kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রাঙ্গুনিয়ায় পোড়ানো হল ৩ লাখ টাকার ওষুধ

রাউজানে ডায়াবেটিস ওষুধের নামে মাশরুমের গুঁড়ো বিক্রি

রাঙ্গুনিয়া ও রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাউজানে ডায়াবেটিস ওষুধের নামে মাশরুমের গুঁড়ো বিক্রি

রাঙ্গুনিয়ায় গতকাল ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জব্দ করা ভেজাল ওষুধ পুড়িয়ে ফেলা হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাঙ্গুনিয়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ, অনুমোদনহীন ও ভেজাল ওষুধ জব্দে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার দুপুরে উপজেলার রাণীরহাট বাজারে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ৩ লাখ টাকার মেয়াদোত্তীর্ণ ওষধ পুড়িয়ে ফেলা হয় এবং ড্রাগ আইনে চারটি ফার্মেসির মালিককে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আদালতের নির্বাহী হাকিম ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান অভিযান পরিচালনা করেন। এতে সহযোগিতা করেন চট্টগ্রামের ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ড্রাগ সুপার কামরুল ইসলাম ও রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সুত্রে জানা যায়, মেয়াদোত্তীর্ণ, অনুমোদনহীন ও ভেজাল ওষুধ বিক্রি বন্ধে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে উপজেলার রাণীরহাট বাজারে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ, অনুমোদনহীন ও ভেজাল ওষুধ জব্দ করা হয়। এগুলোর আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় তিন লাখ টাকা। চারটি ফার্মেসির মালিককে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং জব্দকৃত ওষুধ জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করে দেওয়া হয়। অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান ইউএনও।

রাউজান : উপজেলার উরকিরচরে ডায়াবেটিস রোগ প্রতিরোধের কথা বলে ক্যাম্প (শিবির) করে ‘ডায়াবেটিস ফুড’ নামে মাশরুমের গুঁড়ো বিক্রি করায় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী ধরে পাঁচজনকে পুলিশে দিয়েছেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁদেরকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। আর কখনো এসব অবৈধ ‘ডায়াবেটিস ফুড’ বিক্রি করবেন না মর্মে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁরা হলেন মাগুরা জেলার মাগুরা সদরের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে ও ‘ডায়াবেটিস্ ফুড’ পরিচালক বাবুল আকতার, তাঁর সহযোগী শরিফুল ইসলাম, নাজমুল হাছান, কানিজ ফাতেমা ও সোনিয়া খাতুন।

উরকিরচর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার কাউছার আলম, আবুল কাশেম ও মো. ফয়েজ জানান, ওই পাঁচজন মঙ্গলবার ‘মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউট কৃষি মন্ত্রণালয় সোহানবাগ, সাভার, ঢাকা’ লেখা মোড়কে সরকারের লোগো লাগিয়ে অনুমোদনহীন ডায়াবেটিস ফুড নামে মাশরুমের গুঁড়ো বিক্রি করছিলেন। এ জন্য উরকিরচর মোহাম্মদীয়া গাউসিয়া সুন্নিয়া সিনিয়র মাদরাসায় একটি ক্যাম্প করেন তাঁরা। মাদরাসা কমিটির অনুমোদন না নিয়ে ক্যাম্প করতে অর্থের বিনিময়ে সহায়তা করেন এলাকার পল্লী চিকিৎসক আবদুল মান্নান। প্রতারক চক্রটি স্থানীয় পুরুষ-নারীদের ছয় মাস ব্যবহারে ডায়াবেটিস রোগ সম্পূর্ণ নিরাময় হওয়ার কথা বলে। এও বলে সরকার তাঁদেরকে পাঠিয়েছে এই ওষুধ বিক্রির জন্য। প্রথমে সরকার দায়িত্ব দিয়েছে ২০-২৫ জেলায়। পরবর্তীতে দেশের প্রত্যক এলাকায় এসব ওষুধ বিক্রি করা হবে। এ ওষুধের দাম ৭৫০ টাকা হলেও সরকার ভর্তুকি দিয়ে ২৫০ টাকায় দিচ্ছে। এমন সব বিভিন্ন প্রতারণামূলক কথা বলে তাঁরা প্রায় ৪৫ হাজার টাকার মাশরুমের গুঁড়ো বিক্রি করে।

মেম্বার কাউছার আলম বলেন, ‘এদেরকে আমরা পুলিশে  দেই। পুলিশ উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাহী কর্মকর্তা জোনায়েদ কবীরের আদালতে সোপর্দ করে।’

জরিমানার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সহকারী সমীর।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা