kalerkantho

সোমবার । ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ১ পোষ ১৪২৬। ১৮ রবিউস সানি                         

মৃত্যুকে কাছ থেকে দেখেছেন অনুপম ঘোষ

বেঁচে থাকাটাই বিশ্বাস হচ্ছে না মঞ্জুরের

পাথরঘাটা ট্র্যাজেডি

রাশেদুল তুষার, চট্টগ্রাম   

১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বেঁচে থাকাটাই বিশ্বাস হচ্ছে না মঞ্জুরের

মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসা দোকানি মঞ্জুর হোসেন। ছবি : কালের কণ্ঠ

নিজের বেঁচে থাকাটাকে তখনো বিশ্বাস হচ্ছিল না মঞ্জুরের। কারণ তাঁর দোকানের সামনে যে তরুণ চা খেল, এর পর আয়েশ করে সিগারেট ধরিয়ে পান চিবুচ্ছিল সেই রংমিস্ত্রি নূরুল ইসলাম হঠাৎ উড়ে আসা ইটের আঘাতে চোখের সামনেই ঢলে পড়ল সড়কে।

কানে তালা দেওয়া সেই বিকট বিস্ফোরণের একটু পর নিজের উপরই ভেঙে পড়ল তাঁর নিজের দোকান। এভাবে চাপা থাকলেন বেশ কিছু সময়। আশেপাশের মানুষজন যখন এসে তাঁকে উদ্ধার করলেন তখনো হতবিহ্বল মঞ্জুর হোসেন।

নগরের পাথরঘাটা ব্রিকফিল্ড এলাকায় ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে ৭ জন নিহত হওয়ার ঘটনার আড়াই-দুই ঘণ্টা পরে বেলা সাড়ে ১১টায় কালের কণ্ঠ প্রতিবেদকের সঙ্গে যখন কথা বলছিলেন তিনি তখনও তাঁর সেই বিহ্বলতা কাটেনি। পরনের শার্টে রক্তের ছোপ ছোপ দাগ। বাম হাতের আঙুল আর পায়ে ব্যান্ডেজ। এর মধ্যেই কালের কণ্ঠকে দিচ্ছিলেন ঘটনার বর্ণনা।

‘যখন এলাকার মানুষ এসে দোকানের শোকেস আর ইটের স্তুপ সরিয়ে আমাকে উদ্ধার করে তখন দেখি দোকানের কাস্টমার রংমিস্ত্রি ছেলেটা রাস্তায় পড়ে আছে। আরেকটু সামনে গিয়ে দেখি তিনজন নারী, ছোট একটা বাচ্চা আর কয়েকজন পথচলতি মানুষ দেয়াল চাপা পড়ে আছে। সবাই মিলে তাঁদের তাড়াতাড়ি উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। কিন্তু ততক্ষণে কয়েকজন মারা গেছেন।’

মৃত্যুকে চোখের সামনে দেখা মঞ্জুর অনেকটা আর্তনাদের স্বরেই বলেন, ‘রংমিস্ত্রি ছেলেটার মতো ইটের টুকরো আমার মাথায়ও পড়তে পারত। আমিও অন্যদের মতো দেয়াল চাপা পড়ে মরতে পারতাম।’

দুর্ঘটনা কবলিত বড়ুয়া ভবনের দেয়াল ঘেঁষেই ব্রিকফিল্ড বাইলেন গলির মুখে মঞ্জুর হোসেনের পানের দোকান। ২০-২২ বছর ধরে স্ত্রীকে নিয়ে ওই দোকান চালান তিনি। এর আগে তাঁর বাবা দোকানটি চালাতেন। ব্রিকফিল্ড রোড বাইলেনেই থাকেন তিন সন্তানের জনক মঞ্জুর। প্রতিদিনের মতো রবিবারও সকাল সাতটায় দোকান খুলেছিলেন মঞ্জুর। এর দুই ঘণ্টা পরই ঘটে যায় মর্মান্তিক সেই ঘটনা।

এ ঘটনায় মৃত্যুকে কাছ থেকে দেখেছেন মঞ্জুরের পাশের জনতা ফার্মেসির কর্মচারী অনুপম ঘোষ। মৃত্যুর দুয়ার থেকে সদ্য ফিরেছেন এই তরুণ! মুখে আঘাত লেগেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

ঘটনার আড়াই ঘণ্টা পরেও যখন কি ঘটেছিল জানতে চাইলে, কিছুক্ষণ চুপ করেছিলেন অনুপম ঘোষ। তেমন কিছু মনেও করতে চাইলেন না।

পাশে দাঁড়িয়ে থাকা জনতা ফার্মেসির মালিক টিটু কুমার নাথ বলেন, ‘ভগবানের কৃপায় একটুর জন্য আমার কর্মচারী অনুপম বেঁচে গেছে। সে তখন দোকান খুলে ঝাড়ু দিচ্ছিল। ঝাড়ু দিতে দিতে দোকানের যে পাশটির গ্রিলের দরজা খুলেনি সে পাশটিতে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিকট শব্দে হুড়মুড় করে ইটের টুকরোসহ বিভিন্ন সামগ্রী দোকানে আছড়ে পড়ে। অনুপম দোকানের খোলা অংশে থাকলেই সবকিছু তার ওপর পড়ত। এরপরেও সে আহত হয়।’

তিনি বলেন, ‘রিকশায় থাকা দুজন নারীর নিথর দেহ আমার দোকানের ভেতরে গিয়ে পড়ে। এর মধ্যে একজনের মাথা দোকানের ভিতরে বাকি অংশ বাইরে ছিল।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা