kalerkantho

গ্রীষ্মকালীন শিম চাষ জনপ্রিয় হচ্ছে

ভালো ফলন আর ন্যায্য দাম পেয়ে খুশি সীতাকুণ্ডের চাষিরা

সৌমিত্র চক্রবর্তী, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গ্রীষ্মকালীন শিম চাষ জনপ্রিয় হচ্ছে

সীতাকুণ্ডে গত এক বছরে গ্রীষ্মকালীন শিম চাষ বেড়েছে দ্বিগুণ। ছবি : কালের কণ্ঠ

গ্রীষ্মকালীন শিম চাষ দিন দিন বাড়ছে। কৃষকরা লাভবান হওয়ায় গত এক বছরে সীতাকুণ্ডে শিম চাষ বেড়েছে দ্বিগুণ। একই হারে বেড়েছে চাষির সংখ্যাও। এতে উচ্ছ্বসিত কৃষক-কৃষি বিভাগ। শিম চাষ স্থানীয় কৃষিকে আরো বেশি সমৃদ্ধ করছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শিম চাষে সীতাকুণ্ডের ঐতিহ্য দীর্ঘকালের। তবে এখানে বরাবরই শীতকালীন শিম চাষ হত। কিন্তু এখানে শীতের মতো গ্রীষ্ম কিংবা বর্ষার মৌসুমেও যে শিম চাষ সম্ভব তা কৃষি বিভাগের মাধ্যমে এলাকার কৃষকরা জেনেছে ২০১০ সালে। ওই সময় কৃষি বিভাগ পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকজন কৃষককে গ্রীষ্মকালীন শিমের বীজ দেয়। তাঁরা কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী চাষাবাদ করে সাফল্য পেলে উৎসাহ বাড়তে থাকে। এভাবে গতবছর অর্থাৎ ২০১৮ সালে এখানে ১০৫ জন কৃষক শিম চাষ করেন ১৫ হেক্টর জমিতে। এতে কৃষকদের লাভ দেখে এ বছর ২৪৫ জন কৃষক চাষ করেছেন ৩০ হেক্টর অর্থাৎ ৭৫ একর জমিতে।

উপজেলার উপ-কৃষি ও উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র নাথ জানান, এখানে শীতকালে বিভিন্নরকম শিম চাষ হলেও গ্রীষ্মকালের জন্য উপযুক্ত হচ্ছে রূপবান জাতের শিম। এই শিম গ্রীষ্ম ও বর্ষার আবহাওয়া সহিষ্ণু। মূলত এই শিম চাষে এখানে সফলতা এসেছে। বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এসব শিম চাষ হলেও সবচেয়ে বেশি চাষ হচ্ছে বারৈয়াঢালা ইউনিয়নে। এ ছাড়া পৌরসদর, মুরাদপুরসহ অন্যান্য স্থানেও কমবেশি চাষ হচ্ছে গ্রীষ্মকালীন শিম।

পরিদর্শনকালে বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের টেরিয়াইল ব্লকে প্রচুর শিম দেখা গেছে। স্থানীয় কৃষক মো. রবিউল হোসেন বলেন, ‘কৃষি অফিসের পরামর্শে প্রথম গ্রীষ্মকালীন রূপবান শিম চাষ শুরু করেছিলাম। সফলতা আসায় এখন চাষ বাড়িয়েছি। এবার ৮০ শতক জমিতে চাষ করেছি। প্রথম দিকে ১২০ টাকা কেজি শিম বিক্রি করেছি। এখনো ৮০/৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আশ্বিন মাস পর্যন্ত শিম বিক্রি হবে।’ এবার আড়াই লক্ষ টাকার শিম বিক্রি করতে পারবেন বলে ধারণা করছেন তিনি।

একই ব্লকের কৃষক মো. নুরনবী বলেন, ’৩০ শতক জমিতে গ্রীষ্মকালীন রূপবান শিমের আবাদ করেছি। বীজ, বাঁশের কঞ্চি ও শ্রমিক মজুরিসহ খরচ হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে ৫০ হাজার টাকার শিম বিক্রি হয়েছে।’

সব ঠিক থাকলে ৮০/৯০ হাজার টাকার শিম বিক্রি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা পিপাস কান্তি চৌধুরী বলেন, ‘আগে এখানকার উঁচু জমিগুলোতে কৃষকরা ধানসহ নানারকম সবজির আবাদ করতেন। আমাদের পরামর্শে বর্তমানে এ জমিগুলোতে তাঁরা লাভজনক সবজি গ্রীষ্মকালীন রূপবান শিমের আবাদ করেছেন। ভালো চাষের জন্য সবসময় পরামর্শ দিয়ে থাকি। এ ব্লকে ১০ হেক্টর জমিতে প্রায় ১০০ কৃষক গ্রীষ্মকালীন শিম চাষ করেছেন। সবার ক্ষেতে ভালো ফলন হয়েছে। তাঁরা দামও পেয়েছেন বেশ ভালো।’ ফলে আগামীবার চাষ আরো বাড়বে বলে ধারণা করছেন তিনি।

সীতাকুণ্ড উপজেলা কৃষি অফিসার মো. সাফকাত রিয়াদ বলেন, ‘২০১০ সালে বগুড়া থেকে এখানে আনা গ্রীষ্মকালীন রূপবান শিমের চাষ শুরু হয়েছিল। সফলতা আসায় এর পর থেকে প্রতিবছর চাষ পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। এবার এখন কৃষকের সংখ্যা ২৪৫ জন। আমরা হেক্টরপ্রতি ৪০০ মেট্রিক টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। সর্বত্র ভালো ফলন হয়েছে। কৃষকরা দামও পাচ্ছেন ভালো। আর এখন পর্যন্ত শিমে রোগ বালাই দেখা যায়নি।’

ভবিষ্যতে গ্রীষ্মকালীন শিম চাষ আরো বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

মন্তব্য