kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

চট্টগ্রামে আবার সচল গণপরিবহন

‘চাপ’ দিতে গিয়ে উল্টো বিপাকে মালিক-শ্রমিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চট্টগ্রাম নগরে পূর্বঘোষণা ছাড়াই গণপরিবহন বন্ধ রেখে ‘দাবি আদায়ে প্রশাসনকে চাপ’ দিতে গিয়ে উল্টো বিপাকে পড়েছে মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো। ২৪ ঘণ্টা না যেতেই গাড়ি চলাচল আবার শুরু হয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত একটি বাসের মালিক, চালক ও সহকারীর মুক্তির দাবিতে গত সোমবার সকাল ৬টা থেকে নগরজুড়ে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ করে দেন মালিক-শ্রমিকরা। ওই দিন রাতে বৈঠক করে ধর্মঘটের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছিলেন নগর ও জেলা বিভিন্ন গণপরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। ওই তিনজনকে মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন তাঁরা।

কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে আবার গাড়ি চলাচল শুরু হয়েছে।

সকাল ৬টার আগ থেকে নগরে গণপরিবহন চলাচল শুরু করে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরো বেড়ে যায়। তবে পরিবহন মালিক সংগঠনের নেতারা বলেছেন, দুপুর ১২টার পর গাড়ি চলাচল শুরু হয়।

অনেকে বলছে, এ রকম ঘোষণা দিয়ে সংগঠনগুলো প্রশাসনের কাছ থেকে নিজেদের ‘অনৈতিক দাবি’ আদায়ের চেষ্টা করেছিল।

জানা গেছে, সোমবার রাতের ওই সভায় পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের সবাই ছিল না। প্রশাসনকে চাপ দিতে গিয়ে উল্টো নিজেরাই চাপে পড়ে গতকাল একপর্যায়ে রাস্তায় গাড়ি নামাতে বাধ্য হন বলে একাধিক মালিক ও শ্রমিক নেতা জানান।

গত রবিবার দুপুর ১২টায় নগরের বহদ্দারহাট এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত ত্রুটিপূর্ণ একটি বাসের মালিককে ১৫ দিন এবং চালক ও সহকারীকে এক মাস করে কারাদণ্ড দেন। সোমবার দুপুরে দণ্ডপ্রাপ্ত তিনজনকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তিনজনের জামিন চেয়ে গতকাল আদালতে আবেদন করা হয়েছে। আজ বুধবার শুনানি হতে পারে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব বেলায়েত হোসেন বেলাল গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আজকে (গতকাল) দুপুর ১২টা থেকে গণপরিবহন চলাচল শুরু হয়েছে।’ এ সময় প্রশাসন দাবি মেনেছে কি না, এই প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়ে বেলাল ফোনের সংযোগ কেটে দেন।

জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি মঞ্জুরুল আলম চৌধুরী মঞ্জু বলেন, মালিক, চালক ও সহকারীর জামিন হয়নি। আদালতে আবেদন জানানো হয়েছে। গণপরিবহন চলাচল করছে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে একাধিক মালিক নাম প্রকাশ না করে কালের কণ্ঠকে বলেন, আইনি বিষয়টি আইনিভাবে লড়ার পদক্ষেপ নেওয়া দরকার ছিল। দু-একজন স্বার্থান্বেষী মালিক-শ্রমিক নিজেদের জাহির করতে অন্য আরো মালিক-শ্রমিকদের দিয়ে গাড়ি বন্ধের ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা