kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

দিশাহারা সীতাকুণ্ডের খামারিরা

ল্যাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত ৯ হাজার গরু

সৌমিত্র চক্রবর্তী, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)   

৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দিশাহারা সীতাকুণ্ডের খামারিরা

সীতাকুণ্ডে লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত গরু। ছবি : কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে গরুর ল্যাম্পি স্কিন রোগ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। গত দুই সপ্তাহে অন্তত ৯ হাজার গরু এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে এ উপজেলায়। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ রোগের কোনো স্থায়ী চিকিৎসা নেই বাংলাদেশে! এর পরও প্রচলিত কিছু চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় গরু নিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন গরুর মালিকরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন স্থানে গরুর শরীরে ফোলাসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। লক্ষণগুলো গরুর মালিকদের কাছে অচেনা মনে হওয়ায় তাঁরা রোগ মুক্ত করতে বিভিন্ন পশু চিকিৎসক ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে ছুটছেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বেশির ভাগ গরুই ল্যাম্পি স্কিন রোগাক্রান্ত হয়েছে বলে ডাক্তাররা নিশ্চিত করেছেন। চিকিৎসকরা রোগাক্রান্ত গরুগুলোকে অ্যন্টিবায়োটিক ও ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু এতে সন্তুষ্ট হতে পারছেন না গরুর মলিকরা। এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন দুগ্ধ খামারিরা।

এ রোগে আক্রান্ত গরু নিয়ে বেকায়দায় পড়া সীতাকুণ্ডের বারৈয়ারঢালা ইউনিয়নের টেরিয়াইল এলাকায় গরুর খামারি মোহাম্মদ রাসেল জানান, তাঁর খামারে ২২টি গরু রয়েছে। সপ্তাহখানেক আগে একটি গরুর গায়ে কিছু ফোলা লক্ষণ দেখতে পান তিনি। এরপর গরুটিকে নিয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কাছে যান।

তাঁকে গরু দেখানোর পর তিনি বলেন, এটি ল্যাম্পি স্কিন রোগ। কিন্তু এ রোগের কোনো ওষুধ বাংলাদেশে নেই! তবে তিনি কিছু অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ দিয়েছেন যেন রোগটি আরো বেশি ছড়িয়ে পড়তে না পারে। এ সময় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আক্রান্ত গরুটিকে আলাদা করে মশারির ভেতর রাখাসহ বেশ কিছু পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, আক্রান্ত গরুটি আলাদাভাবে রাখার পরও গত সোমবার থেকে আরো তিনটি গরু এ রোগে আক্রান্ত হয়। এখন ওপরওয়ালার দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কিছু করা নেই মন্তব্য করে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন তিনি।

একইভাবে উপজেলার ছোটদারোগাহাট এলাকার বাসিন্দা তাজুল ইসলাম জানান, গত ১০-১২ দিন আগে তাঁর গরুর পেটের মধ্যে একটি ফোলা দেখতে পান। ভেবেছিলেন শিশুদের ঢিলের আঘাতে ফুলে গেছে। এক দিন পর দেখেন সমস্ত শরীরে গোটা আকারের ফোলা হয়ে গেছে। এখন তিনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়ে জানতে পারেন এটি ল্যাম্পি স্কিন রোগ।

বারআউলিয়া এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলামের গরুর পেছনের একটি পা ফুলে গেছে। গলার নিচে পানি জমে বড় একটি থলের মতো হয়ে গেছে। কয়েক দিন ধরে গরু তেমন খাচ্ছে না। এভাবে সমগ্র উপজেলায় অসংখ্য গরু রোগাক্রান্ত হয়ে পড়েছে। এতে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার গরুর মালিক।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে গেলে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উপসহকারী কর্মকর্তা মোখতার আহমেদ হঠাৎ এ উপজেলায় গরুর ল্যাম্পি স্কিন রোগ ছড়িয়ে পড়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ল্যাম্পি স্কিন রোগটি এলএসডি নামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। মশা-মাছির মাধ্যমে এটি দ্রুত ছড়ায়। এ রোগে আক্রান্ত গরুকে কামরানোর পর মশা-মাছি অন্য গরুকে কামড়ালে সেই গরুটিও আক্রান্ত হচ্ছে। এভাবে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, এই রোগটি বাংলাদেশে নতুন। এখনো এর তেমন কোনো ওষুধ এখানে আসেনি। তবে রোগটি দ্বিতীয় ধাপে যাতে না ছড়ায় সে জন্য আমরা আক্রান্ত গরুকে কিছু অ্যান্টিবায়োটিক ও ব্যথানাশক ওষুধ দিয়ে থাকি। এরপর গরুর মালিকদের খামার পরিষ্কার রাখা, গরু মশারির মধ্যে রাখাসহ নানা পরামর্শ দিয়ে থাকি। তিনি আরো বলেন, এ উপজেলায় মোট ১০৬টি খামারসহ উপজেলার ব্যক্তিপর্যায়ে ৯৬ হাজার গরু আছে। এর মধ্যে ১০ শতাংশের মতো গরু এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে বলে তাঁরা ধারণা করছেন। তবে এখনো পর্যন্ত এ রোগে কোনো গরু মারা যায়নি বলে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা জানান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা