kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

ঘূর্ণিঝড়ের মহাবিপদ সংকেত উপেক্ষা

ঝড়-বৃষ্টিতে স্কুলের ছাদঢালাই পরদিন ভেসে ওঠে রড

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঝড়-বৃষ্টিতে স্কুলের ছাদঢালাই পরদিন ভেসে ওঠে রড

স্কুল কমিটি ও প্রধান শিক্ষকের বারণ সত্ত্বেও বাঁশখালী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের ছাদঢালাইয়ের কাজ করেছে ঠিকাদার। ঝড়-বৃষ্টিতে ক্ষতবিক্ষত পুরো ছাদ। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এর কারণে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত আর ঝড়-বৃষ্টিতেও গত রবিবার বাঁশখালী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের ছাদঢালাইয়ের কাজ করা হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ১২০ ফুট দৈর্ঘ্য আর ৪০ ফুট প্রস্থের ওই ছাদ ঢালাই কাজ না করতে প্রধান শিক্ষক ও স্কুল কমিটির বারণ মানেননি ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা। পরদিন সোমবার ক্ষতবিক্ষত পুরো ছাদের কংক্রিট, বালু একাকার হয়ে লোহার রড ভেসে উঠে।

স্কুলের অভিভাবক ও গ্রামবাসীর অভিযোগ, ৬ মাস আগে ফ্যাসিলিটিজ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বজলুর রহমান জে কে ট্রেডার্স জে বি ২ কোটি ৭২ লাখ টাকার ৪তলা ভবনের স্কুলটির নবনির্মিত ভবনের কাজ শুরু করে। এক মাসের মাথায় নিচতলার ১২০ ফুট দেয়াল ধসে পড়ে। ওই সময় শিক্ষক, অভিভাবক ও গ্রামবাসী ফ্যাসিলিটিজ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে অভিযোগ দিলেও কর্তৃপক্ষ ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। নিম্নমানের লোহার রড, সিমেন্ট, কংক্রিট, সিলেটি বালুর পরিবর্তে স্থানীয় বালু ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্কুলের অভিভাবক লিয়াকত আলী, আব্দুর রহিম, জসিম উদ্দিনসহ অনেকে বলেন, এখানে যারা দুর্নীতি করেছে প্রশাসনিকভাবে তাদের খুঁজে বের করা উচিত।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুমিত্র সেন বড়ুয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মুষলধারে বৃষ্টির কারণে আমি কাজে বাধা দিয়েছিলাম। ঠিকাদার ও প্রকৌশলীরা তা মানেননি।’

স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর প্রতিনিধি শেখ মোস্তফা আলী চৌধুরী মিশু বলেন, ‘আমাদের পরিবার স্কুলে ৫ একর জায়গা দান করেছে। ঠিকাদার ও প্রকৌশলীকে মুষলধারে বৃষ্টিতে কাজে আমরা বাধা দিলেও তাঁরা ২০০ বছরে বিল্ডিং কিছু হবে না বলে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে কাজটি করেছেন।’

তবে ফ্যাসিলিটিজ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাঁশখালীর দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী আরমান হোসেন বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক ও স্কুল কমিটির সঙ্গে আলাপ করে কাজটি করেছি। এখানে আমার একার কোনো সিদ্ধান্ত নেই।’

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বজলুর রহমান জে কে ট্রেডার্স জে বির মালিক বজলুর রহমান বলেন, ‘আমিতো ঠিকাদার। প্রকৌশলীরা যা বলেন, তাই করি। আমার কোনো দোষ নেই। বরং দুই/তিন বার কাজ করায় আমার ক্ষতি হচ্ছে।’

ফ্যাসিলিটিজ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের জেলা সহকারী প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘স্কুল ভবনের কাজে কোনো দুর্নীতি হচ্ছে না। মুষলধারে বৃষ্টিতে কোনো ব্যক্তির ঘরের কাজ যদি হতে পারে। তাহলে সরকারি কাজে কেন বাধা থাকবে? এটা কোনো অনিয়ম না।’

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার বলেন, ‘বিষয়টি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দেখে জানানোর জন্য বলেছি। পরে বিষয়টি আমিও দেখব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা