kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

চট্টগ্রামের আট ব্যবসায়ী এ বছর পেঁয়াজ আমদানিই করেননি

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তালিকা নিয়ে প্রশ্ন

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চট্টগ্রামের আট ব্যবসায়ী এ বছর পেঁয়াজ আমদানিই করেননি

পেঁয়াজ আমদানি ও বাজার কারসাজিতে জড়িত ব্যবসায়ীদের একটি তালিকা করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। অথচ ওই তালিকায় থাকা চট্টগ্রামের আটটি প্রতিষ্ঠান এ বছর পেঁয়াজ আমদানিই করেনি। এমনকি তাদের মধ্যে একাধিক প্রতিষ্ঠান কখনোই পেঁয়াজ আমদানির সঙ্গে যুক্ত ছিল না। এ অবস্থায় মন্ত্রণালয়ের তালিকার সঠিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মন্ত্রণালয়ের তালিকা ধরে চিঠি দিয়ে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মতবিনিময়ের জন্য আট ব্যবসায়ীকে ডেকে পাঠান গত বৃহস্পতিবার। বৈঠকে আড়তদার ও খুচরা ব্যবসায়ীর প্রতিনিধি থাকলেও আমদানিকারক আটজনই অনুপস্থিত ছিলেন। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জেলা প্রশাসক। আর বৈঠকের পর সেই তালিকা ধরে অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে বিব্রত হয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম গত বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রামের তালিকাভুক্ত আট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তিনটিতে অভিযান চালান। কিন্তু পেঁয়াজ আমদানির তথ্য না পেয়ে তিনজনকেই মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তালিকা ধরে অভিযান চালিয়েছি। এর মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠানই এখন পেঁয়াজ আমদানি করে না। বাকি পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে আগামী রবি ও সোমবার অভিযান চালানো হবে। এরপর আটটি প্রতিষ্ঠানের পর্যবেক্ষণ দিয়ে রিপোর্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অভিযানে গিয়ে মনে হয়েছে তালিকা হালনাগাদ নয়। সঙ্গে কাস্টমসের কর্মকর্তা থাকলে দ্রুত হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যেত। এতে ব্যবসায়ীদের হয়রানির কিছু নেই। মন্ত্রণালয়ের তালিকা ধরে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে এমন অভিযান চালালে বাজারে সুফল মিলবে।’

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘পেঁয়াজ নিয়ে যারা কারসাজি করছে তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে কঠোর অভিযান হোক; আমরা তাতে একমত। তবে অভিযান পরিচালনার আগে তালিকা সঠিক ও হালনাগাদ কি না, সেদিকে নজর দেওয়া উচিত, যাতে নিরীহ কেউ হয়রানির শিকার না হয়।’

জানা গেছে, আমদানিকারকরা বৈঠকে না আসায় ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযানের নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক। জেলা প্রশাসনের বৈঠক শেষ হয় বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায়। আর ভ্রাম্যমাণ আদালত নগরীর আগ্রাবাদে র‌্যাব-পুলিশ নিয়ে অভিযান শুরু করেন দুপুর আড়াইটায়, চলে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত।

অভিযানে হালিশহর হাজীপাড়ার মেসার্স শওকতুল ইসলামের প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়েও সদ্য পেঁয়াজ আমদানির কোনো তথ্য মেলেনি। তবে তাঁর কাছ থেকেও মুচলেকা নেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শওকতুল ইসলাম গতকাল বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির পর পেঁয়াজ আমদানি ছেড়েছি ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে। এরপর ব্যবসা ছেড়ে ঢাকার উত্তরায় একটি ফুটওয়্যার কম্পানিতে চাকরি করছি। অসুস্থতার কারণে দুই সপ্তাহ চট্টগ্রামে বাসায় এসেছি রেস্ট নিতে। এসেই আদালতের অভিযানে পড়ে চরমভাবে অপমানিত হয়েছি। বাসা থেকে ডেকে এনে আমার মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।’

অভিযানে আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকার প্রগ্রেস ট্রেড ওভারসিজের কাগজপত্র যাচাই করে পেঁয়াজ আমদানির তথ্য পাননি আদালত। পরে মালিক মোহাম্মদ জাকারিয়ার কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়।

মোহাম্মদ জাকারিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি নিয়মিত বিদেশি ফল আমদানি করি। গত বছর এপ্রিলে এক বন্ধুর উৎসাহে ৩৯ টন পেঁয়াজ ভারত থেকে আমদানি করি। কিন্তু সেই পেঁয়াজ চট্টগ্রামে পৌঁছার পর দেখি প্রায় সবই পচে গেছে। ক্ষতির মুখে পড়ে আর পেঁয়াজ আনিনি।’

ভ্রাম্যমাণ আদালত এরপর আগ্রাবাদ ওয়ালী ম্যানশনে এ আর ট্রেডার্সে অভিযান চালায়। তালিকায় নাম থাকা এই প্রতিষ্ঠানেও পেঁয়াজ আমদানির তথ্য মেলেনি। পরে মুচলেকা নেওয়া হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তালিকায় থাকা চট্টগ্রামের বাকি পাঁচটি প্রতিষ্ঠানও পেঁয়াজ আমদানির সঙ্গে বর্তমানে জড়িত নেই। এর মধ্যে ফরহাদ ট্রেডিং শুধু আদা-রসুন আমদানি করে। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—আরটিএস ট্রেডিং এজেন্সি, বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল, এম অ্যান্ড এম ট্রেডিং এবং এফএইচএ ট্রেডার্স।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে সরাসরি পেঁয়াজ আমদানি করেন না। দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে আসা পেঁয়াজ কমিশনে চট্টগ্রামের আড়তে বিক্রি করে থাকেন। তবে পেঁয়াজ সরবরাহে সংকট তৈরি হলে চীন, তুরস্ক, মিসর ও পাকিস্তান থেকে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি করেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা। বর্তমান সংকটে দেড় মাস ধরে মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি করছেন কক্সবাজারের ব্যবসায়ীরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা