kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ কার্তিক ১৪২৭। ২৯ অক্টোবর ২০২০। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

যুক্তিতর্ক শুরু, ঘটনার বিবরণ দিল রাষ্ট্রপক্ষ

প্রতিবাদী নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক ও ফেনী প্রতিনিধি   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



যুক্তিতর্ক শুরু, ঘটনার বিবরণ দিল রাষ্ট্রপক্ষ

ফেনীর আলোচিত মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় গতকাল বুধবার থেকে যুক্তিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রথম দিন ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ আদালতে তুলে ধরেন সরকারি কৌঁসুলি হাফেজ আহাম্মদ। অন্যদিকে আসামি সন্তানসম্ভাবনা কামরুন নাহার মনিকে কারা হাসপাতালে পূর্ণ বিশ্রামে থাকার অনুমতি দিয়েছেন বিচারক।

এদিকে সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে দায়ের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন রাফির মা শিরিন আক্তার ও তাঁর ছোট ভাই রাশেদুল হাসান। গতকাল বুধবার ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে তাঁরা এই সাক্ষ্য দেন। তঁদের জেরা করার পর বিচারক আশ শামস জগলুল হোসেন আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেন।

যুক্তিতর্ক শুরু : আদালত সূত্র জানায়, গত ২৭ জুন থেকে শুরু হওয়া ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রাশিদের আদালতে এ পর্যন্ত ৮৭ জনের সাক্ষ্য ও জেরা হয়েছে। গতকাল থেকে শুরু হয় যুক্তিতর্ক। এদিন আসামি কামরুন নাহার মনি ছাড়া বাকি ১৫ আসামি হাজির ছিলেন।

 

সূত্র জানায়, প্রথম দিন আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে পিপি হাফেজ আহাম্মদ আদালতকে বলেন, এটা একটা পরিকল্পিত ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড। তিনি জানান, সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র দাখিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক ছাত্রীকে যৌনপীড়নের অভিযোগ ওঠে। গত ২৭ মার্চ তিনি মাদরাসার পিয়ন নুরুল আমিনকে দিয়ে নুসরাতকে তাঁর কক্ষে ডেকে পাঠান ও তাঁকে যৌন হয়রানি করেন। এ ঘটনায় তাঁর মা শিরিনা আক্তার মামলা করলে পুলিশ অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে।

পিপি বলেন, ঘটনার পর দুই দিন সোনাগাজীতে অধ্যক্ষের পক্ষে-বিপক্ষে মানববন্ধন, সভা-সমাবেশ হয়। এরপর গত ১ ও ২ এপ্রিল সিরাজের বোন জোহরা বেগম, অনুগত ছাত্র নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, হাফেজ আব্দুল কাদের, ইফতেখার উদ্দিন রানা, জাবেদ হোসেন, সাইফুর রহমান জোবায়ের ফেনী কারাগারে সিরাজের সঙ্গে দেখা করেন। সিরাজ তাঁদের বলেন, নুসরাতের পরিবারকে চাপ দাও মামলা তুলে নিতে। না নিলে নুসরাতকে প্রয়োজনে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করবে এবং ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে প্রচার চালাবে।

পিপি আরো বলেন, কারাগারে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিরাজের সহযোগীরা ৪ এপ্রিল সন্ধ্যার পর মাদরাসার ভেতরে একটি কক্ষে পরিকল্পনা করে এবং সেখানে ‘সিরাজ মুক্তি পরিষদ’ গঠন করে। ওই বৈঠকে ৬ এপ্রিলের ঘটনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং নানা উপকরণ সংগ্রহের জন্য একেকজনকে একেকটি দায়িত্ব দেওয়া হয়। ঘটনার পর গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের মধ্যে ১২ জনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের আলোকে মামলার তদন্ত সংস্থা পিবিআই আদালতে ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দেন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে ফের যুক্তিতর্ক শুরু হবে।

‘রাফিকে জিজ্ঞাসাবাদের আগে আমাকে ওসির কক্ষে ঢুকতে দেওয়া হয়নি’ : সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলার সাক্ষ্য দিতে গতকাল ফেনী থেকে রাফির মা ও ভাই ঢাকা আসেন। দুপুর ২টার পর তাঁরা ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন।

রাফির মা শিরিন আক্তার বলেন, ‘যৌন হয়রানির অভিযোগে মাদরাসা অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে মামলা করতে যাই। এ সময় রাফি আমার সঙ্গে ছিল। রাফিকে ঢুকতে দিলেও আমাকে ওসি মোয়াজ্জেমের কক্ষে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।’ রাফির মা বলেন, ‘দীর্ঘ সময় পর নুসরাত ওসির কক্ষ থেকে বের হয়ে আসার পর আমাকে সে জানায়, তার নিকাব খুলে ওসি বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। ওসির জিজ্ঞাসাবাদের ভাষা ছিল খারাপ। নুসরাতের কথাবার্তা ওসি মোয়াজ্জেম ভিডিও করেন।’

রাফির মা ট্রাইব্যুনালকে বলেন, মাদরাসার ছাদে রাফির শরীরে অধ্যক্ষের নির্দেশে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার আধাঘণ্টার মধ্যে ওসি ওই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।

রাফির ভাই রাশেদুল হাসানও একই ধরনের বক্তব্য দেন। পরে দুজনকে জেরা করেন ওসি মোয়াজ্জেমের আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ। গত ১৭ জুলাই মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

 

 

 

 

মন্তব্য