kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সরকারি সহায়তার চাল এখনো পৌঁছায়নি সীতাকুণ্ডে

২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধে বেকার ৫ হাজার মৎস্যজীবী

সৌমিত্র চক্রবর্তী, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)    

১৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সারাদেশের মতো সীতাকুণ্ডেও ২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধের কারণে বেকার হয়ে পড়েছেন প্রায় ৫ হাজার মৎস্যজীবী।

কিন্তু ইলিশ ধরা বন্ধকালীন সময়ের জন্য সরকার প্রতিবছর যে চাউল বা অন্যান্য সহায়তা প্রদান করেন তা এবার এখনো পৌঁছায়নি সীতাকুণ্ডের মৎস্যজীবিদের মাঝে। এ ছাড়া জেলেদের জন্য গড়ে তোলা হয়নি বিকল্প কর্মসংস্থানও। ফলে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।

উপজেলার বিভিন্ন জেলে নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, ইলিশের চলতি মৌসুমে বঙ্গোপসাগরের সীতাকুণ্ড  ও সন্দ্বীপ চ্যানেলে অল্প কিছুদিন প্রচুর ইলিশ ধরা পড়লেও জেলেরা মাছের আশানুরূপ দাম পাননি। ফলে বেশি মাছ ধরলেও আয় বাড়েনি তেমন। এর মধ্যে সরকার দুই দফা লম্বা সময় ইলিশ ধরা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। সর্বশেষ গত ৯ অক্টোবর থেকে আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিন ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে বর্তমানে বেকার সময় কাটাচ্ছেন উপজেলার প্রায় ৫ হাজার মৎস্যজীবী। এর প্রভাব পড়েছে তাদের পরিবারের ওপরও।

সরেজমিনে উপজেলার অন্যতম বৃহৎ জেলেপাড়া সীতাকুণ্ডের কুমিরা, বাঁশবাড়িয়া, সলিমপুর প্রভৃতি এলাকা ঘুরে দেখা যায় মাছ ধরা বন্ধ থাকায় জেলেরা এখন সাগর পাড়ে বসে জাল সেলাই, নৌকা মেরাতমসহ বিভিন্ন কাজের মধ্যে দিয়ে অলস সময় পার করছেন। অর্থ উপার্জন বন্ধ থাকায় তাদের কারো মনেই শান্তি নেই।

পরিদর্শনকালে বাঁশবাড়িয়া বোয়ালিয়াকুল জেলেপাড়ার বাসিন্দা ও উত্তর চট্টলা উপকূলীয় জেলে কল্যাণ পরিষদের সভাপতি লিটন কুমার জলদাশ ও সহসভাপতি উপেন্দ্র লাল জলদাশ বলেন, আমাদের প্রায় ৫ হাজার জেলে আছে সীতাকুণ্ডে। সবার প্রধান উপার্জনের উৎসই হলো মৎস্য শিকার। সাগরে মাছ ধরতে পারলে আমাদের আয় হয়, সংসার চলে। আর মাছ না পেলে অর্থকষ্ট শুরু হয়।

তারা আরো বলেন, এই যে এখন ৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর ২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ ঘোষণা করেছে বলে আমরা সাগরে মাছ ধরতে পারছি না। এতে আমাদের অর্থকষ্ট শুরু হয়েছে। তার ওপর এই বন্ধে আয় উপার্জন বন্ধ হয়ে আমরা হতাশ। মাছ ধরা বন্ধকালীন সময়ে প্রতি পরিবারের জন্য ২০ কেজি করে চাউল দেওয়ার কথাও তাও এখনো আসেনি।

কুমিরা জেলেপাড়ার বাসিন্দা সুজিত জলদাশ বলেন, ‘মাছ ধরা বন্ধ থাকায় আমরা এখন বেকার। সংসার চালাতে মাঝে মধ্যে রিকশা চালাচ্ছি। অথচ রিকশা চালাতে আমরা অভ্যস্ত নই। সরকার আমাদের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ না দিলে বৌ-বাচ্চা, বৃদ্ধ মা-বাবা নিয়ে চরম কষ্টে পড়তে হবে।’

এদিকে জেলেরা অভিযোগ করলেও ভিন্নমত পোষণ করেছেন সীতাকুণ্ড উপজেলা মৎস্য অফিসার শামীম আহমেদ। তিনি বলেন, সরকার সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রাখায় ইলিশ মাছ অনেক বেড়ে গেছে। গতবছর এ সময়ে সীতাকুণ্ড-সন্দ্বীপ চ্যানেলে ৬১০ মেট্রিক টন ইলিশ ধরা পড়েছে। আর এবার ধরা পড়েছে ৭০৮ মেট্রিক টন। যা ৯৮ মেট্রিক টন বেশি।

তিনি আরো বলেন, মাছ ধরা বন্ধকালীন সময়ে সরকার ভর্তুকি দিয়ে থাকেন। এখানে প্রায় ৫ হাজার মৎস্যজীবী রয়েছে। তাদের প্রতি পরিবারকে ২০ কেজি করে চাউল বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এই চাউল দ্রুত জেলেদের কাছে পৌঁছে যাবে বলে জানান তিনি। তাই কেউ যেন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সাগরে না যান সে বিষয়ে সতর্ক করেন তিনি।

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিল্টন রায় বলেন, মাছ ধরা বন্ধের জন্য জেলেদের যে চাউল দেওয়ার কথা তা এখনো আসেনি। আমাদের হাতে এসে পৌঁছালে তাদেরকে পৌঁছে দেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা