kalerkantho

অনলাইনে নিয়ন্ত্রণ হয় ভারত থেকে!

গুইমারায় গ্রামে গ্রামে ‘শিলং তীর’ জুয়া

দিদারুল আলম, গুইমারা (খাগড়াছড়ি)   

২০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাম্প্রতিকালে গুইমারা উপজেলার গ্রামে গ্রামে ‘শিলং তীর’ নামে অনলাইন জুয়া ছড়িয়ে পড়েছে। স্কুলপড়ুয়া থেকে শুরু করে প্রান্তিক কৃষকও এতে আসক্ত হয়ে পড়ছে। এমনকি কিছু নারীকেও এই খেলায় দেখা যায়। উপজেলার অন্তত ১৫ স্থানে বসে ওই জুয়ার আসর।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভারতের ‘শিলং’ নামক স্থান হতে বিশেষ পদ্ধতিতে অনলাইনে জুয়াটি পরিচালিত হয়। তাই এখানে এটি ‘শীলং তীর’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। জুয়ায় আকর্ষণ ধরে রাখতে প্রতিদিনই কয়েকজনকে নামেমাত্র বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। হাতেগোনা কয়েকজন জুয়ার আসর থেকে হাসিমুখে ফিরলেও সিংহভাগই ফেরেন নিঃস্ব হাতে। ১০ টাকায় ৮০০ টাকা, ২০ টাকায় ১৬০০ টাকা বা ৮০ গুণ লাভের আশায় ওই জুয়ায় রিকশাচালক, দিনমজুর শ্রেণির লোকজন বেশি হুমড়ি খেয়ে পড়ে।

গুইমারায় ‘শিলং তীর’ এজেন্ট পয়েন্ট রয়েছে কমপক্ষে ১৫টি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে বটতলী, যৌথখামার, আমতলীপাড়া, হাজিপাড়া, দেওয়ানপাড়া, হাতিমুড়া, রামছুবাজার ডাক্তারটিলার নিচে, নতুনপাড়া, বুধংপাড়া, বরইতলী অন্যতম। প্রত্যেকটি স্থানে স্থানীয় চতুর একজন বাসিন্দা এজেন্ট  হিসেবে খেলা পরিচালনা করে। এজেন্টরা হাজার টাকার জুয়ার কমিশন হিসেবে মূল কম্পানির কাছ থেকে পায় ৬০ টাকা। সকাল ৯টায় শুরু হয়ে রাত ৯টা পর্যন্ত এসব এজেন্টের মাধ্যমে কর্তন করা জুয়ার টাকা ও নম্বর সাড়ে তিনটার মধ্যেই পৌঁছে দিতে হয় প্রধান এজেন্টদের কাছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, গুইমারায় জুয়াটির প্রধান দায়িত্বে রয়েছেন তিনজন। তাঁদের অবস্থান সদর উপজেলা থেকে দুই কিলোমিটার দূরবর্তী বটতলী এলাকায়। এরই মধ্যে ওঁরা বিত্তশালী হয়ে উঠেছেন। ভারতের সাপ্তাহিক ছুটির দিন রবিবার ছাড়া বাকি ছয়দিনই জুয়ার এই আসর বসে। গুইমারায় আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সভাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ‘শিলং তীর’ নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠলেও বন্ধের বিষয়ে যথাযথ কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি। সবসময় ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে জুয়ার মূল হোতারা।

অভিযোগ ওঠেছে, প্রশাসন ও প্রভাবশালীদের ‘ম্যানেজ’ করে এই জুয়া খেলা চলে আসছে। শুরুর দিকে এলাকার বেকার তরুণ-যুবকদের টার্গেট করা হলেও বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী ও কিছু নারী আসক্ত হয়ে পড়েছে এতে। ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে আসার সময় টিফিনের টাকা শিলংয়ের বাজিতে রেখে আসে লাভের আশায়।

গুইমারার এক ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘শিলং তো শুধু জুয়া নয়, এটি একটি মানি লন্ডারিং। দেশের টাকা বাইরে পাচার হচ্ছে। এত আলোচনার পরও কেন শিলং জুয়া বন্ধ করা যাচ্ছে না তা আমার বোধগম্য নয়।’

হাফছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান চাইথোয়াই চৌধুরী বলেন, ‘খেলাটি বন্ধের বিষয়ে আমি সামাজিকভাবে চেষ্টা চালিয়েছি। কিন্তু কাজ হয়নি। এই জুয়ায় নিঃস্ব হয়েছে অনেক পরিবার।’

স্থানীয় সমাজকর্মী অংথোয়াই মারমা অভিযোগ করেছেন, জুয়াড়িদের কারণে এলাকায় অস্থিরতা বাড়ছে। উঠতি বয়সী তরুণরা বিপথগামী হচ্ছে। সামাজিক সংকট দেখা দিচ্ছে। জুয়ার আড়ালে এলাকায় ইয়াবা ও চোলাই মদ বিক্রি করা হয়।

জুয়ার বেশ কয়েকজন এজেন্ট ফোনে বলেন, প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় গুইমারার রামছুবাজার জৈবসার উৎপাদনকারী ক্লাবে সপ্তাহে ৭৮ লক্ষ টাকার জুয়া চলে। প্রশাসন আগে সেটি বন্ধ করুক। বাকিটা পরে দেখা যাবে।

গুইমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিদ্যুৎ বড়ুয়া বলেন, ‘শিলং জুয়া বন্ধে পুলিশ বেশ তৎপর রয়েছে। জৈবসার উৎপাদনকারী ক্লাবের লটারি বন্ধে ইতোমধ্যে নির্দেশ দিয়েছি।’ তিনি আশা করছেন দ্রুত এসব জুয়া বন্ধ করা সম্ভব হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা