kalerkantho

শনিবার । ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৬ রবিউস সানি               

নতুন আইন

গণপরিবহন কম, যাত্রীদের দুর্ভোগ

এস এম রানা, চট্টগ্রাম   

৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নতুন সড়ক পরিবহন আইন কার্যকর হওয়ার পর ফিটনেসবিহীন যানবাহন মালিক ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের মধ্যে বিপুল অঙ্কের জরিমানার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ কারণে সড়কে কমে গেছে গণপরিবহন। মালিক সংগঠনগুলোর পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আইনি লড়াইয়ের উদ্দেশ্যে উচ্চ আদালতে রিট আবেদনের প্রস্তুতি নিচ্ছে পরিবহন সংগঠনগুলো। এ ছাড়া বিআরটিএ ঘেরাও কর্মসূচির মতো আন্দোলনেও যেতে চায় সংগঠনগুলো।

তবে নগর ট্রাফিক পুলিশ বলছে ভিন্ন কথা। উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-বন্দর) মো. তারেক আহম্মেদ বলেন, ‘সরকার নতুন আইন কার্যকর করেছে। পুলিশের দায়িত্ব আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া। কিন্তু পুলিশের উচ্চ পর্যায় থেকে ট্রাফিক পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, নতুন আইন সম্পর্কে আগে যানবাহন মালিক, চালক, শ্রমিক, পথচারীসহ জনসাধারণকে সচেতন করে তোলতে। জনসচেতনতা বাড়ার পরই আইন প্রয়োগ শুরু হবে।’

এদিকে বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুদিন নগরে গণপরিবহন কম চলাচল করেছে। এতে সাধারণ যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন। এতে নগরে তীব্র যানজট দেখা যায়নি। তবে যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। এমন বাস্তবতায় ট্রাফিক সার্জেন্টরা বলছেন, নগরে বিপুলসংখ্যক গাড়ি চলে যেগুলোর ফিটনেস নেই। ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও লাইসেন্স ছাড়া চালকেরা সড়কে না নামলে সড়কে দ্রুতই শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।

ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এখনো নতুন আইনে মামলা দেওয়া কিংবা জরিমানা আদায় শুরুই হয়নি। অহেতুক আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে জনসচেতনতা সৃষ্টির পর আইন প্রয়োগ শুরু হবে। তাই ফিটনেসবিহীন গাড়ি এবং লাইসেন্সবিহীন চালকেরা এই সময়ের মধ্যেই নিজেদের সমস্যা সমাধান করতে পারবেন। বিআরটিএ সংশ্লিষ্ট কাজগুলো এই সময়ের মধ্যে করে নিলে ট্রাফিক পুলিশকে মামলা দেওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। আর মামলা না দিলে জরিমানা কিংবা জেলে যাওয়ার আতঙ্কও থাকবে না।

পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা বলছেন, ফিটনেসবিহীন গাড়ির জরিমানা অনধিক ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে নতুন আইনে। কিন্তু ন্যূনতম জরিমানা উল্লেখ করা হয়নি। এই আইন অত্যন্ত কঠোর হয়েছে।

পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের এমন বক্তব্য খণ্ডন করে ট্রাফিক উপ-কমিশনার মো. তারেক আহম্মেদ বলেন, ‘ফিটনেসবিহীন গাড়িকে নতুন আইনে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করার কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি।’

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার সচেতনতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে জেলা ট্রাফিক পুলিশ যৌথসভা করেছে। এতে এসব সমস্যার কথা ওঠে আসে। সভার প্রধান অতিথি রেঞ্জ ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে আইন মেনে চললে ট্রাফিকের মামলা দেওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। আর মামলা না হলে জরিমানাও দেওয়া লাগবে না।’ জেলা পুলিশ সুপার নুরেআলম মিনা বলেন, ‘নতুন আইন কার্যকর হয়েছে। কিন্তু মামলা দেওয়ার কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম শেষে কেবল আইন প্রয়োগ শুরু হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা