kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

ওসি ছুরিকাহত, ১৮ অস্ত্র-সরঞ্জাম জব্দ

রাউজানে দুর্গম পাহাড়ে অস্ত্রের কারখানা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম ও রাউজান প্রতিনিধি   

২১ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাউজানে দুর্গম পাহাড়ে অস্ত্রের কারখানা

রাউজানে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও সরঞ্জাম। ছবি : জাহেদুল আলম

রাউজান উপজেলার দুর্গম পাহাড়ে ডাকাতদলের একটি অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। এ সময় অভিযান চালিয়ে ১৮টি অস্ত্র, অস্ত্র তৈরির নানা সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। অভিযানকালে ডাকাতদলের সদস্যের ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)। মো. আলমগীর প্রকাশ আলম ডাকাতকে (৪১) গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসি কার্যকর হওয়া সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ক্যাডার সন্ত্রাসী বিধান বড়ুয়া ও জানে আলমের সহযোগী ছিলেন আলম ডাকাত।

মঙ্গলবার রাতে পূর্ব রাউজান রাবারবাগান এলাকার ঘোড়া সামছু টিলায় এ অভিযান চালানো হয়। চার ঘণ্টার অভিযানে পুলিশের সঙ্গে ডাকাতদলে সদস্যদের ২৫ রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়। অভিযানে গ্রেপ্তার আলম একই এলাকার সিদ্দিক বাড়ির মো. আব্দুল সাত্তারের ছেলে।

জব্দকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ১০টি দেশে তৈরি শর্টগান, একটি গ্যাসগান, ছয়টি পাইপগান, সাতটি কার্তুজের খোসা, তিনটি দেশে তৈরি একনলা বন্দুকের অংশ, ২৭টি কাঠের বাঁট, একটি লেদ মেশিন, একটি পাম্প বক্স, একটি লোহা কাটার বড় কাঁচি, একটি চিমটি, একটি লোহার ছোট কাঁচি, একটি পাইপের প্যাঁচ কাটার মেশিন, একটি, প্লাস্টিকের তেলের বোতল, দুইটি হ্যান্ড ড্রিল মেশিন, তিনটি ড্রিল করার কাটি, কিছু কয়লা, একটি কয়লার আগুন ধরানোর মেশিন ও একটি দা। 

ডাকাতদলের অস্ত্রের কারখানার সন্ধান পাওয়ার বিষয়ে রেঞ্জ ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, ‘রাউজান থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ডাকাতদলের অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে। সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ এক ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব অস্ত্র কারা তৈরি করে, কারা কোথায় কিভাবে বিক্রি করে এবং এর নেপথ্যে আরো কারা জড়িত সেই বিষয়ে জানতে গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে রিমাণ্ড নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ।’

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে রাউজান থাকার অফিসার ইনচার্জ কেপায়েত উল্লাহ বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতে ঘোড়া সামছুর টিলায় অস্ত্র বেচাকেনা হচ্ছে-এমন সংবাদ পেয়ে ২০-২৫ জন পুলিশ সদস্য নিয়ে অভিযান শুরু করি। এ সময় ডাকাত আলমগীর ও তার সহযোগীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাঁচ রাউন্ড গুলি করে।’

‘এক পর্যায়ে আলম তার হাতে থাকা অস্ত্র ফেলে দিয়ে দা হাতে নেয়। পালানোর সময় তাকে আমি ধরে ফেলি। কিন্তু আলম তার হাতে থাকা দা দিয়ে আমাকে কোপ দেয়। এতে আমার হাতে মারাত্মক আঘাত লাগে। এ ঘটনায় উপ-পরিদর্শক সাইমুল ইসলাম, উপ-পরিদর্শক মো. কামাল, উপ-পরিদর্শক হামিদ হোসাইনও আহত হন। এরপর অস্ত্রের কারখানা থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র পায় পুলিশ।’-যোগ করেন ওসি।

গ্রেপ্তারকৃত আলমের বিষয়ে পুলিশ জানায়, আলম তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ। তাঁর বিরুদ্ধে রাউজান, নগরের পাঁচলাইশ ও চান্দগাঁও থানায় খুন, ডাকাতি ও অস্ত্র আইনে ১৭টি মামলা আছে। মাত্র ৫০ দিন আগে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বেরিয়েছেন আলম। ১০ বছর সাজাভোগের পর মুক্তি পেয়ে তিনি পুনরায় অপরাধ জগতে ফিরে যান। আলম ২০০৩ সালে র‌্যাবের ‘ক্রসফায়ারে’ নিহত শীর্ষ সন্ত্রাসী জানে আলমের সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা