kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বাঁশখালীতে স্বামী হত্যার মামলা করায় বিধবাকে প্রাণনাশের হুমকি

খুনিরা হত্যা মামলা না করার শর্তে চার শতক জমি দিতে চেয়েছিল

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পূর্ব পুঁইছড়ি গ্রামে স্বামী হত্যার মামলা করায় জান্নাতুল ফেরদৌস (৩৫) নামে এক অসহায় বিধবাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে আসামিরা। আর এ জন্য প্রয়োজন হলে ওই নারীসহ তাঁর শিশুসন্তানকে কোটি টাকা খরচ করে হত্যা করা হবে বলে প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে খুনিরা।

জানা গেছে, গত ২৪ অক্টোবর বাঁশখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাঈনুল ইসলামের আদালতে স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে মামলা করেন জান্নাতুল ফেরদৌস। মামলা সূত্রে জানা যায়, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত ১৯ জানুয়ারি জান্নাতুল ফেরদৌসের স্বামী রাজা মিয়াকে নিজ বাড়ির উঠানে হত্যা করেন ওয়ার্ড জামায়াতের আমির জাফর আহমদ, নুরুল আলম ও মোস্তাক নামে তিন ব্যক্তি। পরে ঘটনা জানাজানি হলে খুনিরা প্রভাবশালী মহলকে দিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় খুনিরা হত্যা মামলা না করার শর্তে জান্নাতুল ফেরদৌসকে চার শতক জমি কবলা করে দিতে রাজি হয়। আর এ জন্য খুনিদের সঙ্গে জান্নাতুল ফেরদৌসের করা ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পের চুক্তিতে সাক্ষী হন স্থানীয় দুই ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (ইউপি) ফেজুল কবির ফজু ও এম খাইনে আলম চৌধুরীসহ ছয়জন। এর ঠিক এক দিন পরই রাজা মিয়ার স্বাভাবিক দাফন সম্পন্ন হয়।

মামলা সূত্রে আরো জানা যায়, ঘটনার আট মাস পেরিয়ে গেলেও খুনিরা জান্নাতুল ফেরদৌসকে জায়গা কবলা করে দেননি। বরং হত্যার উদ্দেশ্যে নানা চক্রান্ত করে জান্নাতুল ফেরদৌসের ওপর হামলা করতে শুরু করে। এরই অংশ হিসেবে গত ৩ সেপ্টেম্বর জান্নাতুল ফেরদৌস ও তাঁর অবুঝ শিশুসন্তানকে মারধর করে খুনিরা। পরে জান্নাতুল ফেরদৌস স্থানীয়ভাবে এ ঘটনা মীমাংসা করার চেষ্টা করেন। এতে তিনি ব্যর্থ হয়ে গত ২৪ অক্টোবর আদালতে ধারা ৩০২/৪৪৭/৫০৬(২)/৩৪ দণ্ডবিধিতে মামলা নম্বর সি আর ৫২১/১৯ দায়ের করেন। পরে আদালত মামলাটি সিআইডিকে তদন্ত করার নির্দেশ দেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘মামলার পর থেকেই খুনিরা আমাকেসহ আমার সন্তানকে হত্যা করার হুমকি দিচ্ছে। আর এ জন্য তারা কোটি টাকা খরচ করবে বলেও প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছে। প্রয়োজনে আমাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দিচ্ছে।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য ফৌজুল কবির ফজু বলেন, ‘জামায়াত নেতা জাফর আহমদসহ প্রভাবশালী খুনিদের প্রকাশ্য হুমকি-ধমকিতে ওই দরিদ্র বিধবা, মামলার সাক্ষী, সাহায্যকারী প্রতিবেশী ও আমরা জনপ্রতিনিধিরা হুমকিতে আছি।’

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির উপপরিদর্শক আবছার আহমদ বলেন, ‘মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। আদালতে আবেদন করে সুষ্ঠু বিচারের স্বার্থে রাজা মিয়ার লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত করা হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা