kalerkantho

শনিবার । ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৬ রবিউস সানি               

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

সাবেক শিক্ষার্থীদের প্রথম মিলনমেলা

আজ শেষদিন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাবেক শিক্ষার্থীদের প্রথম মিলনমেলা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের দুই দিনের প্রথম পুনর্মিলনী উৎসব গতকাল শুরু হয়েছে। প্রথমদিন বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘প্রাণের উৎসবে, মাতি উল্লাসে’ স্লোগানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের দুই দিনব্যাপী প্রথম পুনর্মিলনী উৎসব শুরু হয়েছে। প্রথমদিন গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় নগরের চারুকলা ইনস্টিটিউট চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সিআরবির শিরীষতলায় গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হয় দেশবরেণ্য শিল্পীদের পরিবেশনায় বাউল উৎসব।

পুনর্মিলনীর প্রথম দিনের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া ইউসুফ হোসেন নামে সাবেক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এই প্রাণের উৎসবে যোগ দিতে পেরে অনেক আনন্দ অনুভব করছি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের পুরনো বন্ধুদের পেয়ে মনে হচ্ছে ক্যাম্পাস জীবনে চলে এসেছি। তাই ক্যামপাস জীবনে ফেলে আসা স্মৃতিগুলো বেশি বেশি মনে পড়ছে।’

১৯ ব্যাচের মেহেদী হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চাকরির সুবাদে বেশির ভাগ সময় ঢাকায় থাকতে হয়। এই প্রাণের উৎসবে যোগ দিতে একদিন আগেই চট্টগ্রাম চলে এসেছি। পুরনো বন্ধুদের পেয়ে আনন্দ আর ধরে রাখতে পারছি না। বন্ধুদের পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সেই রঙিন দিনগুলো বারবার মনে পড়ছে।’

আনন্দ শোভাযাত্রায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম থেকে ৪৯তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। রঙিন প্ল্যাকার্ড, শাটল ট্রেনের ডামি, ফেস্টুন ও ঢোলের তালে তালে নেচে গেয়ে নগরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলো মাতিয়ে রাখেন তাঁরা। এখানে বয়স কোনো বাধা হয়নি! ষাটোর্ধ্ব সাবেকদেরও দেখা গেছে ঢোলের তালে তালে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো ও শাটলের ডামি নিয়ে আনন্দ উল্লাসে ভাসতে। অনেকে যার যার ব্যাচের আলাদা আলাদা ব্যানার করে নিয়ে এসেছেন।

মূল অনুষ্ঠান আজ শুক্রবার দিনব্যাপী নানা আয়োজনে নগরের জিইসি কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচ থেকে ৪৯তম ব্যাচ পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার গ্র্যাজুয়েট অংশ নেবেন। আজকের দিনব্যাপী অনুষ্ঠান দুই পর্বে সাজানো হয়েছে। প্রথম পর্বে আছে সভাপতি ও অতিথিদের আসন গ্রহণের পর  শোক প্রস্তাব গ্রহণ, কার্যকরী কমিটির পরিচিতি, উপাচার্যকে স্মারক উপহার ও অতিথিদের শুভেচ্ছা বক্তব্য। দ্বিতীয় পর্বে রয়েছে স্মৃতিচারণ এবং শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এ ছাড়া রাত সাড়ে ৮ টায় প্রীতিভোজ শেষে সাড়ে ৯টায় র‌্যাফল ড্রর মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানা হবে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন। ইতোমধ্যে প্রতিবছর ২২ লক্ষ টাকার তহবিল বৃত্তির জন্য ঘোষণা করা হয়েছে। এই বৃত্তি ১০ বছর চলমান থাকবে। অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘বহুল প্রত্যাশিত প্রথম পুনর্মিলনী শুরু হয়েছে। অনুষ্ঠান ঘিরে প্রায় ১০ হাজার সাবেক শিক্ষার্থী অ্যালামনাই নিবন্ধন করেছেন। অনুষ্ঠানটি ইতিহাস হয়ে থাকবে।’

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানের পর থেকে সাবেক শিক্ষার্থীদের একটি সংগঠন কীভাবে দাঁড় করানো যায় তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরে সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থীর অক্লান্ত পরিশ্রমে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন পূর্ণ রূপ নেয়। এরই ফসল প্রথম পুনর্মিলনী।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা