kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বাঁশখালীর খানখানাবাদ আইডিয়াল হাই স্কুল

বিদ্যালয় আছে, ভবন নেই জমিতে দখল নেই

বাঁশখালীতে ১৮ বছর ধরে ক্লাস চলে জরাজীর্ণ আশ্রয়কেন্দ্রে
স্কুল ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ সাড়ে তিন কোটি টাকা ফেরত যাওয়ার পথে

উজ্জ্বল বিশ্বাস, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম)   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিদ্যালয় আছে, ভবন নেই জমিতে দখল নেই

এই জরাজীর্ণ ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে অস্থায়ীভাবে চলছে খানখানাবাদ আইডিয়াল হাই স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম। ছবি : কালের কণ্ঠ

বাঁশখালী উপজেলার বঙ্গোপসাগরপারের খানখানাবাদ ইউনিয়নের ২৫ বছর আগের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খানখানাবাদ আইডিয়াল হাই স্কুল। এমপিওভুক্ত এই স্কুলের নিজস্ব জমি আছে, কিন্তু নেই কোনো ঘর বা ভবন। সেই জমিতে চারতলা স্কুল ভবন নির্মাণের জন্য সরকার তিন কোটি ৫২ লাখ টাকা বরাদ্দ দিলেও দুই ব্যক্তির বাধায় সেটি নির্মাণ করতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। ফলে একটি জীর্ণ ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে স্কুলের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে ১৮ বছর ধরে।

গত বৃহস্পতিবার খানখানাবাদ হাই স্কুলে গিয়ে ব্যবস্থাপনা কমিটি, শিক্ষক ও গ্রামবাসীর কাছ থেকে জানা যায়, ১৯৯৪ সালে শিক্ষানুরাগী খানখানাবাদ গ্রামবাসী চাঁদা তুলে এবং ৭৫ শতক জমি দান করে সেখানে বাঁশ ও বেড়া দিয়ে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করে। এ জমি স্কুলের নামে দলিলও হয়। ২০০১ সালে ঘূর্ণিঝড়ে স্কুলঘর ভেঙে গেলে পাশের জরাজীর্ণ ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে স্কুলের কার্যক্রম শুরু হয়। এর পর থেকে খানখানাবাদ গ্রামের মামা-ভাগ্নে ফরিদ আহমদ ও সুলতান এ সবুর স্কুলের জমিতে কোনো ধরনের ঘর বা ভবন নির্মাণ করতে দিচ্ছেন না। ২০০৪ সালে তাঁরা মামলা করে জমিটি দখলের চেষ্টা করেন। তবে ২০১৩ সালে নিম্ন আদালত এবং ২০১৮ সালে হাইকোর্ট স্কুলের পক্ষে রায় দেন। প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে বিষয়টি জানানো হলেও জমিটি উদ্ধারে স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ নেয়নি তারা। বাঁশখালীর সংসদ সদস্য (এমপি) মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী স্কুলটির চারতলা ভবন নির্মাণের জন্য শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছরে তিন কোটি ৫২ লাখ টাকার ভবন বরাদ্দ এনে দিয়েছেন, কিন্তু ভবন নির্মাণ করতে না পারায় সে টাকা ফেরত যাওয়ার পথে। বর্তমানে স্কুলে এমপিওভুক্ত ও নন-এমপিওভুক্ত মিলিয়ে শিক্ষক আছেন ১০ জন। ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ৩৯১।

স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির দাতা সদস্য বাবুদার আলম বলেন, ‘আমিসহ গ্রামের বিভিন্ন ব্যক্তি চাঁদা তুলে জমিদান ও জমি কিনে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করি। ৭৫ শতক জায়গা স্কুলের নামে খতিয়ানভুক্ত দলিল হয়। ওই দলিল দেখে শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্কুলটি এমপিওভুক্ত করে। কিন্তু গ্রামের ফরিদ আহমদ ও সুলতান এ সবুর জায়গাটি দখল করতে নানাভাবে চক্রান্ত করে আসছেন। ফলে জায়গাটিতে কোনো স্থাপনা ও ভবন নির্মাণ সম্ভব হয়নি। তাঁরা মামলাও করেন। আদালত স্কুলের পক্ষে রায় দেন। সম্প্রতি স্কুলের জায়গায় ভবন নির্মাণে উদ্যোগ নিলে তাতেও তাঁরা আপত্তি জানান। আমার দাবি, এলাকার শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে স্কুলের জায়গায় স্কুল ভবন নির্মাণ করা হোক।’

স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এনামুল হক চৌধুরী বলেন, ‘স্কুলের জায়গা নিয়ে অহেতুক বিরোধ ও ভবন নির্মাণে বাধা দেওয়ার ব্যাপারে প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। প্রশাসন সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।’

স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. ইউনুছ বলেন, ‘অস্থায়ী জরাজীর্ণ আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠদান করতে নানামুখী দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। স্কুলের জায়গায় ভবন নির্মাণ হলে স্কুলের পরিবেশ ফিরে আসবে।’

নিজের জায়গা দাবিকারী ফরিদ আহমদ বলেন, ‘আমি জায়গাটি দান করেছিলাম। কিন্তু শর্ত ছিল, জায়গাটিতে স্কুলের কোনো স্থাপনা না হলে জায়গাটি আমি ফিরিয়ে নিতে পারব। ওই জায়গায় আমাদের পারিবারিক কবরস্থান এবং স্কুলের কোনো স্থাপনা নেই। তাই জায়গাটি আমি ফেরত পাব।’

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইসতিয়াক আহমেদ বলেন, ‘স্কুলের জায়গায় নতুন ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ এসেছে। যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে। কারো বাধা স্কুলের উন্নয়নকাজ বন্ধ করতে পারবে না।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার বলেন, ‘স্কুলের বিরোধে জড়িত উভয় পক্ষকে ডাকা হয়েছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষ এলেও সুলতান এ সবুর ও ফরিদ আহমদ আসেননি। যা-ই হোক, স্কুলের জায়গায় স্কুল ভবন হবে। এলাকার শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের পথ কেউ বন্ধ করতে পারবে না।’

সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘উপকূলীয় এলাকার স্কুলটিতে আমি কয়েকবার সভা-সমাবেশ করেছি। স্কুলের কোনো ভবন না থাকার খবর শুনে আমি নিজ উদ্যোগে প্রকৌশল শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে তিন কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি চারতলা ভবনের বরাদ্দ দিই। যে বিরোধই হোক না কেন স্কুলের জায়গায় স্কুল ভবন নির্মাণ হবে। প্রশাসনকে আমি বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার জন্য বলেছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা