kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

এনআইডি জালিয়াতি

ইসির পদস্থ কর্মকর্তাদের ধরতে ‘ধাপ’ পেরোতে চায় পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জালিয়াতির মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের হাতে বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তুলে দেওয়ার ঘটনায় জড়িত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পদস্থ কর্মকর্তাদের ধরতে ‘ধাপ’ পেরোতে চায় পুলিশ। ওই ঘটনায় জড়িত রোহিঙ্গা, দালাল, ইসির স্থায়ী-অস্থায়ী কর্মী গ্রেপ্তারের পর তাঁদের জবানিতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পদস্থ কর্মকর্তা গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেবে পুলিশ। কারণ, সরকারি কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি নিতে হয়।

এনআইডি জালিয়াতির ঘটনায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর দায়ের করা মামলাটি তদন্ত করছে নগর পুলিশের কাউন্টার টেরিরোজম ইউনিট। মামলা দায়েরের সময় এবং পরবর্তীতে স্বল্প সময়ে সাতজনকে গ্রেপ্তারের পর আকস্মিকভাবে মামলার তদন্ত কার্যক্রমে ভাটা পড়ে। অবশ্য, এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশনের তিনজন কর্মীকে গ্রেপ্তারের অনুমতি চেয়ে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা রাজেস বড়ুয়া।

‘সরকারি চাকরি আইন-২০১৮’-এর ৪১ ধারা অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের গ্রেপ্তারের আগে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হয়। এই অনুমতি প্রক্রিয়াতেই এক মাসের বেশি সময় পার হয়ে যায়। অনুমোদন পাওয়ার পর দুই দফায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা হলেন, চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী আবুল খায়ের ভূঁইয়া (৪৫), মিরসরাই উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের অফিস সহকারী আনোয়ার হোসেন (৪৫) ও চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিসের অফিস সহকারী নাজিম উদ্দিন। তাদের মধ্যে আনোয়ার হোসেন মহানগর হাকিম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। আর নাজিম উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারদিনের রিমাণ্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

এনআইডি জালিয়াতির ঘটনায় নির্বাচনের কমিশনের ১৫ জনের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম এসেছে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে। এ পর্যন্ত চারজন আসামির দেওয়ার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতেও নামগুলো বেরিয়ে এসেছে। কিন্তু এখনই নির্বাচন কমিশনের সব কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না।

জানতে চাইলে নগর পুলিশের কাউন্টার টেরিরোজম ইউনিটের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মামলার তদন্তপর্যায়ে যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ চাওয়া হবে, তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।’ নির্বাচন কমিশনের ১৫ জনের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম প্রকাশ হওয়ার পরও মাত্র তিনজনকে কেন গ্রেপ্তার করা হলো?-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক পর্যায়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা তিনজনকে গ্রেপ্তারের অনুমতি চেয়েছিলেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়ার পর তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যদি পরবর্তীতে আর কোনো কর্মকর্তার নাম প্রকাশ পায়, তাহলে তাদেরকেও গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

‘মামলার তদন্ত ধাপে ধাপে এগোচ্ছে। তাড়াহুড়ো করে নয়, তদন্তকারী কর্মকর্তা সুনির্দিষ্ট তথ্য নিয়ে তদন্ত করছেন। যাতে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসে।’-যোগ করেন শহীদুল্লাহ।

কাউন্টার টেরিরোজম ইউনিটের অপর এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এনআইডি জালিয়াতির ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের যেসব কর্মকর্তার নাম এসেছে, পর্যায়ক্রমে সবাইকে গ্রেপ্তার করা হবে। প্রথম দফায় তিনজনের বিষয়ে অনুমতি চাওয়া হয়েছে বিশেষ কারণে। পরবর্তীতে অন্যদের গ্রেপ্তারের অনুমতি চেয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা চিঠি লিখবেন।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা