kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৪ রবিউস সানি     

সীতাকুণ্ডের সিলিমপুর সিডিএ সড়ক তিন যুগ ধরে বেহাল

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

১২ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সীতাকুণ্ডের সিলিমপুর সিডিএ সড়ক তিন যুগ ধরে বেহাল

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন সীতাকুণ্ডের অভিজাত সিলিমপুর সিডিএ সড়কটি সংস্কার হয়নি তিন যুগেও। এতে ওই সড়কটিজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দকের। ফলে সড়কটিতে প্রায়ই ছোট বড় অসংখ্য দুর্ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়া সড়কটির কিছু স্থানের অবস্থা এতটাই খারাপ যে পায়ে হেঁটে চলাচল করাও সম্ভব নয়। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারি ও জঙ্গল ভাটিয়ারি মৌজায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) সিলিমপুর আবাসিক প্রকল্প অবস্থিত। ১৯৬০-৬১ এবং ১৯৮০-৮১ সালে দুই দফায় সিলিমপুর প্রকল্পের জন্য ১৯৬ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এ প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ দেওয়া শুরু হয় আশির দশকে। দুই দফায় প্রায় এক হাজার ২০০ প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। এরপর ২০১৩ সালে আরো ৭০টি প্লট বাড়ানো হয়। কিন্তু আবাসিক এ এলাকায় প্লট বাড়লেও বাড়েনি কোনো সুযোগ-সুবিধা। এমনকি এই এলাকার কয়েক হাজার বাসিন্দার চলাচলের একমাত্র সড়কটি অসংখ্য খানাখন্দে জর্জরিত হয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ তিন যুগেও সড়কটি সংস্কারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে সড়কটি পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, মহাসড়ক থেকে সিডিএর ভেতরে যাওয়ার ৩০ ফুট চওড়া ও এক কিলোমিটার দৈর্ঘ্যে সড়কটি খানাখন্দকে ভরা। এতে ওই রাস্তাটি দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যান চলাচল করছে বিভিন্ন যানবাহন।

স্থানীয় জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম বলেন, ‘সড়কটির দুর্দশা ও বেহাল অবস্থার কারণে সমস্যায় পড়তে হয় নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিদের। আর একটু বৃষ্টি হলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।’ সিলিমপুর আবাসিক এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সড়কটি নিয়ে কারো মাথাব্যথা নেই। যত ভোগান্তি চলাচলকারীদের। অথচ এই সড়ক দিয়ে স্কুল-কলেজ-মাদরাসার শিক্ষার্থীসহ ট্রেনযাত্রীরা স্টেশনে আসা-যাওয়া করে।’ তিনি আরো বলেন, ‘এ সড়কটি সংস্কারের দাবি নিয়ে আমরা বহুবার সিডিএর সাবেক চেয়ারম্যানের কাছে ধরনা দিয়েও কোনো সুফল পাইনি। বর্তমান সিডিএ চেয়ারম্যানের কাছেও আমরা আবেদন করেছি। তিনি এটি পরিদর্শনের পর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু এখনো পরিদর্শন করেননি।’

সিলিমপুর সিডিএ আবাসিক এলাকা কল্যাণ সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আরজু খান বলেন, ‘আশির দশকে প্লট বরাদ্দ দেওয়ার পর রাস্তা নির্মাণ করা হয়। কিন্তু রাস্তাগুলো বেহাল হয়ে পড়ে। আমরা সমিতির পক্ষ থেকে বারবার রাস্তাটি সংস্কার দাবি জানালেও কোনো প্রতিকার হয়নি।’ তিনি আরো বলেন, ‘রাস্তায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় সন্ধ্যা হলেই খানাখন্দে যানবাহন পড়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। তাই রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজন।’

এদিকে এসব বিষয়ে জানতে সিডিএ চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এ সময় তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমাকে স্থানীয় আবাসিক এলাকার বসবাসকারীরা জানিয়েছে। বর্তমানে ওই প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) ছুটিতে আছেন। তিনি ছুটি শেষে অফিসে এলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা