম্পাদক জাহেদুল আলমের দূরত্ব সৃষ্টি হয়। ফলে ওই সময় জাহেদুল আলম ও তাঁর ছোট ভাই জেলা শিক্ষা ও মানবসম্পদ সম্পাদক দিদারুল আলমসহ বেশ কয়েকজন নেতাকে বহিষ্কারের প্রস্তাব কেন্দ্রে পাঠানো হয়। এ নিয়ে বিরোধে হামলা ও মামলার শিকার হন আওয়ামী লীগের বহু নেতাকর্মী। পরে ২০১৬ সালের অক্টোবরে জাহেদুল আলমকে কেন্দ্র থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হলে গেল প্রায় ৩ বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকেই চলছিল জেলা আওয়ামী লীগ। অবশ্য বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার না হলেও সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগের মূলধারার সঙ্গে জাহেদ পরিবারের বিরোধ অনেকটা কাটিয়ে এবার জেলা সম্মেলনের পথে হাঁটল খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগ।

সম্মেলনের স্থান নির্ধারিত হয়েছে ঐতিহাসিক খাগড়াছড়ি স্টেডিয়াম। তবে কাউন্সিল হতে পারে জিমনেশিয়ামে। শুধু ২০৭ জন কাউন্সিলরই কেবল জিমনেশিয়ামে জায়গা পাবেন। সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক চাইথোঅং মারমা জানিয়েছেন, অত্যন্ত পরিচ্ছন্নভাবে এবারের সম্মেলন আয়োজনের সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। উৎসবমুখর পরিবেশে এখন সম্ভাব্য প্রার্থীরাও ডেলিগেটদের কাছে ভোট চাইছেন। 

সাজ সাজ রব : সম্ভবত জাতীয় নির্বাচনেও এত ব্যানার ফেস্টুনে ছেঁয়ে যায়নি শহর, শহরতলী। বিশেষত সাধারণ সম্পাদক প্রত্যাশীরা ব্যানার ফেস্টুনে ছাপিয়ে দিয়েছেন শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত। সর্বত্র যেন সাজ সাজ রব। অনেকদিন পর সম্মেলনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনা চোখে পড়ার মতো। শহরের প্রাণকেন্দ্র শাপলা চত্বরটিও ফেস্টুনে ঢেকে ফেলা হয়েছে। শাপলা চত্বর থেকে কোর্টবিল্ডিং এবং চেঙ্গীস্কোয়ার পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদক পদের প্রার্থীদের ব্যানার ফেস্টুনে ভরে উঠায় পর্যটনশহর খাগড়াছড়ির সৌন্দর্য বিনষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ সাধারণ নাগরিকদের। আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কয়েকজন নাম সম্বলিত এসব প্রচারণামূলক উপকরণে শহরবাসীর বিরক্তির কারণ হয়ে উঠেছে।

সুজনের জেলা সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন আহমেদ একটি দলের কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে অনিয়ন্ত্রিত ব্যানার ফেস্টুন টানানোর সমালোচনা করেছেন। এক্ষেত্রে কারো কোনো দায়বদ্ধতা নেই কিনা, সেই প্রশ্ন তুলেছেন। প্রচার খাতে ব্যয়ের সীমা নিয়েও তিনি উদ্বেগ জানান।

সভাপতি ও সম্পাদক প্রত্যাশী : কাউন্সিলে মুখ্যত সাধারণ সম্পাদক পদেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাষ পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে সরাসরি চারজন প্রত্যাশী প্রার্থী ভোট ও দোয়া চেয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। এঁরা হলেন বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু চৌধুরী, মাটিরাঙা পৌরসভার মেয়র শামছুল হক, বর্তমান কমিটির সহসভাপতি মনির হোসেন খান এবং শিক্ষা ও মানবসম্পদ সম্পাদক দিদারুল আলম। এ ছাড়া দীঘিনালা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. কাশেম, জেলা পরিষদ আব্দুল জাব্বারের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে এঁদের কারো প্রচার চোখে পড়েনি।

সভাপতি পদে শরণার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্সের প্রতিমন্ত্রী মর্যাদার চেয়ারম্যান ও বর্তমান সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপিই পুনরায় সভাপতি হচ্ছেন বলে গুঞ্জন উঠেছে। তবে সভাপতি প্রার্থী হিসেবে আরো আগ্রহ প্রকাশ করেছেন পানছড়ি কলেজের অধ্যক্ষ সমীর দত্ত চাকমা ও মুক্তিযোদ্ধা রহিছ উদ্দিন। সভাপতি ও সম্পাদক পদ ছাড়া অন্য পদে স্থান পেতেও অনেকে মরিয়া। আগ্রহী প্রার্থীরা এরই মধ্যে ডেলিগেট ও কাউন্সিলরদের কাছেও ধর্না দিচ্ছেন।

জেলা সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু চৌধুরী জানিয়েছেন, এবারই প্রথম জেলা সম্মেলনের পূর্বে জেলার ১২টি সাংগঠনিক কমিটির কাউন্সিল সফলভাবে শেষ হয়েছে। এর আগে প্রত্যেকটি তৃণমূল কমিটি (গ্রাম ও ওয়ার্ড) গঠন করা হয়েছে। এ নিয়ে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হয়।

অতীতে দলের জন্য ত্যাগ-তিতিক্ষা এবং ভূমিকা বিবেচনা করে ভোটাররা তাদের যোগ্য নেতাদের বেছে নেবেন বলেও আশা করছেন সাধারণ ডেলিগেটরা।

এদিকে সর্বশেষ প্রস্তুতি নিয়ে মঙ্গলবার জেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় জেলা আওয়ামী লীগের ৭১ সদস্য, উপজেলার কাউন্সিলর ছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগের ২১ জন উপদেষ্টাকেও কাউন্সিলর মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এবার তাই উপদেষ্টারাও নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোট প্রয়োগ করতে পারবেন।

বর্ধিত সভায় অংশ নেয়া আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, সাময়িক বহিষ্কৃত জেলা সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল আলম বর্ধিত সভায় অংশ নিয়ে দল থেকে অবসরে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি তাঁর সঙ্গে থেকে সফলভাবে জেলা সম্মেলন সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা