kalerkantho

রবিবার । ২০ অক্টোবর ২০১৯। ৪ কাতির্ক ১৪২৬। ২০ সফর ১৪৪১                

প্রতিমা বিসর্জন

পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে পূজার্থীর ঢল

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে পূজার্থীর ঢল

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা প্রতিমা নিরঞ্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। গতকাল বিকেলে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত। ছবি : কালের কণ্ঠ

শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল বন্দর নগরের পতেঙ্গা সৈকত এলাকা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর থেকে প্রতিমাবাহী ট্রাক, পিকআপ ও ভ্যান গাড়িগুলো রওনা হয় সমুদ্রসৈকতের দিকে। দুর্গতিনাশিনী দেবী ‘মা দুর্গা’কে বিদায় জানাতে আসেন নানা বয়সী, বিভিন্ন শ্রেণি, পেশার মানুষ ও ভক্তরা। বিকেল নাগাদ কানায় কানায় ভরে যায় পুরো সৈকত এলাকা। ভক্তরা ঢোলের বোল, ঢাকের বাদ্য আর আবীর-সিঁদুরের খেলায় মেতে ওঠেন উৎসবে। মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় প্রতিমা নিরঞ্জন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

এবার চট্টগ্রাম জেলার ১৫ উপজেলায় এবার এক হাজার ৮৭৪টি এবং মহানগরের ১৬টি থানা এলাকায় ২৭০টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি শ্যামল কুমার পালিত জানান, জেলা ও নগরের বিভিন্ন মণ্ডপ থেকে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে এসে মা দুর্গাকে বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। নগরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে নানা সংগঠনের ব্যানারে ট্রাকে প্রতিমা নিয়ে এসে পুণ্যার্থীরা একে একে বিসর্জন দেন। পাশাপাশি শঙ্খ ও উলুধ্বনি দিয়ে মা দুর্গাকে বিদায় জানান লাখো ভক্ত।

তিনি বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রতিমা নিরঞ্জনের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। র‌্যাব, কোস্টগার্ড, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।’

মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদার বলেন, এবার নগরে ২৭০টি মণ্ডপে পূজা হয়েছে। এর মধ্যে পতেঙ্গা সৈকতে ১২০-১৩০টি প্রতিমা বিসর্জন হয়। এর বাইরে ফিরিঙ্গিবাজারের অভয়মিত্র ঘাটে, কাট্টলী সৈকতে, পাহাড়তলীর বিভিন্ন পুকুর-দীঘিতে, কালুরঘাটে কর্ণফুলী নদীতে প্রতিমা বিসর্জন হয়।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন জানান, প্রতিমা বিসর্জনের জন্য ঢাক-ঢোল ও নানান বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে, নেচে গেয়ে নগরের ৪১ ওয়ার্ড থেকে পুণ্যার্থীরা নগরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে ট্রাক নিয়ে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে আসেন মা দুর্গাকে বিদায় জানাতে। দুপুর ১২টা থেকে প্রতিমা বিসর্জন শুরু হয়। যা চলে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।

এদিকে জেলার হাটহাজারীর ফতেয়াবাদে ছিল প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ। দুপুরের পর থেকে ফতেয়াবাদের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে দুর্গা প্রতিমা নিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে বিকেলে ফতেয়াবাদ পল্লী সংগঠন মাঠে এলাকার সব পূজামণ্ডপ থেকে দুর্গা প্রতিমা নিয়ে হাজির হলে মিলনমেলায় পরিণত হয় এলাকাটি। সন্ধ্যার পর সেখান থেকে স্ব স্ব মণ্ডপে প্রতিমা নিয়ে গিয়ে স্থানীয় পুকুরে বিসর্জন দেওয়া হয়। এর আগে সকালে প্রত্যেক পূজামণ্ডপে বিজয়া দশমীর অঞ্জলি গ্রহণ করেন ভক্তরা। এ সময় দেশ-জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।

এ ছাড়া কর্ণফুলী নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট কালুরঘাট, অভয়মিত্রঘাট, গঙ্গাবাড়ি, কাট্টলীর রাসমনিঘাট, জেলার মন্দাকিনিসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।

মাতামুহুরী নদীর তীরে সম্প্রীতির মিলনমেলা

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি জানান : উপজেলার চিরিঙ্গায় মাতামুহুরী নদীর তীরে প্রতিবছরের মতো মঙ্গলবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানে ঢল নেমেছিল মানুষের। বসেছিল সম্প্রীতির মিলনমেলা। দুপুর থেকে ছিল সঙ্গীতানুষ্ঠান।

ফ্রেন্ডস ক্লাবের আয়োজনে বিকেলে প্রণব দাশের সভাপতিত্বে ও সুনিল নাথের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী। প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলম।

বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান, জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার কাজী মো. মতিউল ইসলাম, থানার ওসি মো. বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এ কে এম সফিকুল আলম চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান মকছুদুল হক ছুট্টু ও জেসমিন হক জেসি, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুর রশীদ দুলাল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, জেলা পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম লিটু, পৌর প্যানেল চেয়ারম্যান বশিরুল আইয়ুব প্রমুখ।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা