kalerkantho

সোমবার । ২১ অক্টোবর ২০১৯। ৫ কাতির্ক ১৪২৬। ২১ সফর ১৪৪১                       

চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়ক

যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, দুর্ভোগ

সৌমিত্র চক্রবর্তী, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)   

১১ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, দুর্ভোগ

মহাসড়কের সীতাকুণ্ডের কুমিরা দক্ষিণ বাইপাস এলাকা গতকাল বিকেলে। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘মহাসড়কের যেখানে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকে বড় বড় ট্রাক-লরি। এতে যান চলাচল ব্যাহত হয়। ঘটে দুর্ঘটনা। ঝরে যায় তাজা প্রাণ।’ চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং প্রসঙ্গে এভাবে প্রতিক্রিয়া জানালেন সীতাকুণ্ডের টেরিয়াইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রতন চক্রবর্তী।

মহাসড়কের বড় দারোগারহাট থেকে চট্টগ্রামে যাওয়ার পথে অনেক স্থানে যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকে। এর মধ্যে কুমিরা বাইপাস, কুমিরা বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় গেট এলাকায়, টোবাকো গেট, সলিমপুর ফকিরহাট, পাক্কা রাস্তা মাথাসহ অন্তত ১০টি স্থানে প্রতিদিন অসংখ্য মালবাহী ট্রাক, লরি, কাভার্ড ভ্যান ইত্যাদি দাঁড়িয়ে থাকে। ফলে এসব স্থানে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।

সীতাকুণ্ড থেকে চট্টগ্রামগামী বাস সেইফ লাইনের চালক মো. জনি বলেন, ‘গাড়ি চালাতে গিয়ে চরম অসুবিধার সন্মুখীন হই। শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে মহাসড়কের উপরেই সবসময় ভারি যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকে। এতে মাঝামাঝি সড়কে গাড়ি চালাতে হয়। ফলে অনেক সময় দুর্ঘটনাও ঘটে।’ মহাসড়ক নিরাপদ করতে এসব অবৈধ পার্কিং বন্ধ করার জোর দাবি জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার সীতাকুণ্ড সদর থেকে সিটি গেট এলাকায় দেখা যায়, বেশ কিছু স্থানে মহাসড়কের উপর সারি সারি যানবাহন দাঁড়িয়ে আছে। কুমিরা দক্ষিণ বাইপাসের পর থেকে কুমিরা আবাসিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে পর্যন্ত যত্রতত্র ভারি গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। একই অবস্থা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় গেটেও। সলিমপুর পাক্কা রাস্তার মাথা এলাকায় অনেক গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। ফলে যান চলাচল ব্যাহত হয়। সন্ধ্যার পর মহাসড়কে এত বেশি অবৈধ পার্কিং ও যানজট থাকে যে, দূরপাল্লার সব গাড়িকে গতি কমিয়ে চলতে হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, ওই রুটে প্রতিদিন গড়ে ৩৫-৪০ হাজার গাড়ি চলাচল করে। বিকেলের দিকে বন্দর থেকে ঢাকা অভিমুখে হাজারো পণ্যবাহী গাড়ি যায়।

মাদামবিবিরহাটের বাসিন্দা মো. ইকরাম আলী বলেন, ‘পার্কিংয়ের জন্য ট্রাক-লরি থেকে টাকা নেয় পুলিশ।’

জানতে চাইলে বারআউলিয়া হাইওয়ে থানার ওসির দায়িত্বে থাকা উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরাও এসব অবৈধ পার্কিং নিয়ে উদ্বিগ্ন। গত সপ্তাহে অবৈধ পাকিং সংক্রান্ত যানজট দূর করতে যানবাহন মালিক ও শিল্পকারখানা কর্তৃপক্ষকে নিয়ে সভা করেছি।’

‘তাঁরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, কারখানার সামনের মহাসড়ক বা গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কোনো যানবাহন রাখবেন না। কিন্তু এখনো প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়নি। যদি তাঁরা নিজ দায়িত্বে পার্কিং বন্ধ না করেন তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’-যোগ করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা