kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে চলছে বন্দর সিবিএ

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে চলছে বন্দর সিবিএ

চট্টগ্রাম বন্দরে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের সংগঠন বন্দর কর্মচারী পরিষদের (সিবিএ) নির্বাচিত কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ২৩ আগস্ট। এর একমাস আগে কমিটি বিলুপ্ত করে নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরুর কথা থাকলেও সেটি এখনো করা হয়নি।

অভিযোগ উঠেছে, বর্তমান কমিটির শীর্ষ নেতারা কৌশলে নির্বাচন না দিয়ে ক্ষমতায় থেকে যেতে চাইছেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন বন্দরের নিজস্ব চার হাজার শ্রমিক-কর্মচারী।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্মচারী পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘২০১০ সালে পরিষদ গঠনের পর গত কমিটিই সরাসরি নির্বাচিত। বন্দরের নিজস্ব শ্রমিক-কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়ে ২৫ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি নির্বাচিত করেছিলেন। আমরা চাই সেই নির্বাচনের ধারাবাহিকতা।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের কার্যক্রম একদিনের জন্যও বন্ধ থাকেনি। সিবিএ বন্দর সচল রাখতে সবসময় সোচ্চার ছিল। এখন নির্বাচন না দিলে শ্রম অসন্তোষ দেখা দিতে পারে।’

জানা গেছে, ২০০৭ সালের আগে চট্টগ্রাম বন্দর সিবিএ নির্বাচন মানেই জমজমাট প্রতিযোগিতা। নিজেদের পছন্দের প্রতিনিধিকে নির্বাচিত করে আনার প্রতিযোগিতা ছিল রাজনীতিবিদদের মধ্যে। সেনা সমর্থিত ওয়ান ইলেভেন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের আগে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত, বামপন্থীসহ ৫টি রেজিস্টার্ড সংগঠন ছিল। সেনাবাহিনী নেতৃত্বাধীন সরকার বন্দর সংস্কারের অংশ হিসেবে সব সংগঠন ভেঙে একটি শ্রমিক সংগঠন করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করে। এর পর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ২০১০ সালে একটি মাত্র রেজিস্টার্ড সিবিএ’র অধীনে প্রতিনিধি নির্বাচনের পদ্ধতি চালু হয়। সে সময় সাবেক সিটি মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর দেওয়া কমিটিই সিবিএ হিসেবে রেজিস্ট্রেশন পায়। এর পর ২০১০ সালে কর্মচারী পরিষদের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন ও ওয়াহিদ উল্লাহ সরকার সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন। দুই বছর মেয়াদের কমিটি তখন সাত বছর পার করে দেয়। এর পর শ্রমিকদের আন্দোলন ও চাপের মুখে ২০১৭ সালে সরাসরি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বন্দর কর্মচারী পরিষদ গঠনের পর সেটি ছিল প্রথম সরাসরি নির্বাচন। তখন নির্বাচনে তিনটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।

সেই নির্বাচনে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন সমর্থিত মনছুর-ফখরুল প্যানেল ২৫ পদের মধ্যে সভাপতি, কার্যকরী সভাপতিসহ সবচে গুরুত্বপূর্ণ ১৭টি পদে জয়ী হয়েছিল। আর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন সিকদার-রফিউদ্দিন প্যানেলের রফিউদ্দিন খান ও আরেকজন। এমপি লতিফ সমর্থিত বাদল-সালাউদ্দিন প্যানেল থেকে দুজন নির্বাচিত হন। এ ছাড়া চারজন প্রার্থী স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত হন।

ট্রেড ইউনিয়নের ধারা ২৪ অনুযায়ী, প্রতি দুই বছরের মধ্যে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে কার্যকরী পরিষদ গঠন হবে। নির্বাচন অনুষ্ঠানের ৩০ দিন পূর্বে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন না এমন সদস্য বা নিরপেক্ষ ব্যক্তির সমন্বয়ে একটি নির্বাচন উপপরিষদ গঠিত হবে। পরিষদ নির্বাচনের যাবতীয় প্রক্রিয়া শুরু করবে। এ ছাড়া নির্বাচন অনুষ্ঠানের সাতদিন পূর্বে তারিখ ও স্থান উল্লেখ করে বিভাগীয় শ্রম পরিচালকের দপ্তরে জানাতে হবে। কিন্তু এর কোনো কিছুই করা হয়নি।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের পরিচালক মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দ্রুত নির্বাচন চেয়ে বন্দর কর্মচারী-শ্রমিকদের একটি পক্ষের আবেদন আমি পেয়েছি। বর্তমান সিবিএ এর সময় বাড়ানো বা নির্বাচন পেছানোর কোনো আবেদন আমরা পাইনি। সুতরাং নির্ধারিত সময়েই বন্দর সিবিএ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে; পেছানোর কোনো সুযোগ নেই।’

অভিযোগ উঠেছে, কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিউদ্দিন খানসহ সাত সিবিএ নেতা সেপ্টেম্বর মাসে বন্দরের খরচে একটি প্রকল্পের আওতায় ট্যুরে যাচ্ছেন। সেই ট্যুর বন্দরের অনুমোদন হয়ে এখন নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।

বর্তমান নেতারা চাইছেন, কমিটির দায়িত্বে থাকতেই বিদেশ ট্যুর সম্পন্ন করতে। এজন্যই নির্বাচন দিতে তারা গড়িমসি করছেন। এরইমধ্যে আবার রফিউদ্দিন খান আগামী ২৩ অক্টোবর অবসরে চলে যাবেন; তিনিও চাচ্ছেন চাকরি থাকতেই ট্যুরটা হোক। 

জানতে চাইলে বন্দর কর্মচারী পরিষদ (সিবিএ) সাধারণ সম্পাদক রফিউদ্দিন খানকে ফোন করা হলে তিনি সাড়া না দেওয়ায় বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

পরে সিবিএ সভাপতি আবুল মনছুর আহমদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কমিটির মেয়াদ পার হওয়ার একমাস আগে উপপরিষদ গঠন করার কথা কিন্তু আইএসপিএস টিম থাকায় সেটি আমরা করতে পারিনি। এজন্য আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর কার্যকরী কমিটির সভা ডাকা হয়েছে। সেখানেই চূড়ান্ত হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমি একা নির্বাচন চাইলেই হবে না। কেন্দ্র থেকে সিগন্যাল আসতে হবে। আর এখন যারা নির্বাচনের জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন তারাই বিগত আটবছর নির্বাচনবিহীনভাবে সিবিএতে ক্ষমতায় ছিলেন। তাদের লজ্জা থাকা উচিত। আমরা সেই কাজ করব না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা