kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

চট্টগ্রাম বন্দরে বন্ধ পণ্য স্থানান্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’-এর প্রভাবে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে সাগর প্রচণ্ড উত্তাল থাকায় বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে (লাইটার) পণ্য স্থানান্তর বন্ধ আছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব অ্যালার্ট-৩ জারি করেছে। নির্দেশনা অনুযায়ী বন্দর জেটিতে থাকা সব জাহাজ আজ শনিবার সকালের মধ্যেই বহির্নোঙরে চলে যাবে। জেটিতে পণ্য ওঠানামার কাজ পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। আর বহির্নোঙরে থাকা সব ধরনের জাহাজ ইঞ্জিন চালু রাখবে, যাতে বাতাসের তোড়ে যেকোনো ঝুঁকি এড়ানো যায়।

চট্টগ্রাম বন্দরের ডেপুটি কনজারভেটর ক্যাপ্টেন ফরিদুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আবহাওয়া দপ্তর ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের জন্য ৬ নম্বর বিপত্সংকেত দেখানোর পর থেকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব অ্যালার্ট-৩ জারি করেছে। এর আগে ২ নম্বর অ্যালার্ট ছিল।’

ক্যাপ্টেন ফরিদ বলেন, ৩ নম্বর অ্যালার্টের ফলে আজ সকাল সাড়ে ৬টা থেকে বন্দর জেটিতে থাকা ১৮টি জাহাজ পণ্য ওঠানামা বন্ধ রেখে বহির্নোঙরে চলে যাবে। সকাল ৯টার মধ্যে ওই কাজ সম্পন্ন হবে। আর বহির্নোঙরে থাকা ১৪৯টি জাহাজকে ইঞ্জিন চালু রেখে সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, নতুন নির্দেশনার পর থেকে কর্ণফুলীতে থাকা সব ধরনের জাহাজকে কর্ণফুলী সেতুর উজানে চলে যাওয়ার নির্দেশনা কার্যকর করা হয়েছে। ৯০ শতাংশ জাহাজ নিরাপদে চলে গেছে। বাকি জাহাজগুলো রাতের মধ্যে চলে যাবে।

গতকাল শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে বন্দর কর্তৃপক্ষ করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে জরুরি বৈঠকে বসে সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছে। তখন আবহাওয়া অধিদপ্তরের স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত ৩ নম্বরে থাকায় বন্দর কর্তৃপক্ষও নিজস্ব অ্যালার্ট-২ জারি করেছিল। পরে সন্ধ্যায় আবহাওয়ার বিপত্সংকেত বাড়িয়ে ৬ নম্বরে উন্নীত করায় বন্দরের অ্যালার্টও বাড়িয়ে ৩ নম্বরে উন্নীত করা হয়।

এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে গতকাল সকাল থেকে চট্টগ্রাম নগরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। আকাশে সূর্যের দেখা মেলেনি।

ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকার অধিবাসীদের সাইক্লোন শেল্টারে যাওয়ার অনুরোধ করেছে প্রশাসন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নান কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। উপকূলীয় এলাকার সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের গাড়ি, শ্রমিক ও সেবকদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবী দল, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ প্রশাসন জরুরি প্রস্ততি সভা করে করণীয় নির্ধারণ করেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা