kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

পাহাড়ে প্রবারণা উৎসব

মনু ইসলাম (বান্দারবান) ও তানফিজুর রহমান (লামা)   

১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাহাড়ে প্রবারণা উৎসব

লামার গজালিয়ায় ‘ওয়াগ্যো পোয়েঃ’’ উদযাপন উপলক্ষে সাজানো হয়েছে পেগুদা আকৃতির রথ। ছবি : কালের কণ্ঠ

প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে বান্দরবান জেলাসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলাতেও নানা আঙ্গিকে উৎসব উদযাপন করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে গতকাল রবিবার পুরাতন রাজবাড়ি মাঠে মোমবাতি প্রজ্বলন ও রথ টেনে তিন দিনব্যাপী উৎসবের সূচনা ঘটে। আজ সোমবার মধ্যরাতে বর্ণাঢ্য সাজে সজ্জিত রথ টেনে নিয়ে শঙ্খ নদীর উজানিপাড়া ঘাটে ভাসিয়ে দেওয়া হবে।

প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে সকল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। তবে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মারমা জনগোষ্ঠী নানা অনুষঙ্গ যুক্ত করে তাদের এই উৎসবকে বছরের সবচেয়ে বড় উৎসবে রূপ দিয়েছে। মারমা জনগোষ্ঠী এই উৎসবকে ‘ওয়াগ্যই পোয়েঃ’ নামে উদযাপন করে।

প্রবারণা উপলক্ষে গৃহীত অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে ফানুস ওড়ানো অন্যতম। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে পূর্ণিমার রাতের আকাশ নানা আকারের ফানুসে ভরে যায়। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা ছাড়াও নানা ধর্ম বিশ্বাসী মানুষের অংশগ্রহণে এটি সামাজিক উৎসবে রূপ নেয়।

মূলত: রাজপুত্র গৌতমের বুদ্ধত্ব লাভের ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রবারণা উৎসবের সূচনা। তিন মাস বর্ষাবাস শেষে আশ্বিনের পূর্ণিমায় ধ্যানমগ্ন বুদ্ধ লোকসমাজে ফিরে আসেন। মহামতি বুদ্ধের অনুসরণে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরাও তিন মাসের বর্ষাবাস ব্রত পালন করে থাকে।

প্রবীণ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা জানিয়েছেন, দুঃখ মুক্তির পথের সন্ধানে আষাঢ়ী পূর্ণিমার দিনে রাজপুত্র সিদ্ধার্থ (গৌতম) ২৯ বছর বয়সে সন্ন্যাসীর পোশাক পরিধান করে কপিলাবস্তুর রাজপ্রাসাদ এবং জগৎ সংসারের মায়া-মোহ ত্যাগ করেন।

বৈষয়িক জীবন ত্যাগ করে সন্ন্যাস জীবনে যাত্রার প্রাক্কালে তাঁর উদ্দেশ্য কতটা সফল হবে-এমন জিজ্ঞাসাকে সামনে রেখে গৌতম নিজ তরবারি দিয়ে তাঁর মাথা মুণ্ডন করে কর্তিত চুলগুলো আকাশের দিকে ছুড়ে মারেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল-যদি তাঁর লক্ষ্য সৎ হয়ে থাকে, তবে কর্তিত চুল ভূমিতে পতিত না হয়ে আকাশে ভাসতে থাকবে। প্রকৃতপক্ষে ঘটেছিলও তাই। মহামতি গৌতমের কর্তিত চুল উড়তে উড়তে আকাশে থাকা চুলামনি মন্দিরে গিয়ে ঠাঁই নেয়।

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের দৃঢ় বিশ্বাস, সে পবিত্র চুল আজও আকাশে ভাসমান অবস্থায় রয়েছে। শাস্ত্রে আছে, দেবরাজ ইন্দ্র পবিত্র চুলরাশি সংগ্রহ করে স্বর্গে (আকাশে) চুলামণি জাদি নির্মাণ করেন। সে চুলামণি জাদিকে বন্দনার জন্যই ফানুসের মাধ্যমে প্রদীপ পূজা পাঠানো হয়। চুলামণি জাদিতে প্রদীপ পূজা পাঠাতে সবাই চেষ্টা করে প্রবারণা পূর্ণিমার রাতে ফানুস ওড়াতে। যাঁরা সমর্থ হন না, তাঁরাও যোগ দেন ফানুস উৎসবে।

প্রবারণা পূর্ণিমাকে কেন্দ্র করে বান্দরবানের লামা উপজেলাতেও ‘ওয়াগ্যোয়েই পোয়েঃ’ উৎসব পালিত হচ্ছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা