kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বোয়ালখালী

মাদক কারবার থামছে না

কাজী আয়েশা ফারজানা, বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম)   

২৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বোয়ালখালীতে মাদক কারবার থামছে না। নানা কৌশলে ঢুকছে ইয়াবা। এগুলো হাত বদল হয়ে উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। এ ব্যাপারে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ জনগণের মাঝে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

জানতে চাইলে বোয়ালখালী  থানার  ভারপ্রাপ্ত  কর্মকর্তা  (ওসি) শেখ মোহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহ কালের কণ্ঠকে  বলেন, ‘পুলিশের অভিযানে বোয়ালখালীতে মাদক কারবার অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে কেন মাদক কারবার  থামছে না সেটা বলা কঠিন। অভিযান অব্যাহত  রয়েছে।’

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বোয়ালখালীর পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি পথে প্রতিদিন ঢুকছে হাজার হাজার লিটার চোলাই মদ। এগুলো স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে পাচার হয় চট্টগ্রাম নগর ও পাশের উপজেলায়। পার্বত্য জেলা বান্দরবান, রাজস্থলী ও

রাঙ্গুনিয়ার বাঙালহালিয়ার পাহাড়ি জনপদে মদ তৈরি করা হয়। প্রতি বিকেলে উপজাতি শ্রমিকরা বোয়ালখালী সীমান্তে নিয়ে আসে মাদকের চালান। উপজেলার শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের সূর্যব্রত মেলার পাহাড়ি এলাকা, আমুচিয়ার জামতল ও গুচ্ছগ্রাম, কড়লডেঙা, জ্যৈষ্ঠপুরা আবাসন প্রকল্প এলাকা ও মৌলভী  বাজারের পাহাড়ি স্থান দিয়ে এসব মদ বোয়ালখালীতে ঢুকে বলে স্থানীয়রা জানান। এগুলো কারবারিরা প্লাস্টিকে জারে করে বিক্রি করে। খুচরা ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন স্থানে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পুলিশের অভিযানের মুখে দাম বেড়ে বর্তমানে প্রতিলিটার মদ বিক্রি হয় ২৫০ টাকায়। প্রতিদিন এখানে প্রায় ৮ হাজার লিটার মদ বেচাকেনা হয়। সেই হিসাবে বোয়ালখালীতে দিনে ১০ লক্ষাধিক টাকার মাদকের কারবার হয়।

এদিকে মদের সঙ্গে নানা কায়দায় আসছে ইয়াবা। কর্ণফুলী নদীপথে এবং বোয়ালখালী-পটিয়া সীমান্ত দিয়ে বালুভর্তি নৌকা, ট্রাক, ডাম্পারসহ বিভিন্ন যানবাহনে ইয়াবার চালান ঢুকছে। আর বোয়ালখালীতে ইয়াবা কারবারকে কেন্দ্র করে সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে। বাড়ছে সামাজিক অপরাধ। বাধা দেওয়ায় ইয়াবা কারবারির গুলিতে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন খিতাপচর গ্রামের মো. রফিকের ছেলে গিয়াস উদ্দিন কাদের। নির্বিঘ্নে  কারবার চালিয়ে যেতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, এলাকার জনপ্রতিনিধি, কতিপয় সাংবাদিককে মাসোহারা দেওয়া হয় বলে জানান একাধিক মাদক কারবারি।

জানা গেছে, বোয়ালখালীতে শতাধিক মাদক কারবারি থাকলেও থানায় ৪৭ জনের তালিকা রয়েছে। এতে  আছে কতিপয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতার নাম। এঁদের বিরুদ্ধে রয়েছে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে করা একাধিক মামলা। কিন্তু তাঁদের গ্রেপ্তার করে না পুলিশ। উপজেলা প্রশাসনের অপরাধ বিষয়ক অনেক সভায় এঁদের অনেককে মাদকবিরোধী বক্তব্য দিতেও দেখা যায়। মাঝে-মধ্যে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে ধরপাকড় হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা মাদক কারবারির মূল হোতারা। মাদক নির্মূলে প্রশাসনের কড়া নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে বলে সচেতন মহলের অভিমত।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা