kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

পরিত্যক্ত ভবনে বসবাস, দুর্ঘটনার শঙ্কা

বোয়ালখালীতে ইউএনওসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঝুঁকিতে

কাজী আয়েশা ফারজানা, বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম)   

১০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পরিত্যক্ত ভবনে বসবাস, দুর্ঘটনার শঙ্কা

বাসা সংস্কার করে থাকছেন বোয়ালখালীর ইউএনও। ছবি : কালের কণ্ঠ

বিপদের  ঝুঁকি  নিয়ে পরিত্যক্ত  ভবনে  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ অনেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী সপরিবারে বসবাস করছেন। উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ চারটি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাওয়ায় ২০১৭ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

বোয়ালখালী ইউএনওর বাসভবন বিহঙ্গ, ১ নম্বর জোড়াবাড়ি ভবন ছায়াবীথি, ২ নম্বর জোড়াবাড়ি ভবন ছায়া কুঞ্জ, ৩ নম্বর জোড়াবাড়ি ভবন ছায়ানীড়সহ সরকারি চারটি দ্বিতল বাসভবনের এখন করুণ অবস্থা। এসব ভবনের ১৪টি ফ্ল্যাটে বসবাস করছে অর্ধশতাধিক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী।

জানা গেছে, ১৯৬৫ সালে পটিয়া মহকুমার আওতায় তৎকালীন থানা সার্কেলে কর্মকর্তার জন্য বর্তমান ইউএনওর বাসভবনটি নির্মাণ করা হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ভবনটি পাকিস্তানিরা টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহার করে। ওই ভবনে বাঙালিদের ওপর বর্বর নির্যাতন করে গণহত্যা চালায় হানাদার বাহিনী। এটিকে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি হিসেবে সংরক্ষণ করার দাবি ছিল দীর্ঘদিনের।

স্বাধীনতা পরবর্তীতে থানা নির্বাহীর বাসভবন হিসেবে এটি ব্যবহার হয়ে আসছে। ১৯৮০ সালে এরশাদ সরকার ক্ষমতায় আসার পর উপজেলা হলে আরো বেশ কয়েকটি বাসভবন নির্মাণ করা হয়। ১৯৮৩ সালে বোয়ালখালীকে উপজেলা ঘোষণা করা হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার জন্য গড়ে তোলা হয় ছায়াবীথি, ছায়াকুঞ্জ ও ছায়ানীড় ভবন। দীর্ঘ কয়েক যুগ পার হয়ে যাওয়ায় ভবনগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে বাসযোগ্যতা হারিয়েছে অনেকদিন আগে। তারপরও এসব  ভবনে সপরিবারে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চারটি ভবনকে ২০১৭ সালের পরিত্যক্ত ঘোষণা করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। ওই বছরের ৮ নভেম্বর সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জেলা কনডেমশন কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের আলোকে বোয়ালখালী উপজেলা পরিষদের পুরাতন ভবনগুলো কনডেম ঘোষণা করায় তিন লক্ষ ছাব্বিশ হাজার তেতাল্লিশ টাকা প্রাক্কলিত মূল্যে সর্বোচ্চ দর নিশ্চিত করে বিদ্যমান বিধি বিধান অনুসরণপূর্বক নিলামে বিক্রির প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়। এর ২৩ মাসেও বাস্তবায়ন হয়নি ওই নির্দেশ। ইউএনওর নামে বাসা বরাদ্দ না থাকলেও তিনি পরিত্যক্ত ভবনেই বসবাস করছেন। পরিত্যক্ত ভবনে গ্যাস, পানি বিদ্যুৎ সংযোগ থাকার নিয়ম না থাকলেও এখানে সব ধরনের সংযোগ রয়েছে। এর ওপর ওই ভবনের গ্যাস বিল, পানির বিল ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ হচ্ছে উপজেলা পরিষদের তহবিল থেকে। বোয়ালখালী পৌরসভা এসব ভবনের ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের দাবিকৃত ২ লক্ষ ৩১ হাজার ২১০ টাকা পৌরকর বঞ্চিত হয়েছে বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনগুলোর বাইরে ও ভেতরের দেয়ালের অনেক স্থানে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। দরজা-জানালা-সিঁড়ি ভেঙে গেছে। ছাদের পলেস্তরা খসে লোহার রড বেরিয়ে গেছে। এক কর্মচারী বলেন, ‘বৃষ্টি এলে ভবনের ভেতর পানি পড়ে। আসবাব ও বিছানাপত্র পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিতে হয়। দুর্যোগ হলে তো বিপদ বেশি।’

উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এস এম সেলিম বলেন, ‘ভবনগুলোর এমন বেহাল দশা যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুঘর্টনা ঘটতে পারে। কিন্তু দুর্ঘটনার দায় কে নেবে? ভবনগুলো পরিত্যক্ত ঘোষণার পরও এখানে লোকজন বসবাস করছেন। ভবনগুলোর বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল ও পানির বিল বছরের পর পরিষদের তহবিল থেকে পরিশোধ করা হচ্ছে। বিষয়টি আমি সমন্বয় সভায় তুলে ধরলেও এর কোনো জবাব উপজেলা প্রশাসন দেয়নি। বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন সংশ্লিষ্টরা।’

চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ ব্যবস্থাপক রফিকুল আজাদ বলেন, ‘বিষয়টি কেউ জানাননি।’ তবে তিনি  ইউএনওর সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।

এ ব্যাপারে কথা বলতে বাসা বরাদ্দ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল আলমকে ফোন করা হলে তিনি পরিষদের সভায় আছেন বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

ইউএনও আছিয়া খাতুন বলেন, ‘নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।’

বাসা বরাদ্দ কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা প্রকৌশলী ম. বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘এভাবে পরিত্যক্ত ভবনে বসবাস করা যায় না।’ তিনি বোয়ালখালীতে সদ্য যোগদান করেছেন জানিয়ে এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা