kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জহুর হকার্স ও জালালাবাদ মার্কেটে ভোররাতে আগুন

১৩০ দোকান নিমিষেই ছাই

শেখ কামাল ইন্টারন্যাশনাল ক্লাব কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের জন্য আড়াই হাজার গেঞ্জি স্ক্রিন প্রিন্ট করেছিলেন ব্যবসায়ী ইয়াছিন। কিন্তু সরবরাহের আগমুহূর্তে গেঞ্জিগুলো পুড়ে যায়।

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



১৩০ দোকান নিমিষেই ছাই

অগ্নিকাণ্ডে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে ব্যবসায়ীদের। ছবি : কালের কণ্ঠ

নগরের কোতোয়ালী থানার জহুর হকার্স ও জালালাবাদ মার্কেট দুটির পাশাপাশি অবস্থান। দুই মার্কেটে বিক্রি হয় তৈরি পোশাক। তুলনামূলক কম মূল্যে পোশাক পাওয়া যায় বলে হকার্স মার্কেট নিম্ন-মধ্যবিত্তের প্রিয় মার্কেটে পরিণত হয়েছে। সেই প্রিয় মার্কেটের প্রায় ১৩০টি দোকান এক নিমিষেই ছাই হয়ে গেছে। কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে কয়েক ঘণ্টার আগুনে। শনিবার ভোররাত চারটায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, ভোররাত চারটায় আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি গাড়ি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করে। সকাল সাতটার পর পুরোপুরি আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক গোলযোগে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জালালাবাদ মার্কেটের ১০৭টি এং জহুর হকার্স মার্কেটের ২৫টি দোকান পুড়ে গেছে বলে প্রাথমিক ভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এসব দোকানে শিশুসহ নারী-পুরুষের বিভিন্ন ধরনের পোশাক, কম্বল ও টেইলারিং কারখানা রয়েছে।

আগুনের সূত্রপাত হওয়ার পরপরই কোতোয়ালী থানা পুলিশ মার্কেটের প্রবেশদ্বারে চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে। অতীতে আগুনের সময় বিপুল পরিমাণ উত্সুক জনতা মার্কেটে প্রবেশ করে গণহারে লুটপাট করেছিল-এমন তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই এবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ জনসাধারণকে নিয়ন্ত্রণ করে। শুধু দোকান মালিক-কর্মীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মার্কেটের ভেতরে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছেন। বাকি উত্সুক জনতাকে বাইরে থাকতে হয়েছে। ফলে অগ্নিকাণ্ডে অন্য দোকানের মালামাল লুটপাটের ঘটনা ঘটেনি।

কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মহসিন জানিয়েছেন, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার উত্সুক জনতাকে ভেতরে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়নি। পুলিশের সতর্কতার কারণে ব্যবসায়ীরা আরো বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছেন।

গতকাল শনিবার সকালে পোড়া কাপড়ের স্তূপের কাছে বসে কাঁদছিলেন অনেক ব্যবসায়ী। খুদে ব্যবসায়ীদের অনেকে ঋণের টাকা নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। কিন্তু মুহূর্তেই তাঁদের দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ায় তাঁরা দোকানের মালামালের সঙ্গে পুঁজিও হারিয়েছেন। ঋণের ভার কাঁধে ভর করায় এখন তাঁরা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের একজন মোহাম্মদ আজিম জানিয়েছেন, তিনি ২০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে দোকানে মালামাল তোলেছিলেন। কিন্তু এক রাতের আগুনেই তিনি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। এখন ঋণের বোঝা চেপেছে তাঁর কাঁধে। মোহাম্মদ ইয়াছিন নামের আরেক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, শেখ কামাল ইন্টারন্যাশনাল ক্লাব কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের জন্য আড়াই হাজার গেঞ্জি স্ক্রিন প্রিন্ট করেছিলেন তিনি। কিন্তু ডেলিভারির আগেই গেঞ্জিগুলো পুড়ে গেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা