kalerkantho

শুক্রবার । ৩ আশ্বিন ১৪২৭। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০। ২৯ মহররম ১৪৪২

রোহিঙ্গাদের এনআইডি জালিয়াতি

আরো দুই ইসিকর্মী গ্রেপ্তার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



আরো দুই ইসিকর্মী গ্রেপ্তার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাইয়ে দেওয়ার মামলায় নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আরো দুই কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন মো. আবুল খায়ের ভূঁইয়া (৪৫) ও আনোয়ার হোসেন (৪৫)। গত মঙ্গলবার বিকেলে তাঁদের নিজ নিজ কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। চাঞ্চল্যকর মামলায় এ নিয়ে এনআইডি জালিয়াতিচক্রের ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।

আবুল খায়ের ভূঁইয়া চট্টগ্রামের সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী। তিনি কুমিল্লা সদরের ক্যান্টনমেন্ট এলাকার মৃত আনু মিয়া ভূঁইয়ার ছেলে। আনোয়ার হোসেন মিরসরাই উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহকারী। নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলার বসন্তপুর গ্রামের আরব আলীর ছেলে তিনি। পুলিশ আদালতের মাধ্যমে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সরোয়ার জাহানের আদালত সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক রাজেশ বড়ুয়া বলেন, ‘এনআইডিসংক্রান্ত মামলায় আমরা এ পর্যন্ত যাঁদের গ্রেপ্তার করেছি, তাঁদের মধ্যে তিনজন আদালতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁদের জবানবন্দি এবং অন্য আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আবুল খায়ের ভূঁইয়া ও আনোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

নগরীর কোতোয়ালি থানায় ডবলমুরিং উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা পল্লবী চাকমার দায়ের করা মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, লাকি নামের এক নারী গত ১৮ আগস্ট স্মার্ট কার্ড তুলতে জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে গেলে তাঁর হাতে পুরনো এনআইডিতে ১৭ ডিজিটের নম্বর দেখে কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। পরে জেরার মুখে লাকি নিজের প্রকৃত নাম রমজান বিবি এবং ২০১৪ সালে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসার পর টেকনাফের মুচনি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ছিলেন বলে স্বীকার করেন। ওই রোহিঙ্গা নারী ভুয়া ঠিকানা দিয়ে তৈরি করিয়েছেন ওই জাল এনআইডি। এ ঘটনার পর রোহিঙ্গাদের ভোটার করা ও এনআইডি পাইয়ে দেওয়ার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজতে অভিযান শুরু হয়। নির্বাচন কমিশন থেকেও একটি তদন্ত কমিটি করা হয়। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) আলাদাভাবে এ বিষয়ে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে। জালিয়াতচক্র টাকার বিনিময়ে কয়েক হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশের ভোটার ও জাতীয় পরিচয়পত্র পাইয়ে দিতে সহযোগিতা করেছে বলে তদন্তে বেরিয়ে আসে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা