kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ডেলিভারি ইয়ার্ড ও ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ অনিশ্চিত

এক বছরেও মাটি ভরাট হয়নি বে টার্মিনালে

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এক বছরেও মাটি ভরাট হয়নি বে টার্মিনালে

পণ্য ওঠানামার ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি সামাল দিতে চট্টগ্রাম বন্দরের ভেতর থাকা কন্টেইনার ডেলিভারি কার্যক্রম সরিয়ে পতেঙ্গা ‘বে টার্মিনালে’ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ জন্য প্রাথমিকভাবে ৬৮ একর জমি কিনে দুটি প্লটে মাটি ভরাট কাজও শুরু করেছিল। উদ্দেশ্য ছিল চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ কমানো, বন্দরের ভেতর কন্টেইনার রাখার স্থান বাড়ানো এবং বিমানবন্দরমুখী সড়কের ভয়াবহ যানজট কমিয়ে আনা।

চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান ২০১৮ সালে ঘোষণা দিয়েছিলেন ২০১৯ সালের জুন মাসে বে টার্মিনাল থেকে পণ্য ডেলিভারি শুরুর। সেটি ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ থেকেছে; এখন বে টার্মিনালে ডেলিভারি ইয়ার্ড দূরে থাক মাটি ভরাটই হয়নি। এই অবস্থায় আগামী এক বছরেও পণ্য ডেলিভারি শুরু হবে কিনা সংশয় তৈরি হয়েছে। 

জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক ও বন্দরের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিউল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বে টার্মিনালে মাটি ভরাট করে ট্রাক টার্মিনাল ও ইয়ার্ড নির্মাণের জন্য ১৬শ কোটি টাকার একটি ডিপিপি তৈরি করে নৌ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে গত ৩০ মে। সেটির অনুমোদন না হওয়ায় মূল কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। এখন ৬৮ একর জমি দখলে রাখার জন্য প্রাথমিকভাবে সীমানা দেয়াল নির্মাণ করছি; এটা বেশ ভালোভাবেই এগোচ্ছে। আর দুটি প্লটে মাটি ভরাট কাজ হচ্ছে সেটি তদারকি করছে বন্দরের হাইড্রোগ্রাফি বিভাগ।

বন্দর কর্মকর্তারা বলছেন, মূলত পতেঙ্গা থেকে চট্টগ্রাম ইপিজেডের পেছনে হয়ে রাসমনি ঘাট পর্যন্ত বঙ্গোপসাগর তীর ঘেঁষে সাড়ে ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকায় এই বে টার্মিনাল গড়ে তোলা হবে। বঙ্গোপসাগরে পৌঁছা জাহাজগুলো সরাসরি জেটিতে ভিড়তে পারার বিশাল সুবিধা কাজে লাগাতেই ৯০৭ একর জমিতে বে টার্মিনাল গড়ার সিদ্ধান্ত হয়। চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ে আয়তনে তিনগুণ বড় এই বে টার্মিনাল মূলত একটি আধুনিক বন্দর হিসেবে গড়ে উঠবে। সরকার চাইছে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ভিত্তিতে দেশি-বিদেশি অপারেটর দিয়ে এটি নির্মাণ ও পরিচালনা করতে। কিন্তু সেটি দীর্ঘমেয়াদি এবং এর সঙ্গে ভূ রাজনৈতিক বিষয় জড়িত থাকায় সরকার সেই সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত করেনি।

এর আগেই বন্দর কর্তৃপক্ষ চাইছে প্রাথমিকভাবে ৬৮ একর জমিতে মাটি ভরাট করে শুধুমাত্র ডেলিভারি ইয়ার্ড ও ট্রাক টার্মিনাল চালু করতে। কারণ চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর যে হারে চাপ বাড়ছে তাতে নতুন জেটি-টার্মিনাল না আসা পর্যন্ত সামাল দেওয়া যাবে না। বিকল্প বা সাময়িক সমাধান হিসেবে এই উদ্যোগ।

বন্দর পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম বলেন, ‘আমি হিসাব করে দেখেছি কন্টেইনার বন্দর থেকে সরবরাহ নিতে দিনে ছয় হাজার ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান বন্দরে প্রবেশ করে। বন্দরের প্রত্যেক বর্গমিটার এই মুহূর্তে আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অথচ এসব ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ ৬০ হাজার বর্গমিটার স্থান দখল করে রাখছে প্রতিদিন। গাড়ির সঙ্গে প্রবেশ করে চালক-সহকারী এবং এসব পণ্য বোঝাই-নামানোর কাজে নিয়োজিত অসংখ্য শ্রমিক।

তিনি মনে করেন, বন্দরের ভেতর থেকে এই পুরনো পদ্ধতি সরাতে পারলে বিদ্যমান সক্ষমতা ব্যবহার করেই চট্টগ্রাম বন্দরে বাড়তি তিন থেকে চার লাখ একক কন্টেইনার ওঠানামা করা সম্ভব। আর বর্তমান সক্ষমতা দিয়েই আগামী দুই বছর এভাবেই বন্দরের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা যাবে।

কিন্তু বে টার্মিনালে ডেলিভারি ইয়ার্ড নির্মাণের জন্য দুটি প্লটে মাটি ভরাটের কাজ এখন বন্ধ। কবে নাগাদ মাটি ভরাট হবে, আর কবে নাগাদ ইয়ার্ড ও ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ হবে তা অনিশ্চিত। গত কয়েকবছর ধরে বন্দর শুধু কথার ফুলঝুরি শুনিয়ে আসছে; কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম চেম্বার সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘একবছরে মাটি ভরাট না হওয়াটা সত্যিই আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। এই একটি প্রকল্পের ওপর শুধু চট্টগ্রাম বন্দর নয়, বন্দরের বাইরের সবচে গুরুত্বপূর্ণ সড়কের যানজট এবং দেশের অর্থনীতির গতিশীলতা নির্ভরশীল। কেন এই প্রকল্প দেরি হচ্ছে তা জানতে চাই।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, সবকিছু সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এবং অনভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার কারণেই কাজের দীর্ঘসূত্রতা ঘটছে। ই ইঞ্জিনিয়ারিং নামের একটি কম্পানিকে একসঙ্গে কর্ণফুলী ক্যাপিটাল ড্রেজিং, পতেঙ্গা টার্মিনাল আবার বে টার্মিনাল মাটি ভরাটের কাজটিও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই সক্ষমতা তাদের আছে কিনা যাচাই করা হয়নি। ফলে পদে পদে দীর্ঘসূত্রতা হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা