kalerkantho

সোমবার । ২১ অক্টোবর ২০১৯। ৫ কাতির্ক ১৪২৬। ২১ সফর ১৪৪১                       

উপকূলে ইলিশবাহী নৌকার দীর্ঘ সারি আড়তে ব্যস্ততা

প্রজনন মৌসুম নিরাপদ রাখতে নদী ও সাগরে ২২ দিন মাছ ধরা বন্ধ

শিমুল নজরুল, চট্টগ্রাম   

৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



উপকূলে ইলিশবাহী নৌকার দীর্ঘ সারি আড়তে ব্যস্ততা

ইলিশের প্রজনন মৌসুমকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রাখতে দেশের বিভিন্ন নদ-নদী ও সাগরে মাছ শিকার নিষিদ্ধ করেছে মৎস্য অধিদপ্তর। মঙ্গলবার মধ্যরাত ১২টা থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিন চলবে এই নিষেদ্ধাজ্ঞা। মাছ শিকারের নামে নদী-সাগরে গিয়ে কেউ যাতে ইলিশ ধরতে না পারে, সেজন্য জেলেদের নদী-সাগরে নামতেই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তাই গত কয়েকদিন চট্টগ্রামের ফিশারি ঘাট এবং বাজারগুলোতে ইলিশের সমাগম ছিল বেশি। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাগর থেকে ইলিশ বোঝাই শতাধিক ফিশিংবোট ফিরেছে চট্টগ্রাম, আনোয়ারা, বাঁশখালী ও সীতাকুণ্ড উপকূলে।

মৎস্য কর্মকর্তারা জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও আশ্বিনের পূর্ণিমা লক্ষ্য রেখে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এ সময়ে দেশে ইলিশ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন ও মজুত পুরোপুরি নিষিদ্ধ থাকবে। গতকাল মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে মৎস্য অধিদপ্তর কোস্টগার্ড, নৌপুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম সামুদ্রিক মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক ড. শরীফ উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিগত বছরগুলোর অভিজ্ঞতা অনুযায়ী দেখা যায়, আশ্বিনের পূর্ণিমার আগে ও পরে অধিকাংশ ইলিশ ডিম ছাড়ে। তাই এই সময়টাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মৎস্য অধিদপ্তর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই সময়টুকু  নিষেধাজ্ঞা পালন করলে দেশের ইলিশের উৎপাদন বাড়বে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে দেখা গেছে সরকারি নিষেধাজ্ঞা পালনের পর জেলেরা অধিক হারে মাছ আহরণ করেছে। পাশাপাশি মাছের আকারও বড় হয়েছে।’

মৎস্য অধিদপ্তরের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০০২ সালে সারাদেশে ইলিশ আহরণ হয়েছিল এক লাখ ৯৮ হাজার মেট্রিক টন। আর সর্বশেষ ২০১৮ সালে ইলিশ ধরা পড়েছে পাঁচ লাখ মেট্রিক টনের বেশি। বছরের বিভিন্ন সময়ে সরকার নির্ধারিত নিষেধাজ্ঞা পালন করলে সাগরে ইলিশের পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি আহরণের পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন মৎস্য কর্মকর্তারা।

মৎস্য কর্মকর্তারা আরো জানান, সাগরে ইলিশ সারা বছর ডিম দিলেও ৭০-৮০ ভাগ ইলিশ ডিম ছাড়ে আশ্বিনের ভরা পূর্ণিমায়। এ সময়ে ডিম ছাড়ার জন্য মা ইলিশ গভীর সাগর ছেড়ে মিঠাপানির নদীতে চলে আসে। চলতি বছর ১৩ অক্টোবর আশ্বিনের পূর্ণিমা। পূর্ণিমার আগে সাগর ছেড়ে নদীতে প্রবেশের সময় এবং পূর্ণিমার পরে নদী ছেড়ে সাগরে চলে যাওয়ার সময় জেলেদের জালে মা ইলিশ ধরা পড়ে। তাই মা ইলিশের আসা-যাওয়া নির্বিঘ্ন করতে পূর্ণিমার আগে চার দিন এবং পরে ১৭ দিন, মোট ২২ দিন ইলিশ নিধনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

মৎস্য বিভাগের গবেষণা অনুযায়ী ইলিশের মূল উৎপাদন কেন্দ্র ছয়টি অভয়াশ্রম হচ্ছে-বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার শাহেরখালী থেকে হাইতকান্দি, দক্ষিণ-পূর্বে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার উত্তর কুতুবদিয়া থেকে গণ্ডামারা পয়েন্ট, উত্তর-পশ্চিমে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার উত্তর তজুমদ্দিন থেকে সৈয়দ আশুলিয়া পয়েন্ট, দক্ষিণ পশ্চিমে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী পয়েন্ট এবং বরিশালের আড়িয়ালখাঁ, নয়াভাঙ্গুনী ও কীর্তনখোলার আংশিক।

ইলিশ অভয়শ্রমের বেশির ভাগ চাঁদপুর, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর জেলা সংলগ্ন নদ-নদীগুলো। তাই ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে বরিশাল বিভাগ ও চাঁদপুর জেলাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে মৎস্য অধিদপ্তর।

কর্মকর্তারা আরো জানান, প্রান্তিক পর্যায়ে জেলে, ইলিশের আড়তদার ও জনপ্রতিধিদের নিয়ে দফায় দফায় জনসচেতনতামূলক সভা ও নদী পাহারায় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়াও প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় গঠন করা হয়েছে টাস্কফোর্স।

এদিকে ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞার আগ মুহূর্তে গতকাল মঙ্গলবার সারাদিন সাগর থেকে চট্টগ্রামের ফিশারি ঘাটে ফিরেছে ইলিশ বোঝাই কয়েক শ ফিশিং ট্রলার। মঙ্গলবার ভোরে ফিশারি ঘাটে আড়তদারদের মাঝে সারাদিন ছিল ইলিশ সংরক্ষণের ব্যস্ততা।

২২ দিনে চাল পাবেন চার লক্ষাধিক জেলে : ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা মানার উৎসাহ দিতে জেলে অধ্যুষিত ২২ জেলায় চার লাখ আট হাজার ৭৯ জন কার্ডধারী জেলেকে ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা