kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

পেঁয়াজ নিয়ে জেলা প্রশাসকের বৈঠক

আমদানিকারকদের একজনও ছিল না

আড়ত-দোকানে মূল্য তালিকা ও রসিদ রাখার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৮ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আমদানিকারকদের একজনও ছিল না

পেঁয়াজ বিক্রিতে বেশি মুনাফার চেষ্টা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন। একইসাথে পাইকারি ও খুচরা দোকানে মূল্য তালিকা প্রদর্শন বাধ্যতামূলক এবং কমিশন এজেন্টরা কার কাছ থেকে পেঁয়াজ কিনছে অবশ্যই সেটার রশিদ রাখার নির্দেশনা দেন তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। সভায় পেঁয়াজের পাইকারি আড়তদার ও কমিশন এজেন্টরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, ‘গত মাসে ভারত রপ্তানি বন্ধের পর বাংলাদেশে বেড়ে গিয়েছিল পেঁয়াজের দাম। এরপর সরকার আমদানি বাড়ানোসহ নানা পদক্ষেপে দাম কিছুটা কমলেও গত কয়েকদিনে আবার ঊর্ধ্বমুখী এই নিত্যপণ্যের বাজার।’

পেঁয়াজ নিয়ে ‘অদৃশ্য ব্যবসা’ করা যাবে না বলে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘অদৃশ্য ব্যবসা মানে কালোবাজারি। এটা হলে অবশ্যই অ্যাকশন নেওয়া হবে। কমিশন এজেন্টদের দোকানে অবশ্যই আমদানিকারকের নাম, ফোন নম্বর ও রসিদ রাখতে হবে। প্রয়োজনে প্রশাসন ও মন্ত্রণালয় আমদানিকারকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ব্যবসায়ীদের প্রতিপক্ষ নই, পরিপূরক। যখন মানুষের নাভিশ্বাস ওঠে তখনই আমরা ব্যবস্থা নিই। অতি মুনাফা চাই না, কারও ব্যবসা বাধাগ্রস্ত হোক সেটাও চাই না। আপনারা আপনাদের লাভ করুন কিন্তু সেটা যেন অতিমুনাফা না হয়।’

ব্যবসায়ীদের দাবির প্রেক্ষিতে নগর, জেলা ও মহাসড়কে পেঁয়াজের গাড়ি যেন দিনে-রাতে চলাচল করতে পারে সেই ব্যবস্থাও নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘পেঁয়াজ যেন দ্রুততম সময়ে খালাস করা হয় সেজন্য চট্টগ্রাম বন্দর ও টেকনাফ কাস্টমসকে অনুরোধ করা হবে।’

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী চট্টগ্রামের আটজন আমদানিকারকের নাম পাওয়া গেছে, তাঁদেরকে সভায় আমন্ত্রণ জানানো হলেও কেউই আসেননি। তাঁরা কেন আসেননি এবং অন্য কোনো ঠিকানা ব্যবহার করে তাঁরা পেঁয়াজ আমদানি করেছেন কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে।’ যদি তাঁরা পেঁয়াজ আমদানি করে থাকেন, তা খুঁজে বের করে অভিযান চালানোর ঘোষণাও দেন জেলা প্রশাসক।

কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ৮টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই এবার পেঁয়াজ আমদানি করেনি। তাঁরা মূলত আদা-রসুন আমদানি করেন। ফলে পেঁয়াজের সভায় স্বাভাবিকভাবেই তাঁরা যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি।

সভায় খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ছগীর আহমদ, চট্টগ্রাম চেম্বার পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ কাঁচাপণ্য আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, হামিদ উল্লাহ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিছ, ক্যাবের নাজের হোসাইন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা