kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’

উপকূলে আতঙ্কের পাশাপাশি প্রস্তুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



উপকূলে আতঙ্কের পাশাপাশি প্রস্তুতি

চট্টগ্রাম নগরের নতুন ফিশারিঘাটে নিরাপদ আশ্রয়ে মাছধরা নৌকা (বাঁয়ে) এবং বাঁশখালী উপকূলে বাসিন্দাদের ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যেতে মাইকিং। ছবি : কালের কণ্ঠ

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এর প্রভাবে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছেন উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দারা। গতকাল শনিবার সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ও তত্সংলগ্ন এলাকায় ৯ নম্বর মহাবিপদ সঙ্কেত দেখাতে বলা হয়। এর পরপরই উপকূলীয় এলাকার লোকজনকে সরাতে জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, রেডক্রিসেন্ট একযোগে জেলা ও নগরের উপকূলীয় এলাকায় মাইকিং কার্যক্রম চালায়।

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ ভয়ঙ্কর রূপ নিয়ে বাংলাদেশ উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে-এমন ঘোষণার পর উপকূলীয় এলাকার লোকজন ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটতে শুরু করেন।

উপকূলীয় এলাকার এসব লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখতে চট্টগ্রামে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের ৪৭৯টি আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়াও ২ হাজার ২৬৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ১ হাজার ২৫০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৮ লাখ মানুষ আশ্রয় নিতে পারবেন।

এ ছাড়া সম্ভাব্য দুর্যোগে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অধিদপ্তরের বরাদ্দকৃত ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা জিআর ক্যাশ, ৩৪৯ মেট্রিক টন জিআর চাল, ৬৮১ বান্ডেল ঢেউটিন, ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ৫০০ তাঁবু প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন।

২৮৪ মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত : ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের দুর্যোগ মোকাবিলায় চট্টগ্রাম জেলা ও বিভিন্ন উপজেলায় ২৮৪টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। উপজেলার প্রত্যেক হাসপাতালে জরুরি বিভাগ খোলা রাখা হয়েছে।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকী জানিয়েছেন, চট্টগ্রামে ২৮৪টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ উপজেলায় ৫টি করে ৭০টি, ২০০ ইউনিয়নে ১টি করে মোট ২০০টি, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ৫টি এবং নগরে আরও ৯টি আরবান ডিসপেনসারি টিম গঠন করে তাদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

প্রতিটি টিমে ডাক্তার, নার্স, ফার্মাসিস্ট মিলিয়ে তিনজন করে সদস্য রাখা হয়েছে। মোট ৮৫২ জন টিমের সদস্যকে সম্ভাব্য দুর্যোগসহ যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার জন্য বলা হয়েছে। এ ছাড়া ২ লাখ পানি বিশুদ্ধকরণ ওষুধ এবং সাড়ে ৪ লাখ ওরস্যালাইন ও জরুরি ওষুধ মজুদ আছে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন।

সিইপিজেড ও কেইপিজেডে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ : ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে সম্ভাব্য ঝুঁঁকি এড়াতে গতকাল চট্টগ্রাম ইপিজেড ও কর্ণফুলী ইপিজেডের শ্রমিকদের নির্ধারিত সময়ের আগেই ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দুর্যোগ মোকাবিলায় শুক্রবার রাত থেকেই দুই ইপিজেডে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

চট্টগ্রাম ইপিজেডের মহাব্যবস্থাপক খুরশিদ আলম ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও বেপজার নিজস্ব টিম প্রস্তুত রাখার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘আজ (শনিবার) শ্রমিকদের নির্ধারিত সময়ের আগেই ছুটি দিতে কারখানা কর্তৃপক্ষকে মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রবিবার পবিত্র মিলাদুন্নবী উপলক্ষে সরকারি বন্ধ। বেশির ভাগ কারখানা ছুটি থাকবে। কিন্তু যেসব কারখানায় শিপমেন্টের চাপ রয়েছে এমন কিছু কারখানা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে তাও নির্ভর করবে ঘূর্ণিঝড়ের গতি প্রকৃতির ওপর।’ যেসব কারখানায় ওভারটাইম চালু আছে গতকাল সেগুলোও বাতিল করা হয়েছে। চট্টগ্রাম ইপিজেডে চালু থাকা ১৭১টি কারখানায় বর্তমানে দুই লক্ষাধিক শ্রমিক কাজ করছে।

পতেঙ্গা কর্ণফুলীর পাড় এলাকায় অবস্থিত কর্ণফুলী ইপিজেডেও ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কন্ট্রোল রুম খোলার পাশাপাশি কারখানাগুলোর নিচতলার দরকারি মালামাল ও মেশিনারিজ নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে কর্ণফুলী ইপিজেডের মহাব্যবস্থাপক মশিউদ্দিন বিন মেজবাহ বলেন, ‘নদী তীরবর্তী বলে এই ইপিজেডে বেশি জোয়ার হলেই পানি ঢোকে। যেসব কারখানায় নির্মাণকাজ চলছে সেগুলোর মালামাল সরিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে।’ এই ইপিজেডে চালু থাকা ৪৫টি কারখানায় কর্মরত আছে প্রায় ৮০ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিক।

নোয়াখালী থেকে প্রতিনিধি জানান : জেলা প্রশাসন সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। উপকূলীয় উপজেলা হাতিয়া, সুবর্ণচর ও কোম্পানীগঞ্জের লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়ার জন্য রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবক দলকে সতর্ক রাখা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে জনগণকে নিরাপদে আশ্রয়ে নেওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়।

তিন উপজেলার ৬২৪০ জন স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উপকূলীয় উপজেলাগুলোতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ওষুধসহ ১১টি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত আছে। ৩৪৫টি আশ্রয়কেন্দ্র জনগণের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। শনিবার দুপুর ২টার পর থেকে হাতিয়ার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে লোকজন আসতে শুরু করেন। আশ্রয়কেন্দ্রে পানি ও শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস জানান, প্রতিটি উপকূলীয় উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে সকল প্রকার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

হাতিয়া উপজেলায় স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে গত রাতে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বেড়িবাঁধের বাইরের লোকজন পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। জেলা সদরের সঙ্গে হাতিয়ার সকল নৌ-যোগাযোগ গতকাল বিকেল থেকে বন্ধ রয়েছে।

সন্দ্বীপ (চট্টগ্রাম) থেকে প্রতিনিধি জানান : ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। দ্বীপের উপকূলবর্তী মানুষের জন্য ১১০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে খাবার পানি, স্যালাইন, ওষুধ ও শুকনো খাবার।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিদর্শী সম্বোধী চাকমা বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় সব রকমের প্রস্তুতি আমরা গ্রহণ করেছি। নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সার্বিক পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’

সিপিপির পরিচালক নজরুল ইসলাম জানান, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সিপিপির ১৪৬ ইউনিটে পুরুষ ১৪৬০ ও মহিলা ৭৩০ কর্মী নিয়োজিত আছেন। 

পটিয়া (চট্টগ্রাম) থেকে প্রতিনিধি জানান : উপজেলা প্রশাসন ১৩টি আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়াও ১৫২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২৩টি মাদরাসা ও ৪৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রস্তুত করা হয়েছে। ১৮টি মেডিক্যাল টিম, ২০০০টি পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে ৩০ সদস্যবিশিষ্ট ১৫৩টি স্বেচ্ছাসেবক টিম, প্রতিটি স্কুলের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের সমন্বয়ে ২২২টি স্বেচ্ছাসেবক টিম, এনজিওদের নিয়ে ৩০ সদস্যবিশিষ্ট ৩টি স্বেচ্ছাসেবক টিম ও ২১টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি ছুটি বাতিল করে সকল শ্রেণির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল হাসান জানান।

তিনি জানান, স্থায়ী সাইক্লোন শেল্টার ছাড়াও অস্থায়ী ভিত্তিতে বিভিন্ন স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র ঘোষণা করা হয়েছে। সজাগ রাখা হয়েছে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতিসহ কমিটির সদস্যদের।

শনিবার বিকেলে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবেলায় উপজেলার সকল বিভাগীয় কর্মকর্তা বিএনসিসি, স্কাউট এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের সভা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সকলকে দুর্যোগ মোকাবিলায় একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) থেকে প্রতিনিধি জানান : উপকূলীয় ইউনিয়ন রায়পুর, জুঁইদণ্ডি, বারশত, বরুমচড়া, বারখাইন ইউনিয়ন ও আনোয়ারার নিম্নাঞ্চলের দুই লক্ষাধিক মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন থেকে মেডিক্যাল টিম, ৭৫০ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রয়েছেন। ৫৯টি সাইক্লোন সেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তাছাড়া উপজেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।

উপকূলীয় এলাকা রায়পুর, গহিরা, সরেঙ্গা, দক্ষিণ গহিরা, চুন্নাপাড়া, জুঁইদণ্ডী, খুরুশকূল, পারকি ও বারশত এলাকার মানুষ ভীতি ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে নিকটাত্মীয় ও নিরাপদ স্থানে চলে গেছেন। রায়পুর ইউনিয়নের রেডক্রিসেন্ট কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল সোহান শনিবার বিকেলে জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করলেও দিনে অধিকাংশ মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে যাননি।

রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানে আলম জানান, ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় মানুষকে সচেতন করতে সকাল থেকেই মাইকিং ও নানা ধরনের প্রচার চালানো হয়েছে। ইউনিয়নের অর্ধলক্ষ মানুষ ঝুঁকিতে বসবাস করছেন। ঝুঁকি এড়াতে পরিষদের পক্ষ থেকে ১০০ কর্মী মাঠে আছেন।

জুঁইদণ্ডি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোরশেদুল আলম খোকা জানান, ঠিকাদারের নানা অনিয়ম ও অবহেলায় সময়মতো বেড়িবাঁধের মাটির কাজ ও ব্লক ডাম্পিং না করার কারণে ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ড অরক্ষিত আছে। ঝুঁকিতে বসবাস করছেন বাসিন্দারা।

আনোয়ারা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জামিরুল ইসলাম জানান, উপজেলা কন্ট্রোল রুম থেকে উপকূলীয় ইউনিয়নগুলোতে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ জোবায়ের আহমদ জানান, চট্টগ্রামে সবচেয়ে ঝুঁকিতে আছেন আনোয়ারা উপকূল। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে উপজেলার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। সব মসজিদের মাইকে প্রচার, প্রতিটি ইউনিয়নে সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রচার, মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত থাকা, বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবার প্রস্তুত রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

উপজেলা চেয়ারম্যান তৌহিদুল হক চৌধুরী জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবেলায় উপজেলা পরিষদ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জনপ্রতিনিধিরা নিজ নিজ এলাকায় কাজ করে যাচ্ছেন।

কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) থেকে প্রতিনিধি জানান : স্কুল-কলেজ মাদরাসা মিলিয়ে ৫৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কর্ণফুলী নদীর সকল মাছ ধরার ছোট-বড় নৌকাগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

উপজেলার মানুষদের সতর্কীকরণ ও নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য জনপ্রতিনিধি ও সিপিপির  স্বেচ্ছাসেবকরা মাইকিং করেন। ঝুঁকিপূর্ণ স্থান ত্যাগ করে নিরাপদে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য জোর প্রচারণা চালানো হয়। মাছ ধরা ট্রলার ও নৌকাগুলো কর্ণফুলীর শিকলবাহা খালের মুখে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে। উপজেলার বড়উঠান, শিকলবাহা, জুলধা, ডাঙারচর, দক্ষিণ শাহমীরপুর, চরপাথরঘাটা, ইছানগর ও খোয়াজনগরসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে আসা মানুষদের জন্য শুকনো খাবার, চিড়া, মুড়ি, গুড়, কলা, পাউরুটিসহ খাবার স্যালাইন ও বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করেছে উপজেলা প্রশাসন।

চরলক্ষ্যার সিপিপির স্বেচ্ছাসেবক কর্মী আবদুল মাবুদ বাবুল বলেন, ‘আমরা শুক্রবার থেকে বিভিন্ন স্থানে সতর্কীকরণ ও নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য সিপিপির পক্ষ থেকে মাইকিং করে নিরাপদে আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য জোর প্রচারণা চালাচ্ছি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ৫৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া আশ্রয়কেন্দ্রে আসা মানুষদের জন্য শুকনো খাবার, চিড়া, মুড়ি, গুড়, কলা, পাউরুটিসহ খাবার স্যালাইন, বিশুদ্ধ খাবার পানিসহ স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করেছে উপজেলা প্রশাসন।’

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) থেকে প্রতিনিধি জানান : প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চৌধুরী মোহাম্মদ গালিব সাদলী বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীকে বিভিন্ন পরামর্শ ও নির্দেশনা দিয়েছেন। ১০২টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। উপকূলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীরা এসব আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিলেও অর্থশালী পরিবারগুলো আশ্রয় নিচ্ছে উপজেলা সদরে বিভিন্ন আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে। উপকূলের ১০ ইউনিয়নে বাংলাদেশ দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূূচির (সিপিপি) ১ হাজার ৬৫ জন স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী মাইকিং করেন। গতকাল বেলা ৩টায় বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোমেনা আক্তার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের সকল কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন।

তিনি বলেন, ‘জনগণের যেকোনো দুর্যোগ প্রশমনে কর্মকর্তাদের একযোগে মাঠে থাকতে হবে। কোনো কর্মকর্তার দায়িত্ব অবহেলা সহ্য করা হবে না।’

ইউএনও বলেন, ‘দুর্যোগ মোকাবিলা করতে বাঁশখালীতে সকল স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মীবাহিনী সতর্ক রয়েছেন। প্রত্যেক ইউনিয়নে জনপ্রতিনিধিরাও মাঠে রয়েছেন।’

চট্টগ্রাম ঈশা খাঁ নৌঘাঁটিতে গতকাল নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজে দুর্গতদের জন্য প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী মজুদ করা হয়।      ছবি : আইএসপিআর

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা