kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগেও বিশৃঙ্খলা

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

১৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগেও বিশৃঙ্খলা

নগরে চলাচলকারী গণপরিবহনে ফিরছে না শৃঙ্খলা। গতকাল মুরাদপুর মোড়ে সড়কের মাঝখানে বাস দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করছে। ছবি : রবি শংকর

দীর্ঘদিন পর চট্টগ্রাম নগর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ট্রাফিক পুলিশ উদ্যোগ নিয়েছে। এনিয়ে গত তিনদিন ধরে নগরের অন্যতম প্রধান দুটি সড়কে (রুট) পুলিশ কাজ করছে। কিন্তু এর মাঝেও সড়কের মোড়ে মোড়ে বিশৃঙ্খল পরিবেশ। সেই সঙ্গে সড়কে হঠাৎ করে বাস-মিনিবাস কমে যাওয়ায় যাত্রীরাও চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

জানা গেছে, নগরের কালুরঘাট থেকে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত (সিবিচ) পর্যন্ত ১০ নম্বর রুট এবং লালদিঘির পাড় থেকে সিবিচ পর্যন্ত ৬ নম্বর রুট। এর মধ্যে ১০ নম্বর রুট প্রায় ২৫ কিলোমিটার এবং ৬ নম্বর প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূরত্বের। গণপরিবহনে নগরের ১৩টি রুটের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ৬ ও ১০ নম্বর রুট দুটিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ উদ্যোগ নিয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, এ দুটি রুটে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পর নগরের অপর রুটগুলোতেও শৃঙ্খলা ফেরাতে কার্যক্রম শুরু করা হবে। গত বৃহস্পতিবার থেকে ওই রুট দুটির বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান করে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা প্রথম পর্যায়ে বাস-মিনিবাস শৃঙ্খলা ফেরানোর লক্ষ্যে কাজ করছেন। এক রুটের গাড়ি যাতে অন্য রুটে চলাচল করতে না পারে, নিবন্ধন ও রুটপারমিট ছাড়া গণপরিবহন চলাচল না করে, যত্রতত্র গাড়ি না দাঁড়ানো-যাত্রী ওঠানামা বন্ধ রাখা, নির্দিষ্ট স্টপেজে যাত্রী ওঠানামাসহ শৃঙ্খলার মধ্যে গাড়ি চলাচলের জন্য মালিক-শ্রমিকদের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে গাড়িতে টিকিট ব্যবস্থা চালু করা হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কে পুলিশের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার কার্ষক্রমের মধ্যে নগরের মুরাদপুর, ওয়াসা মোড়, বহদ্দারহাট, কদমতলী, কোতোয়ালী মোড়, দেওয়ানহাট, চৌমুহনী, বারিকবিল্ডিং, জিইসি মোড়সহ বিভিন্ন পয়েন্টে যত্রতত্র গাড়ি দাঁড় করানোর পাশাপাশি নির্দিষ্ট স্টপেজের বাইরে যাত্রী ওঠানামায় ব্যস্ত ৬ ও ১০ নম্বর রুটের অনেক বাস-মিনিবাস।

অভিযোগ ওঠেছে, শৃঙ্খলা ফেরানোর পুলিশের ভালো এই উদ্যোগ যাতে সফল হতে না পারে সে লক্ষ্যে মালিক শ্রমিকদের একটি অংশ সড়কে গাড়ি চলাচল কমিয়ে দিয়েছে। ওই দুটি রুটের অনেক গাড়ি এখন সড়কে নেই। বিভিন্ন পয়েন্টে দীর্ঘসময় ৬ ও ১০ নম্বর রুটের বাস-মিনিবাসের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে যাত্রীদের।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব বেলায়েত হোসেন বেলাল গতকাল শনিবার বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘৬ ও ১০ নম্বর রুটে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পুলিশ উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু কেউ কেউ অসহযোগিতা করছেন। আসলে শুধু মালিক শ্রমিকদের একটি অংশই নয়, পুলিশের মাঠ পর্যায়ে যাঁরা কাজ করেন তাঁদের মধ্যে থেকেও এক ধরনের অসহযোগিতা থাকতে পারে। কারণ রুটে অবৈধ গাড়ি চলাচলের সুযোগ তারাই করে দেন। এখন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যেভাবে মাঠে নেমেছেন শৃঙ্খলা ফেরাতে, আমরাও চাই সড়কে শৃঙ্খলা দ্রুত ফিরে আসুক। তবে এর আগেও বিভিন্ন সময় পুলিশ উদ্যোগ নিলেও বিভিন্ন কারণে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরেনি।’

সড়কে গাড়ি কমে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বেলায়েত হোসেন বেলাল। তিনি বলেন, ‘আমি আগ্রাবাদ থেকে কালুরঘাট এসেছি। কিন্তু ৬ নম্বর ও ১০ নম্বর রুটে বাস-মিনিবাস অনেক কম। যেসব গাড়ির সমস্যা আছে সেগুলো এখন রাস্তায় কম থাকবে।’

নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) মোহাম্মদ আমির জাফর গতকাল সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন সড়কে শৃঙ্খলা ছিল না। আমরা শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রথমদিকে ৬ ও ১০ নম্বর রুটে কাজ করছি। আগের চেয়ে ৬০/৭০ শতাংশ উন্নতি হয়েছে। পর্যায়ক্রমে নগর গণপরিবহনে সকল রুটে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে। যত্রতত্র গাড়ি দাঁড়ানো যাবে না এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করা যাবে না। নির্দিষ্ট স্টপেজে গাড়ি দাঁড়ানোর ও যাত্রী ওঠানামার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সোমবার থেকে গাড়িতে টিকিট থাকবে। গণপরিবহনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জিইসি মোড় এলাকায় আবু জাফর নামে এক যাত্রী বলেন, গাড়ি কম চলাচলের কারণে গাড়ি পেতে কষ্ট হচ্ছে। চালকদের যতই বলা হোক না কেন তারা সুযোগ পেলেই যেখান সেখানে দাঁড়িয়ে এখনো যাত্রী ওঠানামা করছে।

মালিক সমিতির একাধিক নেতা জানান, ওই দুই রুটে বাস-মিনিবাস এখনো নির্দেশনা অনুযায়ী চলাচল করছে না। যেখান থেকে গাড়ি ছাড়ে সেখান থেকে শেষ স্টপেজ পর্যন্ত যাওয়ার কথা থাকলে তা এখনো মানা হচ্ছে না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা