kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

এবারও সেরা করদাতার তিনজন এ কে খান পরিবারের

চট্টগ্রামে ৩৮ জনকে সম্মাননা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এবারও সেরা করদাতার তিনজন এ কে খান পরিবারের

চট্টগ্রামে গতকাল সেরা করদাতাদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি। ছবি : কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম জেলা, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলার ৩৮ করদাতাকে সম্মাননা দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। চট্টগ্রাম বিভাগে এবারও সর্বোচ্চ করদাতার সম্মাননা পেয়েছেন এ কে খান পরিবারের সদস্যরা। শীর্ষ করদাতার তিনজন তাঁদের সন্তান। এঁরা হলেন সদর উদ্দিন খান, আবু মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন খান ও সালাহউদ্দিন কাশেম খান। এ ছাড়া নারী করদাতা শ্রেণিতেও সম্মাননা পেয়েছেন এ কে খান পরিবারের শামীমা হাসান। বিগত বেশ কবছর ধরে চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ করদাতার শীর্ষস্থানগুলো দখলে রেখেছে পরিবারটি।

গতকাল বুধবার নগরের জিইসি কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠানে তাঁদের সম্মাননা জানানো হয়। প্রধান অতিথি তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি তাঁদের হাতে

সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে জিডিপির আকার চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সেখানে করদাতার সংখ্যা মাত্র দ্বিগুণ বেড়েছে। আমরা সব সময়ই অবকাঠামোসহ বিভিন্ন পর্যায়ে উন্নয়ন চাই। কিন্তু কর না দিলে উন্নয়ন হবে কীভাবে। কর প্রদানকে উৎসাহিত করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সেরা করদাতাদের সম্মানিত করছে।’

তথ্যমন্ত্রী কর প্রদানকে উৎসাহিত করতে জেলা থেকে উপজেলা পর্যায়ে এ কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘যাঁরা কর দেওয়ার উপযুক্ত, তাঁরা যথাযথভাবে কর দিলে বাংলাদেশ স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছাবে।’

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সর্বোচ্চ করদাতা তিনজন, দীর্ঘসময় ধরে করদাতা দুজন, নারী করদাতা একজন ও তরুণ পুরুষ করদাতা একজনসহ মোট সাতজনকে সম্মাননা দিয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে এবার দীর্ঘ সময় ধরে সেরা করদাতার সম্মাননা পেয়েছেন নগরের শুলকবহরের বাসিন্দা এ বি এম এ বাসেত ও কাট্টলীর বাসিন্দা আমজাদুল ফেরদৌস চৌধুরী। ৪০ বছরের নিচে তরুণ শ্রেণিতে সর্বোচ্চ করদাতা হয়েছেন কাট্টলীর বাসিন্দা মোহাম্মদ শাহাদাত হোসাইন।

এবার চট্টগ্রাম জেলায় সর্বোচ্চ করদাতার সম্মাননা পেলেন সীতাকুণ্ডের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ লোকমান, হাটহাজারী ফতেয়াবাদের মোহাম্মদ সেলিম ও লালখান বাজারের শেখ নবী। এ ছাড়া দীর্ঘ সময় কর দাতার সম্মাননা প্রাপ্তরা হলেন, রাউজানের বাসিন্দা মোহাম্মদ হাজি মুছা ও সীতাকুণ্ডের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ কামাল উল্লাহ। তরুণ শ্রেণিতে সর্বোচ্চ করদাতা হয়েছেন সীতাকুণ্ডের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জাহেদ চৌধুরী, নারী শ্রেণিতে সর্বোচ্চ করদাতা হয়েছেন রাউজান সুলতানপুরের বাসিন্দা জান্নাতুল মাওয়া।

কক্সবাজার জেলায় এবার সর্বোচ্চ করদাতা তিনজনই হলেন ঠিকাদার। উন্নয়ন ইন্টারন্যাশনালের মালিক আতিকুল ইসলাম, তামান্না কনস্ট্রাকশনের মোহাম্মদ আবু কাউসার এবং প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলমগীর। আর দীর্ঘসময় করদাতা দুজন হলেন, হাবিবুল ইসলাম ও রফিকুল হুদা চৌধুরী। এ ছাড়া নারী শ্রেণিতে সর্বোচ্চ করদাতা হয়েছেন কামরুন নাহার এবং তরুণ শ্রেণিতে সাজ্জাদুল করিম।

পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে সর্বোচ্চ করদাতা তিনজন হলেন, লোকমান হোসেন তালুকদার, রফিকুল আলম লিটন ও বদিউল আলম। আর দীর্ঘসময় করদাতা হয়েছেন মাত্র একজন মো. আসাদুজ্জামান মহসিন। নারী শ্রেণিতে চিত্র চাকমা এবং তরুণ শ্রেণিতে তোফাজ্জল হোসেন। 

পার্বত্য বান্দরবান জেলায় সর্বোচ্চ করদাতার সম্মাননা পেলেন, মোহাম্মদ নুরুল আবছার, আবদুস শুক্কুর ও অমল কান্তি দাশ। আর নারী শ্রেণিতে সর্বোচ্চ করদাতা হলেন, মে হ্লা প্রু। এই জেলায় দীর্ঘসময় এবং তরুণ শ্রেণিতে কেউ সম্মাননা পাননি।

খাগড়াছড়ি জেলায় সর্বোচ্চ করদাতার সম্মাননা পেলেন, স্বপন চন্দ্র দেবনাথ, মোহাম্মদ নুর আলম ও মোছাম্মৎ ফরিদা আকতার। আর দীর্ঘসময় ধরে করদাতা হিসেবে সম্মাননা পান, শহীদুল ইসলাম ভূঁইয়া, মো. শানে আলম। তরুণ শ্রেণিতে সর্বোচ্চ করদাতা হয়েছেন শওকত বাহার এবং নারী শ্রেণিতে সর্বোচ্চ করদাতার সম্মাননা পেলেন সুপর্ণা পাল।

কর কমিশনার আবুল কালাম কায়কোবাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সম্মাননা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম, কাস্টমস এক্সাইজ অ্যান্ড ভ্যাটের কমিশনার মোহাম্মদ এনামুল হক, কর আপিলাত ট্রাইব্যুনালের কমিশনার সৈয়দ মোহাম্মদ আবু দাউদ, কর আপিল অঞ্চলের কমিশনার হেলাল উদ্দিন সরকার প্রমুখ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা