kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৭ রবিউস সানি ১৪৪১     

দক্ষিণ চট্টগ্রামে শামুক চুন শিল্প বিলুপ্তির পথে

চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

১২ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দক্ষিণ চট্টগ্রামের চন্দনাইশের দোহাজারী চাগাচর ও তত্সংলগ্ন বাদ্যখালী এবং মৈশামুড়া গ্রামে শামুকের খোলা থেকে তৈরি চুনের কদর রয়েছে ক্রেতাদের কাছে। কিন্তু চুন তৈরির কাঁচামাল, শামুকের দাম বৃদ্ধি এবং লোকসানের মুখে এখন এ শিল্প বিলুপ্তির পথে। এ ছাড়া পাথর থেকে চুন তৈরি হওয়ায় যাঁরা শামুক থেকে চুন তৈরি করতেন কালের পরিবর্তনে এখন বাপ-দাদার এ পেশা থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা।

সরেজমিনে চন্দনাইশ উপজেলার চাগাচর ও সাতকানিয়া উপজেলার বাদ্যখালী এবং মৈশামুড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গুটিকয়েক পরিবার শামুক চুন শিল্পটি টিকিয়ে রেখেছে। চুনশিল্পে জড়িত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শত বছর আগ থেকে চুনশিল্প জীবিকা নির্বাহের একমাত্র পেশা হিসাবে বেছে নিয়েছিলেন তাঁদের পূর্বপুরুষরা। কিন্তু বর্তমানে পান খেতে ব্যবহার করা হচ্ছে পাথর থেকে তৈরি চুন। বর্তমানে এই পেশায় ৫-১০টি পরিবার ছাড়া আর কেউ জড়িত নেই।

মৈশামুড়া এলাকার গ্রাম পুলিশ মোহাম্মদ আলী জানান, একসময় চুনশিল্পের প্রধান উপাদান শামুক ছিল সহজলভ্য। সেই সময়ে চুন ব্যবসায়ীরা শঙ্খ নদ থেকে নৌকাযোগে শামুক এই গ্রামে দিয়ে যেতেন। শামুক থেকে চুন তৈরির পর তা বিক্রি করে শামুক বেপারীকে বকেয়া পরিশোধ করলে হতো। এখন আর সেই দিন নেই।

খাগরিয়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য হালিমা আকতার জানান, বর্তমানে পোলট্রি ফিড এবং মাছের খাদ্য হিসেবে শামুক ব্যবহার করা হচ্ছে। এখন বেপারীরা ট্রাক নিয়ে গিয়ে শামুক কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। যে কারণে দিনের পর দিন শামুকের দাম বেড়েই চলছে। এখন শামুক চুন ব্যবসায়ীদের কক্সবাজার, টেকনাফ, মহিশখালী, কুতুবদিয়া ও মখনামা থেকে চড়া মূল্যে শামুক কিনে আনতে হয়। আগে এক বস্তা শামুক মাত্র ১০০ টাকায় পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা বস্তা শামুক কিনতে হয়। তিনি আরো জানান, উচ্চমূল্যে শামুক কিনতে হলেও সেই হারে চুনের দাম বাড়েনি। ফলে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের লোকসানের পাল্লা ভারী হচ্ছে। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণির অসাধু লোক পাথর চুন গলিয়ে শামুক চুন হিসেবে সস্তায় বাজারে বিক্রি করছে। ফলে প্রকৃত শামুক চুন শিল্প পিছিয়ে পড়েছে।

খাগরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আকতার হোসেন জানান, ঐতিহ্যবাহী এই শামুক চুন টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও বিনা সুদে ব্যাংক ঋণ সুবিধাসহ অন্যান্য সার্বিক সহযোগিতা। শামুক চুনের পরিবর্তে বর্তমানে পানে ব্যবহার করা হচ্ছে পাথর চুন। ফলে মানুষের লিভারে বা দেহে পাথর চুন জমে পাথরসহ নানাবিধ রোগব্যাধি দেখা দিচ্ছে। তিনি আরো জানান, এই শিল্প বর্তমানে বিলুপ্তির পথে। এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে তাই সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা