kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

জশনে জুলুসে জনস্রোত

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জশনে জুলুসে জনস্রোত

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রবিবার চট্টগ্রাম নগরে জশনে জুলুসে ভক্তের ঢল নামে। ছবি : কালের কণ্ঠ

যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদায় নানা আয়োজনে রবিবার পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপিত হয়েছে। দিবসটিতে নগরে সবচেয়ে বড় আয়োজন ছিল আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের জশনে জুলুস নামে ধর্মীয় শোভাযাত্রা। এতে ভক্তের ঢল নামে। ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এর কারণে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত উপেক্ষা করে ভোর হতে না হতেই জুলুসে অংশ নিতে ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদরাসা ময়দান ও এর আশপাশের এলাকা কানায় কানায় ভরে যায়। সকাল ১০টায় আওলাদে রাসুল (সা.), দরবারে সিরিকোটের সাজ্জাদানশীন আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহ্র নেতৃত্বে ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া সংলগ্ন আলমগীর খানকাহ্ শরিফ থেকে বের হয় জশনে জুলুস। সঙ্গে ছিলেন আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ কাসেম শাহ্ ও আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ হামিদ শাহ। জুলুসটি মুরাদপুর হয়ে চকবাজার, দিদার মার্কেট, আন্দরকিল্লা, প্রেস ক্লাব, কাজির দেউড়ি, ওয়াসা, জিইসি, মুরাদপুর হয়ে পুনরায় জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ময়দানে বিকেল আড়াইটায় ফিরে আসে। কাজির দেউড়িতে মঞ্চে বক্তব্য দেন সাহেবজাদা আল্লামা সৈয়দ

মুহাম্মদ কাসেম শাহ্, আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ হামিদ শাহ্ এবং পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান সুফি মিজানুর রহমান। এখানে দেশ, জাতি ও বিশ্ব মুসলিমদের শান্তি-কল্যাণ কামনায় মুনাজাত করেন আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহ্।

পরে জামেয়া ময়দানে মাহফিলে আরো বক্তব্য দেন আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের 'সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মহসিন, সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, সুফি মিজানুর রহমান, জেমস ফিনলের এম ডি আহমেদ কামরুল ইসলাম, সিডিএর সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, আনজুমান ট্রাস্টের এডিশনাল সেক্রেটারি ও জুলুস সাব-কমিটির আহবায়ক মোহাম্মদ সামশুদ্দিন, জয়েন্ট জেনারেল সেক্রেটারি মোহাম্মদ সিরাজুল হক প্রমুখ।

অ্যাডভোকেট মোছাহেব উদ্দিন বখতিয়ার ও মাওলানা হাফেজ আনিসুজ্জামান আলকাদেরীর সঞ্চালনায় মাহফিলে বক্তারা বলেন, রাসুলে পাক সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের চেয়ে আল্লাহর বড় কোনো নেয়ামত এ সৃষ্টি জগতে নেই। তাঁকে সৃষ্টি না করা হলে কিছুই সৃষ্টি করতেন না আল্লাহ। তাই, নবীজির শুভাগমনে ঈমানদাররা খুশিতে আজ আত্মহারা। বক্তারা জশনে জুলুস রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযানের দাবি জানান।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন : পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে খতমে কোরআন ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে। কে বি আবদুস সাত্তার মিলনায়তনে মিলাদ মাহফিলে দেশ-জাতির সমৃদ্ধি কামনা করে মুনাজাত করা হয়। উপস্থিত ছিলেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউক, হাজি নুরুল হক, সালেহ আহমদ চৌধুরী, মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, আনজুমান আরা বেগম, সাবেক কাউন্সিলর জালাল উদ্দিন ইকবাল, চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামসুদ্দোহা, প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল সোহেল আহমদ প্রমুখ।

মিলাদ মাহফিল পরিচালনা করেন মাদরাসা পরিদর্শক মাওলানা হারুণ-উর-রশিদ চৌধুরী। মুনাজাত করেন মাওলানা নুরুল হক আল কাদেরী।

খাগড়াছড়ি থেকে প্রতিনিধি জানান : জশনে জুলুস ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। খাগড়াছড়ি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের আয়োজনে খাগড়াছড়ি কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ মাঠ প্রাঙ্গণ থেকে জশনে জুলুস বের হয়। এটি জেলা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ঘুরে কেন্দ্রীয় ঈদগাহে্্ আলোচনাসভায় মিলিত হয়।

খাগড়ছড়ি পৌর মেয়র মো. রফিকুল আলমের সভাপতিত্বে সভায় আলোচনায় অংশ নেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাঈদ মোমেন মজুমদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান, খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শানে আলম, খাগড়াছড়ি শাহী জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. জাহেদুল আলম প্রমুখ। পরে মোনাজাত পরিচালনা করেন খাগড়াছড়ি শাহী জাম মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল নবী হক্কানী।

দীঘিনালায় পবিত্র ঈদ-ই মিলাদুন্নবী উপলক্ষে জশনে জুলুস বের করা হয়। দীঘিনালা উপজেলা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের উদ্যোগে কবাখালী আল আমিন এবতেদায়ি মাদরাসা মাঠ থেকে জুলুস শুরু হয়। উপজেলার থানা বাজার ঘুরে সড়ক ও জনপথ বিভাগের মাঠে গিয়ে শেষ হয় জুলুস। সেখানে মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা আসলাম উদ্দীন। বক্তব্য দেন মো. মাহবুব আলম, মাওলানা জহিরুল ইসলাম, মাওলানা কাউছার আহমেদ নুরী, মাওলানা সেলিম প্রমুখ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা