kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

আইনমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন আজ

৩১ এজলাসের আদালত ভবন নোয়াখালীতে

নির্মাণে খরচ হয়েছে ৬১ কোটি টাকা

সামসুল হাসান মীরন, নোয়াখালী   

১০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৩১ এজলাসের আদালত ভবন নোয়াখালীতে

নোয়াখালীতে নবনির্মিত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন। ছবি : কালের কণ্ঠ

নোয়াখালী জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র মাইজদী সার্কিট হাউস সড়কে নবনির্মিত দৃষ্টিনন্দন ১০তলা বিশিষ্ট চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের উদ্বোধন করা হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার। দুপুর ১২টায়  আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক এটি উদ্বোধন করবেন। ভবনটি নির্মাণের ফলে নোয়াখালী জেলা শহরের সৌন্দর্য বহুগুণ বেড়ে গেছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। গণপূর্ত বিভাগ নোয়াখালীর তত্ত্বাবধানে ওই প্রকল্পে প্রায় ৬১ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে।

ভবন নির্মাণের প্রকল্প পরিচালক আমিনুর রহমান জানান, ভবনটি ১২তলা নির্মাণের কথা থাকলেও বর্তমানে ১০তলা পর্যন্ত এর কাজ সম্পন্ন করে আইন, বিচার ও সংসদ মন্ত্রণালয়ের নিকট বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভবনের মোট আয়তন ১ লাখ ৬৬ হাজার ৫২৫ বর্গফুট। এখানে ভবন নির্মাণে ১০তলা পর্যন্ত ব্যয় করা হয়েছে ৬০ কোটি ৯২ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রূপালী জিএম সন্স কনসোর্টিয়াম এ ভবনের কাঠামোগত নির্মাণে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা এবং লিফটসহ অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জায় বাকি টাকা ব্যয় করা হয়। এটি নোয়াখালী জেলা শহরে এ যাবত কালের একমাত্র সুউচ্চ সরকারি ভবন। সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর উদ্যোগে জেলা শহরে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে।

২০১২ সালে সরকারের তৎকালীন আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এটি ২০১৫ সাল পর্যন্ত পাঁচতলার কাজ করা হয়। ওই বছর সরকার এটি ১০তলা পর্যন্ত সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর চলতি বছর এ ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ভবনের ১ম তলায় ১৭ হাজার ৩১৪ বর্গফুটের ভবনে মালখানা, হিসাব শাখা, স্টোর রুম, পিপি/এপিপি কক্ষ, হাজতখানা (পুরুষ মহিলা), নামাজ ঘর, কোর্ট পুলিশ কক্ষ ও নকল শাখা রয়েছে। ২য় তলায় ১৬ হাজার ৫৭৯ বর্গফুটে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-এজলাস, অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-এজলাস, কনফারেন্স কক্ষ, লাইব্রেরি ও স্টেনো কক্ষ রয়েছে। ৩য় তলায় ১৬ হাজার ৫৭৯ বর্গফুটে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৪, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৫ ও কোর্ট পুলিশ কক্ষ রয়েছে। ৪র্থ তলায় ১৬ হাজার ৫৭৯ বর্গফুটে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৬,

সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৭, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (বিদ্যুৎ আদালত) ও জেলা লিগ্যাল এইড অফিস রয়েছে। ৫ম তলায় ১৬ হাজার ৫৭৯ বর্গফুটে নেজারত শাখাসহ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ৪টি থাকবে। ৬ষ্ঠ তলায় এজলাসসহ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ২টি এবং রেকর্ড রুম, ৭ম তলায় এজলাসসহ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ৪টি থাকবে। ৮ম থেকে ১০তলা পর্যন্ত প্রতিটি তলায় ৪টি করে এজলাস থাকবে। এ ছাড়া এখানে ৩টি লিফট, ৬৩০ কেভিএ সাব স্টেশন, ১৫০ কেভিএ জেনারেটরসহ অন্যান্য সুবিধা রয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অন্যতম পরিচালক মো. ইসমাইল জানান, বৃহত্তর নোয়াখালীতে দেখার মতো এ আদালত নির্মাণ করা হয়েছে। এর স্থাপত্য ও নির্মাণশৈলী খুবই নান্দনিক। ভবনটি নির্মাণের ফলে একদিকে দীর্ঘদিন থেকে বিচারপ্রার্থীরা সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবেন অন্যদিকে এর সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।

জানতে চাইলে নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী কামরুল হাসান বলেন, ‘এটি নির্মাণের ফলে নোয়াখালী জেলা শহরে সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে। এ ভবনে সব ধরনের আধুনিক সেবা পাবেন বিচারক ও বিচারপ্রার্থীরা। আমরা এ ভবন নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পেরে নিজেদের ধন্য মনে করছি।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা