kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সাতকানিয়ায় বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচন বর্জন

চাটখিলে নৌকার জয়

সাতকানিয়া, নোয়াখালীর পাঁচগাঁও ও দীঘিনালার কবাখালীতে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন

দ্বিতীয় রাজধানী ডেস্ক   

১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



চাটখিলে নৌকার জয়

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন গতকাল সোমবার শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। একইভাবে নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার ৬নং পাঁচগাঁও ইউনিয়ন ও দীঘিনালার কবাখালী ইউনিয়নে উপনির্বাচন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়া শেষ হয়েছে। বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে :

সাতকানিয়া : উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ১২৫টি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। তবে ভোটারের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। সকাল থেকে অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র ফাঁকা দেখা যায়। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও বেশির ভাগ সময় খোশগল্প করে সময় কাটিয়েছেন। ভোটকেন্দ্রগুলোতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ভোটারের উপস্থিতি কম হওয়ায় রিটার্নিং অফিসার নিজেও হতাশা প্রকাশ করেছেন।

বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুল গফ্ফার চৌধুরী তাঁর এজেন্টদেরকে মারধর, কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া ও ভোটারদেরকে আঙুলের ছাপ নেওয়ার পর প্রতীকের বাটমে ছাপ দেওয়ার সুযোগ না দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে দুপুর আড়াইটার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। চেয়ারম্যান প্রার্থী অবদুল গফ্ফার চৌধুরী নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলেও ভোটগ্রহণের পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বিএনপি মনোনীত ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী বশির উদ্দিন আহমদ। বিকেল ৫টার দিকে তিনি জানান, নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই। আমি এখনো জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢেমশা ইউপি কার্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রের বাইরে ভোটারের দীর্ঘ সারি। ভোটাররা লাইনে দাঁড়িয়ে তাঁদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিচ্ছেন।

ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মোহাম্মদ মেহেদী হাসান চৌধুরী জানান, কেন্দ্রের ভেতরে বা বাইরে কোনো ধরনের ঝামেলা নেই। সকালের দিকে ভোটারের উপস্থিতি কিছুটা কম হলেও দুপুরের দিকে ভোটারের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। ভোটাররা লাইনে দাঁড়িয়ে পছন্দের প্রার্থীকে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।

নির্বাচন বর্জন : বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুল গফ্ফার চৌধুরী দুপুর আড়াইটার দিকে তাঁর বাস ভবনে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি বলেন, শতাধিক ভোটকেন্দ্র থেকে আমার এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের বাইরে আওয়ামী লীগের লোকজন দাঁড়িয়ে থেকে ভোটারদের কেন্দ্রে আসার সময় বাধা প্রদান করেছে। আবার কিছু কেন্দ্রে ভোটারদের কাছ থেকে আঙুলের ছাপ নিয়ে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। তাদেরকে প্রতীকের বাটমে ছাপ দেওয়ার সুযোগ দেয়নি। আওয়ামী লীগের লোকজন বুথে দাঁড়িয়ে থেকে তাদের প্রতীকে ছাপ দিয়েছে। ফলে আমি নির্বাচন বর্জন করলাম।

এদিকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এম এ মোতালেব জানান, অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের এক অনন্য নজির। প্রত্যেক কেন্দ্রে সকল প্রার্থীর এজেন্টদের উপস্থিতিতে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। শুরু থেকেই বিএনপি প্রার্থী ভরাডুবির আশঙ্কায় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর পথ খুঁজছিল। ভোটগ্রহণের পরিবেশ নিয়ে সকাল থেকে কোনো ধরনের অভিযোগ করেননি।

নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও চট্টগ্রামের সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মুনীর হোসাইন খান জানান, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ হয়েছে। বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচন বর্জনের বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। কেন্দ্র থেকে এজেন্ট বের করে দেওয়ার যে অভিযোগ তিনি করছেন তা সঠিক নয়।

নোয়াখালী : নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার ৬নং পাঁচগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের শূন্য পদে উপনির্বাচন গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত হয়। এতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ মাহমুদ হোসেন তরুণ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনে নৌকা প্রার্থী পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৪৮ ভোট। অপরদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইমাম হোসেন টিপু (আনারস) পেয়েছেন ৭৭৬ ভোট। চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মো. দিদারুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইমাম হোসেন টিপু নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও জাল ভোটের অভিযোগ এনে সোমবার দুপুরে রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

দীঘিনালা : খাগড়াছড়ির দীঘিনালার কবাখালী ইউনিয়নে উপনির্বাচনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখা গেছে। কিন্তু কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি ছিল একেবারেই কম। তবে কোনো কেন্দ্রে অপ্রীতিকর ঘটনা বা কোনো প্রার্থীর অভিযোগও পাওয়া যায়নি।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কবাখালী ইউনিয়নের ৭টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয়েছে। প্রতি কেন্দ্রে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি ছিল পর্যাপ্ত।

গতকাল সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোতে সরেজমিনে দেখা গেছে, সকালে কিছু ভোটারের উপস্থিতি থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারশূন্য হয়ে পড়ে কেন্দ্রগুলো।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রকর চাকমা জানান, কবাখালী ইউনিয়নে ২টি সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের একজন সদস্যের মৃত্যুজনিত কারণে সেটি শূন্য হয়। অপর ওয়ার্ডের নারী সদস্য উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সময় পদত্যাগ করেন। এ ছাড়া ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য মারা গেলে সেটিও শূন্য হয়। এ তিনটি পদে ৭টি ওয়ার্ডে ৭ কেন্দ্রে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা