kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ডা. প্রণব কুমার চৌধুরীর সম্মাননায় বক্তারা

মধ্যবিত্ত সমাজে সংস্কৃতির চর্চা হারিয়ে গেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান বলেছেন, ‘মধ্যবিত্তের ধরনটা পাল্টে গেছে। আগে মধ্যবিত্ত সমাজে সংস্কৃতির চর্চা ছিল। এখনকার মধ্যবিত্তের কাছে টাকা রোজগারটাই প্রধান কাজ। মানবিকতা কমে গেছে। চোখের সামনে অপরাধ হলেও আমরা না দেখার ভান করি। এ সব কিছুই শিশুর মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বুদ্ধিবৃত্তিক উত্কর্ষ বাধাগ্রস্ত করছে।’

অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান গতকাল শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ও লেখক, কবি ও গীতিকার ডা. প্রণব কুমার চৌধুরীকে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। সমাজবিজ্ঞানী ও চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. অনুপম সেনের সভাপতিত্বে একাডেমি আয়োজিত অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন কবি-প্রাবন্ধিক-সাংবাদিক আবুল মোমেন, চট্টগ্রাম সরকারি চারুকলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক রীতা দত্ত ও আগ্রাবাদ মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ড. আনোয়ারা আলম।

প্রণব কুমারের লেখালেখির প্রশংসা করে অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান বলেন, ‘শিশুদের নিয়ে ডা. প্রণব চৌধুরী যা করেছেন, তা বিস্ময়কর। তিনি শিশুদের নিয়ে ভাবেন, তাদের বোঝার চেষ্টা করেন, শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে নিরলস কাজ করেন। শিশুর মানসিকতা নিয়ে কাজ করা সহজ কাজ না।’

সাফল্য মানুষকে ক্রমেই জনবিচ্ছিন্ন করে দেয় উল্লেখ করে আবুল মোমেন বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে ডা. প্রণব অবশ্যই ব্যতিক্রম। শুধু শিশুস্বাস্থ্য নিয়েই তাঁর ৩০টি কবিতা এবং সাহিত্য নিয়ে আরো ২০টি বই প্রকাশই প্রমাণ করে সফল চিকিৎসক হলেও চেম্বার তাঁকে গিলে ফেলেনি। এত কিছু সামলিয়েও তিনি নিজের জন্য ঠিকই সময় বের করে নিতে পেরেছেন।’

বর্তমান সমাজে শিশুবান্ধব পরিবেশ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখনকার সমাজে গল্প নেই। মা-বাবা সন্তানদের গল্প শোনাতে পারে না, সমাজে গল্পের দীনতা। অথচ গল্প না থাকলে সমাজ সজীব হবে না। শিশুদের চিত্ত বিকশিত হবে না। আমরা শিশুদের মনটা বুঝতে চাইছি না। ডা. প্রণব শিশুর মনোজগতের এমন অনেক কিছুই বইয়ে তুলে ধরেছেন।’

সম্মাননাপ্রাপ্ত লেখক ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী বলেন, ‘শিশুস্বাস্থ্য লেখকের দায়বদ্ধতা অনেক বেশি। শিশুদের নিয়ে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, শিশুদের চোখ যেন মহাসমুদ্র। একেকটি শিশু যেন দেব-দেবী। তারা ঠোঁটে হাসে না, চোখে হাসে। তাদের সেই হাসি আমাকে অনুপ্রাণিত করে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা