kalerkantho

রবিবার । ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৭ রবিউস সানি                    

ব্যানার নিয়ে এএসপি-ইউএনও বাগবিতণ্ডা

বোয়ালখালীতে বাদলের শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠান

বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বোয়ালখালীতে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা-সংসদ সদস্য মঈনউদ্দিন খান বাদলের রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে পুলিশের ব্যানার টাঙানো নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের (এএসপি) মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়েছে। শনিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলা পরিষদের স্মৃতিসৌধের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার সন্ধ্যায় বোয়ালখালী উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে প্রয়াত সংসদ সদস্য বাদলকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা জানানোর জন্য উপজেলা প্রশাসন স্মৃতিসৌধের সামনে প্যান্ডেল তৈরি করে। এর চারপাশে উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা পরিষদসহ বিভিন্ন মহলের শোকব্যানার টাঙানো হয়। স্মৃতিসৌধের সামনে খালি স্থানে জেলা পুলিশের পক্ষ হতে একটি শোকব্যানার লাগানো হয়। এক পর্যায়ে ইউএনওর নির্দেশে উপজেলা প্রশাসনের কয়েকজন কর্মচারী ব্যানারটি খুলে ওই স্থানে উপজেলা প্রশাসনের ব্যানার লাগাতে যান। কিন্তু তাঁদের ব্যানারটি উপরে প্যান্ডেলের সঙ্গে পিন দিয়ে আটকানো থাকায় তাঁরা খুলতে পারেননি। সেখানে উপস্থিত চট্টগ্রাম এডিশনাল পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) আফরুজুল হক টুটুল যাঁরা ব্যানারটি খুলেছেন তাঁদের কাছে জানতে চান পুলিশকে না বলে কেন এটি খুলে ফেলা হয়েছে। এ সময় যাঁরা ব্যানারটি খুলেছেন তাঁদের নাম নোট করতে থানা পুলিশকে নির্দেশ দিলে ইউএনও এগিয়ে এসে তিনি খোলার নির্দেশ দিয়েছেন জানিয়ে কারণ হিসেবে বলেন, ‘এটি উপজেলা প্রশাসনের অনুষ্ঠান তাই ব্যনারাটি খুলে ফেলা হয়েছে।’

এর পর ইউএনওকে উদ্দেশ্য করে  অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, ‘আপনি বললে আমরাই ব্যানারটি খুলে আপনারটা লাগিয়ে  দিতাম।’ বিষয়টি নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। একজন  প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা ও সংসদ সদস্যের শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের দুই কর্মকর্তার এমন আচরণে উপস্থিত জনসাধারণের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মুক্তিযোদ্ধা বলেন, ‘একজন প্রয়াত সংসদ সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানাতে জেলা পুলিশ প্রতিনিধি দল বোয়ালখালীতে আসে। বাদল ভাইকে ভালোবেসে তারা একটি ব্যানার টাঙায়। জনসম্মুখে এভাবে ব্যানারটি খুলে ফেলা উপজেলা প্রশাসনের উচিত হয়নি।’

তবে বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আছিয়া খাতুন বলেন, ‘স্মৃতিসৌধের সামনে সংসদ সদস্যের কফিন রেখে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য জায়গাটি খালি রাখা হয়েছিল। তাই ব্যানারটি সরিয়ে নিয়ে অন্য কোথাও লাগাতে বলেছিলাম।’ বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তার এ ধরনের আচরণ অসৌজন্যমূলক বলে তিনি মনে করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) আফরুজুল হক টুটুল বলেন, ‘বাদল স্যারকে আমরা ভালোবেসে তাঁর মৃত্যুতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে শোক জানিয়ে একটি ব্যানার লাগিয়েছিলাম। ব্যানারটি না  বলে যে কেউ খুলে নিতে পারেন না! ইউএনও বললে আমরা নিজেরাই খুলে নিয়ে তাদেরটা লাগিয়ে  দিতাম। এটা পুলিশ  প্রশাসনের  প্রতি অশোভন আচরণ।’ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের আচরণ  দুঃখজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা