kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক

জেব্রা টানছে দর্শনার্থী

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া (কক্সবাজার)   

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জেব্রা টানছে দর্শনার্থী

চকরিয়ার ডুলাহাজারায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে দর্শনার্থীদের বেশ আনন্দ দিচ্ছে পাচারকারীদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া সেই জেব্রাগুলো।

চট্টগ্রাম বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু নাছের মো. ইয়াছিন নেওয়াজ বলেন, ‘বিদেশ থেকে অবৈধভাবে আনার পর যশোরের শার্শায় আটক করা হয় এসব জেব্রা। ওই ঘটনায় গত বছরের ৯ মে শার্শা থানায় মামলা হয়। পরবর্তীতে জেব্রাগুলো পাঠানো হয় গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে। সেখান থেকে প্রধান বন সংরক্ষকের নির্দেশে চকরিয়ার বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে তিনজোড়া আফ্রিকান জেব্রা হস্তান্তর করা হয়।’

পার্কের তিন একর জায়গায় গড়ে তোলা বেষ্টনীতে জেব্রাগুলো আসার পর থেকে তারা যেন আদর্শিক আবাসস্থল খুঁজে পায়। সেখানে রয়েছে বিভিন্ন জাতের প্রচুর ঘাস, লতাগুল্মের সমাহার। বিস্তীর্ণ এই বেষ্টনীতে ঢুকেই এসব জেব্রা শুরু করে ঘাস খাওয়া। এই দৃশ্য দেখে পার্ক কর্মকর্তারা তখন বলেন, এটিই তাদের (জেব্রা) আদর্শিক আবাসস্থল।

পার্কের বন্যপ্রাণী চিকিৎসক মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, পার্কে নতুন অতিথি হিসেবে ঠাঁই পাওয়া জেব্রার মধ্যে একটি জেব্রা শারীরিকভাবে দুর্বল ছিল। তাই একটি জেব্রাকে প্রাণে বাঁচিয়ে রাখা যায়নি। অবশ্য বাকী জেব্রাগুলো খুবই ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে পার্কের সবুজাভ পরিবেশে। অপ্রাপ্তবয়স্ক এসব জেব্রার মধ্যে তিনটি রয়েছে বিপরীত লিঙ্গের। তাই এখানে যে আবাসস্থল তারা পেয়েছে প্রজননের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, এসব জেব্রা পার্কের নির্দিষ্ট বেষ্টনীতে অবমুক্ত করার পর প্রচুর পরিমাণ ঘাস খাওয়া শুরু করে। এর পর তিন একরের এই বেষ্টনীর এ পাশ থেকে ও পাশ চক্কর দিতে থাকে এসব জেব্রা। এর মধ্যে একটি জেব্রা হাঁটু পরিমাণ পানিতে নেমে পড়লে সঙ্গীয় জেব্রাগুলো দলচ্যুত জেব্রাকে চিৎকার-চেঁচামেচি করে পাড়ে তুলে নিয়ে আসে। পার্কে আগত দর্শনার্থীরা এই দৃশ্য দেখে বেশ উত্ফুল্ল হন।

কয়েকজন দর্শনার্থী বলেন, পার্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইতোপূর্বে অসংখ্যবার পার্ক ভ্রমণ করেছি। কিন্তু বিদেশি বন্যপ্রাণীর মধ্যে ওয়াইল্ডবিস্ট ছাড়া কোনো প্রাণীর দেখা পাইনি। গত একবছরে বেশ কয়েকবার পার্কে এসেছি। প্রতিবারই আফ্রিকান জেব্রা দেখতে বেষ্টনীতে চলে যাই। এসব জেব্রা আমাদের মনের খোরাক হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক মো. মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘আফ্রিকান প্রজাতির এসব জেব্রা একেবারেই শান্ত। এরা তৃণভোজী বন্যপ্রাণী। তাদের প্রধান খাবার হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির ঘাস, ভূষি।’

পার্ক তত্ত্বাবধায়ক মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘একটি সাফারি পার্কে বিদেশি বন্যপ্রাণী না থাকলে সেই পার্ক পরিপূর্ণতা পায় না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা