kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

গুইমারা উপজেলা এখনো ভবন পায়নি

প্রতিষ্ঠার ৪ বছর

দিদারুল আলম, গুইমারা (খাগড়াছড়ি)   

১০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



খাগড়াছড়ি জেলার নবম উপজেলা গুইমারা। প্রায় চার বছর আগে তিন ইউনিয়ন ও ৮০ হাজার বাসিন্দা নিয়ে গুইমারাকে উপজেলা ঘোষণা করে সরকার। আগামী ৩০ নভেম্বর প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরুর চার বছর পূর্তি হবে। এখনো নির্মিত হয়নি প্রয়োজনীয় অবকাঠামো। উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের জন্য শুধু কয়েকটি কক্ষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে গুইমারা ইউনিয়ন পরিষদের কমপ্লেক্সে। সেখানে স্বল্প পরিসরে চলছে উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম। ইউনিয়ন পরিষদের দোতলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যক্রম চললেও অনেক বিভাগের দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরুই হয়নি। কিছু দপ্তরের কার্যক্রম বিভিন্ন এলাকায় ভাড়াবাড়িতে চলছে।

অফিস না থাকায় একদিকে উপজেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাজে যেমন ব্যাঘাত ঘটছে অপরদিকে সাধারণ মানুষ এখনো জানে না উপজেলায় কোন অফিসে কী সেবা পাওয়া যায়। অতিরিক্ত দায়িত্ব নিয়ে অনেক কর্মকর্তা দাপ্তরিক কাজ ইউএনও অফিসে বসে কোনোভাবে সারেন। আবার একটি কক্ষে দুই-তিনজন কর্মকর্তাকে বসতে হয়। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের জন্য নেই কোনো অফিসের ব্যবস্থা। এ কারণে সেবার জন্য মানুষকে দৌড়াতে হয় তাঁদের বাড়িতে।

স্বাস্থ্য, কৃষি, ভূমিসহ অনেক সেবার জন্য মানুষকে এখনও দৌড়াতে হচ্ছে পার্শ্ববর্তী উপজেলা মাটিরাঙা, রামগড় ও মহালছড়িতে। এর ফলে কাঙ্ক্ষিত মৌলিক সেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে নতুন এই উপজেলাবাসী।

এদিকে গুইমারা সদর ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় চার বছর অতিবাহিত হলেও নিজেদের কাঙ্ক্ষিত নতুন কার্যালয়ে বসতে পারেননি তাঁরা।

সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যক্রম চলছে গুইমারা ইউনিয়ন পরিষদ সচিবের কক্ষে। পাশের আরেকটি কক্ষে চলছে উপজেলা মত্স্য বিভাগের কার্যক্রম। ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে কয়েকটি ছোট কক্ষে উপজেলা নির্বাচন অফিস, স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী বিভাগ ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়। এ ছাড়া অফিসের ব্যবস্থা না থাকায় একটি বাড়ি একটি খামার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস এবং উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা অফিস বিচ্ছিন্ন এলাকায় ভাড়াবাড়িতে থেকে কার্যক্রম চালাচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা দীর্ঘদিনেও গড়ে উঠেনি। উপযুক্ত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত উপজেলাবাসী। স্বাস্থ্যসেবার জন্য গভীর রাতে প্রসূতি মাকে নিয়ে ছুটতে হয় পাশের উপজেলায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক আশা নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের ভোট দিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু গুইমারার দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন তাঁরা করতে পারেননি।

উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা সুদৃষ্টি চাকমা বলেন, ‘একটি কক্ষে বসে পুরো দপ্তরের কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। উপজেলা হওয়ার পর আমরা পরিষদ ভবন পাইনি। এতে দাপ্তরিক কার্যক্রমের গোপনীয়তা রক্ষা করা যাচ্ছে না। আবার একটি কক্ষেই চলছে দুটি দপ্তরের কার্যক্রম। আর অফিস না থাকায় নির্বাচিত হয়েও জনগণকে সেবা দিতে পারছেন না নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা।’

গুইমারা সদর ইউপি চেয়ারম্যান মেমং মারমা জানান, গুইমারাবাসীর সেবার কথা ভেবেই তিনি নতুন ইউপি ভবনের কার্যালয়টি উপজেলা প্রশাসনের জন্য ছেড়ে দিয়েছেন। আগের জরাজীর্ণ কার্যালয়ে তিনি নিজের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ঝর্না ত্রিপুরা জানান, তাঁদের বসার জন্য কোনো অফিস নেই। নির্বাচিত হওয়ার পর নিজের কক্ষ বরাদ্দ পাননি। এজন্য জনগণকেও উপযুক্ত সেবা দিতে পারছেন না। ভবনের সংকটের কারণে উপজেলা গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিসগুলোর কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তুষার আহম্মেদ বলেন, ‘গুইমারাকে নতুন উপজেলা ঘোষণা করা হয়েছে চার বছর আগে। ভবন না থাকায় ইউনিয়ন পরিষদের ভবনে কাজ করতে হচ্ছে। ভবন সংকটের কারণে অফিসারদের বসার সমস্যাও হচ্ছে।’

ইউএনও জানান, উপজেলার প্রশাসনিক ভবনের জন্য প্রায় ৬ একর ভূমি অধিগ্রহণের কার্যক্রম চলছে। জমি অধিগ্রহণের জন্য প্রয়োজন ১৬ কোটি টাকা। জমি অধিগ্রহণের অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করা যায়নি। খুব সহসা সকল প্রক্রিয়া শেষে ভবনের কাজ শুরু হবে। ভূমি অধিগ্রহণের অর্থ ছাড় দেওয়ার পর দ্রুতই ভবনের কার্যক্রম করা হবে বলে তিনি জানান।

উপজেলা চেয়ারম্যান উশেপ্রু মারমা, চেয়ারম্যান বলেন, ‘নির্বাচিত হওয়ার পর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে কার্যক্রম চালাচ্ছি। বসার কোনো কার্যালয় পাইনি। ভূমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে জমি অধিগ্রহণে বিলম্ব হচ্ছে। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে।’ তবে চলতি অর্থবছরে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া যেতে পারে বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারের প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সম্পর্কিত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১০৯তম সভায় খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার হাফছড়ি, মহালছড়ির সিন্দুকছড়ি ও মাটিরাঙার গুইমারা ইউনিয়নকে নিয়ে ‘গুইমারা উপজেলা’ ঘোষণা করা হয়। ৪ সেপ্টেম্বর গেজেট প্রকাশ হওয়ার পর একই বছরের ৩০ নভেম্বর গুইমারা ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনে গুইমারা উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা