kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

দুই কিশোরসহ গ্রেপ্তার ৩

নগরে ভিড়ের মধ্যেও ছুরি দেখিয়ে ছিনতাই

নোয়াখালীতে পাঁচ ডাকাত গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী প্রতিনিধি   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নগরের কোতোয়ালী থানা পুলিশ ছিনতাইয়ের অভিযোগে দুই কিশোরসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এসব কিশোর যানজটের সময় লোকের ভিড়ে এমনভাবে ছিনতাই করে, যাতে পাশের কেউ বুঝতেই পারেন না! এরা টার্গেটকৃত ব্যক্তির গা ঘেঁষে দাঁড়ায় এবং এরই মধ্যে একজন ছুরি দেখিয়ে ছিনতাই করে। এই কৌশল নিয়ে ছিনতাই করতে গিয়েও অবশ্য শেষ রক্ষা হয়নি ওদের।

শনিবার রাতে কোতোয়ালী থানার স্টেশন রোডে ছিনতাইয়ের পর এরা ধরা পড়ে। গ্রেপ্তারকৃতরা হল জয় বড়ুয়া (১৭), মো. রবিউল (১৭) ও মো. রফিক (২৩)।

কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মহসিন জানান, শনিবার রাতে মোটরসাইকেল আরোহী প্রবাল রক্ষিত স্টেশন রোড অতিক্রম করছিলেন। পথিমধ্যে যানজটে পড়লে জয় ও রবিউল দুইপাশ থেকে প্রবাল রক্ষিতের গা ঘেঁষে দাঁড়ায়। পরক্ষণে প্রবালের শরীরে ছুরি ঠেকিয়ে মোবাইল ফোনসেট কেড়ে নেয়। ছিনতাইয়ের পর চলে যাওয়ার সময় প্রবাল রক্ষিতের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দুজনকে ধরে ফেলে। পরে টহল পুলিশ গিয়ে দুজনকে আটক করে।

আটকের পর দুজন জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, তারা ছিনতাইকৃত মোবাইল ফোনসেটটি মো. রফিকের কাছে হস্তান্তর করেছে। এই রফিক স্টেশন রোড এলাকায় মোবাইল ফোনসেটসহ ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী বিক্রি করে। এর পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে রফিককে গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকে ছিনতাইকৃত মোবাইল ফোনসেটটি উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় প্রবাল রক্ষিত বাদী হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তিনজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

নোয়াখালী : সেনবাগের হোমনাবাদ শ্রীপুর গ্রামের চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনার এক মাস চার দিনের মাথায় তথ্য উদঘাটন ও মালামাল জব্দ করেছে পুলিশ। দীর্ঘ চেষ্টার পর মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে সেনবাগ থানা পুলিশ রবিবার ভোরে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় এবং জেলা শহর মাইজদী থেকে দুজনসহ আন্ত:জেলা ডাকাতদলের পাঁচ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করে।

রবিবার দুপুরে সেনবাগ থানার ওসি মিজানুর রহমান তাঁর কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন পিরোজপুর জেলার মটবাড়িয়া থানার চরকখালী গ্রামের জমাদ্দার বাড়ির সেলিম হোসেনের ছেলে মো. রুবেল হোসেন, একই জেলার ভাঙারিয়া থানার পূর্ব ফসারী বুনিয়া গ্রামের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মালাকার বাড়ির মৃত লুৎফুর রহমানের ছেলে ফরিদ উদ্দিন ও একই জেলার মটবাড়িয়া থানার হোগলপাতি গ্রামের তালুকদার বাড়ির মৃত আবদুল খালেকের ছেলে মো. ইদ্রিস, ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার চর চান্দিয়া গ্রামের নুর নবী মাঝি বাড়ির মৃত নুর নবীর ছেলে গোলাম মাওলা প্রকাশ জাহাঙ্গীর ও লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ থানার রোকনপুর গ্রামের চৌধুরী বাড়ির আনোয়ার হোসেনের ছেলে বেলায়েত হোসেন প্রকাশ শাহিন। এঁদের মধ্যে রুবেল হোসেন, ইদ্রিস ও ফরিদ উদ্দিন ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে নোয়াখালীর বিচারিক আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

সেনবাগ থানার ওসি জানান, গত ২ আগস্ট উপজেলার ডমুরুয়া ইউনিয়নের হোমনাবাদ-শ্রীপুর গ্রামের মাস্টার আজিজ আহমেদের বাড়িতে ডাকাতি সংঘটিত হয়। ডাকাতদল ১২টি মোবাইল হ্যান্ডসেট, আট ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ দেড় লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। ঘটনায় পরদিন ডা. শাহবুবুর রহমান সুমন বাদী হয়ে সেনবাগ থানায় ডাকাতির মামলা করেন। মামলা তদন্তের একপর্যায়ে মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে রবিবার ভোরে লুট হওয়া মোবাইল ফোনসেটসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা